ছবি: খবরের কাগজ
মাগুরায় নিজের সদ্যোজাত মেয়েকে স্ত্রীর অজান্তে বিক্রি করে দেওয়ার মতো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ নাটকীয়তা ও প্রতারণার পর, অবশেষে জেলা পুলিশের তৎপরতায় শিশু টুকটুকিকে (১ মাস ২৫ দিন) উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৮টায় এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা।
প্রেস ব্রিফিংয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা সদর থানাধীন বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী এলাকার বাসিন্দা মো. সাগর হোসেন (৩৪) গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে তার স্ত্রী তানজিলা খাতুনের অজান্তে তাদের নবজাতক সন্তানকে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেন। তিনি মাত্র ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকার বিনিময়ে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সন্তানটিকে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর এলাকার দম্পতি মো. শাহাবুর (২৮) ও মনিরা খাতুন (২৫)-এর নিকট হস্তান্তর করেন।
সন্তানকে না পেয়ে মা তানজিলা খাতুন ব্যাকুল হয়ে খোঁজ করতে থাকলে, অভিযুক্ত পিতা সাগর হোসেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এক অবিশ্বাস্য নাটকের আশ্রয় নেন। তিনি স্ত্রীকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা তথ্য ছড়ান যে, শিশুটিকে 'জ্বীনে' নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, জ্বীনের মাধ্যমেই সন্তানকে ফিরিয়ে আনা হবে—এমন ভুঁয়া আশ্বাস দিয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই মাস অতিবাহিত করেন।
পরবর্তীতে এ ঘটনাটি মাগুরা জেলা পুলিশের নজরে আসলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শুভংকর রায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রকাশ্যে ও গোপনে নিবিড় তদন্ত শুরু করে।
ধারাবাহিক তদন্ত, উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আজ দুপুরে পুলিশ শিশুটির ক্রেতা শাহাবুর ও মনিরা খাতুনের বাড়ি থেকে শিশু টুকটুকিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবুঝ শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, এ জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কাসেমুর রহমান/নাঈম