ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২ সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু

গাংনীতে চুরির অভিযোগে যুবককে হত্যা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:০৬ এএম
গাংনীতে চুরির অভিযোগে যুবককে হত্যা
ট্রাকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারপিটে মারা যান অভিযুক্ত চোর। ছবি: খবরের কাগজ

মেহেরপুরের গাংনীর বামন্দীতে একটি টায়ারের দোকানে চুরির অভিযোগে এক যুবককে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্তব্ধ হয়েছে সভ্য সমাজ। অপরাধীকে শাস্তি দিতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অমানবিক ও নৃশংসভাবে হত্যাও বেআইনি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। 

মঙ্গলবার (২ জুন) হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার হলেও পাঁচ মিনিটের জায়গায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় নেয়। চোর আটকের পর বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও নীরব ভূমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে।

সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হয়ত প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে চুরির অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার সুযোগ তৈরি হতো।

বামন্দীর খোকন টায়ার হাউসের পরিচালক বাদল আলী বলেন, ওই চোরকে আমার দোকানের কর্মচারী ধরার পরই পুলিশকে বাজার কমিটির সভাপতির ছোটোভাই ফোন দিয়েছিল কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি। তাই চোরকে জামান ফিলিং স্টেশনের মধ্যে রাখা হয়।

বামন্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ক্যাম্পের দূরত্ব পাঁচ মিনিট হলেও তারা এসেছে ৪-৫ ঘণ্টা পর। এটি পুলিশের দায়িত্বের চরম অবহেলার প্রমাণ দেয়। হয়ত পুলিশ আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটতো না এবং চোরের সঙ্গে জড়িত আরও ৪-৫ জন সদস্য ও পুরো নেটওয়ার্ক ধরা যেত। এ ঘটনায় পুলিশ দায়িত্বে চরম গাফিলতির প্রমাণ দিয়েছে।

বামন্দী বাসস্ট্যান্ড বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. কায়কোবাদ বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আনুমানিক সাতটার দিকে বামন্দী ক্যাম্পের পুলিশকে ফোন দিয়ে জানাই। কিন্তু লোকটি মারা যাওয়ার অনেক পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা বাবু বলেন, হয়ত প্রশাসনের প্রতি মানুষ আস্থার জায়গা হারিয়েছে, যে কারণে আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। তবে নিঃসন্দেহে এটিও মানুষের ভুল সিদ্ধান্ত।

শুরুতে বিষয়টিকে গণধোলাইয়ে মৃত্যু বলা হলেও ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ফুটেজ ও নির্যাতনের সময় মোবাইলে ধারণকৃত এক ব্যক্তির ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হাতেগোনা মাত্র কয়েক জন লোক মিলেই চুরির অভিযোগে আরিফ নামে ওই ব্যক্তিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় একটি ট্রাকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্যাতনের মাত্রা বাড়তেই থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টা ৩৯ মিনিটে বামন্দী বাসস্ট্যান্ড এলাকার খোকন টায়ার হাউসে চুরির উদ্দেশ্যে একটি চোরচক্র হানা দেয়। এ সময় ওই টায়ারের দোকানের তুষার নামক কর্মচারীর হাতে চুরির অভিযোগে আরিফ ধরা পড়ে এবং একটি জিপ গাড়িতে আরও ৪ জন চোর পালিয়ে যায়। পরে তাকে পার্শ্ববর্তী মেসার্স জামান ফিলিং স্টেশনের ভেতর নিয়ে একটি ট্রাকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে একটানা কয়েক ঘণ্টা বেধড়ক মারপিট করা হয়। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে সড়কের পাশে ফেলে পানি ছিটানো হয়। মারা যাওয়ার পর বেশ কয়েকজন মিলে সড়কের পাশে একটু দূরে তাকে ফেলে রাখে।

চুরির অভিযোগে নিহত আরিফ হোসেন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ধোলাঝাড় গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে বলে নিশ্চিত করে পুলিশ। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার (৩ জুন) গাংনী থানায় নিহত আরিফের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

নিহত আরিফের স্ত্রী তাম্মি খাতুন বলেন, আমার স্বামীকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠিন বিচার চাই।

খবর পাওয়ার পরও পুলিশ না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ ঘটনায় তার যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও অনুরোধ জানান।

ঘটনার পরপরই পুলিশকে জানানো হলেও পুলিশ না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, খবর পাওয়ার পর পুলিশ কেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি এবং এই বিলম্বের পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তারেক হোসেন/নাঈম

মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা
ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরায় নিজের সদ্যোজাত মেয়েকে স্ত্রীর অজান্তে বিক্রি করে দেওয়ার মতো এক  চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ নাটকীয়তা ও প্রতারণার পর, অবশেষে জেলা পুলিশের তৎপরতায় শিশু টুকটুকিকে (১ মাস ২৫ দিন) উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৮টায় এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা।

প্রেস ব্রিফিংয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা সদর থানাধীন বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী এলাকার বাসিন্দা মো. সাগর হোসেন (৩৪) গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে তার স্ত্রী তানজিলা খাতুনের অজান্তে তাদের নবজাতক সন্তানকে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেন। তিনি মাত্র ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকার বিনিময়ে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সন্তানটিকে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর এলাকার দম্পতি মো. শাহাবুর (২৮) ও মনিরা খাতুন (২৫)-এর নিকট হস্তান্তর করেন।  

সন্তানকে না পেয়ে মা তানজিলা খাতুন ব্যাকুল হয়ে খোঁজ করতে থাকলে, অভিযুক্ত পিতা সাগর হোসেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এক অবিশ্বাস্য নাটকের আশ্রয় নেন। তিনি স্ত্রীকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা তথ্য ছড়ান যে, শিশুটিকে 'জ্বীনে' নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, জ্বীনের মাধ্যমেই সন্তানকে ফিরিয়ে আনা হবে—এমন ভুঁয়া আশ্বাস দিয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই মাস অতিবাহিত করেন।  

পরবর্তীতে এ ঘটনাটি মাগুরা জেলা পুলিশের নজরে আসলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শুভংকর রায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রকাশ্যে ও গোপনে নিবিড় তদন্ত শুরু করে। 

ধারাবাহিক তদন্ত, উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আজ দুপুরে পুলিশ শিশুটির ক্রেতা শাহাবুর ও মনিরা খাতুনের বাড়ি থেকে শিশু টুকটুকিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবুঝ শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, এ জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

কাসেমুর রহমান/নাঈম

টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার হওয়া হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্য। ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রেমের প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে যুবকদের মারধর এবং টাকা আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন টঙ্গীর মুদাফা এলাকার কনসেপ্ট গার্মেন্টস সংলগ্ন একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলায় ভুক্তভোগী সালেহীন মিয়া (২৮) ও তার বন্ধু টিটু মিয়াকে এক নারী সদস্যের মাধ্যমে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ৭৬ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয় হানি ট্রাপ চক্র।

এর আগে টঙ্গী পশ্চিম থানায় পেনাল কোডে মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে এসআই এসএম মেহেদী হাসান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সঙ্গীয় ফোর্সের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ সদস্যের হানি ট্র্যাপ চক্রের মধ্যে দুই নারী ও এক পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য এবং এর আগেও তারা একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। হানি ট্র্যাপসহ যেকোনো ধরনের প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণামূলক ফাঁদ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কোনো সন্দেহজনক ঘটনার শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি।

পলাশ প্রধান/নাঈম

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি
ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মিন্টু গাজীকে (৪৫) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। তাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১২টার দিকে পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক মিন্টু গাজী দুর্গাপুর এলাকার খালেক গাজীর ছেলে ও সম্পর্কে শিশুটির সৎবাবা।

পুলিশ ও ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকার মিন্টু গাজী বুধবার রাত ১২টার দিকে সৎমেয়েকে (১২) নিয়ে মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দুর্গাপুর রেলষ্টেশনের পাশে নিয়ে তাকে যৌন হয়রানি করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে আটক করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালের বারান্দায় পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সদর থানার ভরাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ’এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

​শরিফুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত জায়হান স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র ছেলে। সে এলাকার একটি নূরানি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের বসতঘরের পেছনের অংশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের সড়কে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় জায়হান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, হয়তো সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি পটিয়া থানাকে অবহিত করে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শাহজাহানের ঘরে একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ চিঠিটি জব্দ করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

স্বজনদের দাবি, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। তাদের অভিযোগ, সন্দেহভাজনরা পুরো সময়জুড়ে পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে গেছে।

পটিয়া থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত থাকার সন্দেহে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাফিউল আলভী/খাদিজা রুমি/

লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে সোহেল মুন্সী (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত সোহেল বুধবার রাতে রাতে খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সন্তান নিয়ে পাশের ঘরে শ্বাশুড়ির সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন তার স্ত্রী নুপুর। গভীর রাতে বাড়ির ওঠানে আগুন দেখতে পেয়ে সোহেলের স্ত্রী ও মা ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে দেখেন ওঠানে সোহেলের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন জলছে। কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর হত্যা করে।

বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে ভোরে পুলিশ গিয়ে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর-সিরাজদিখান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান জানান, গভীর রাতে ঘর থেকে বের করে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঈনুদ্দীন সুমন/খাদিজা রুমি/