ঢাকা ১১ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ২৬ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার বিশ্বকাপে নতুন মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে নেইমার জীবনে আর কিছু চাওয়ার নেই: মেসি ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দুই নারীকে কারাদণ্ড শনিবার পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাবে বিশাল গ্রহাণু, দেখা যাবে দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে কারা জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের ওপর আসামির হামলা লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখ হারালেন আইনজীবী জামালপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু অনলাইন জুয়া এখন ফৌজদারি অপরাধ: অর্থমন্ত্রী ‘আওয়ামী লীগ পালাতে পেরেছে, বিএনপি-জামায়াত যাবে কই’ কুমিল্লায় সোনার বাংলা ট্রেনের ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের ৪ বগি লাইনচ্যুত বেলকুচিতে টিফিনের পাউরুটি খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাবিতে বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি কসম ভঙ্গ করার পর শুধু মুখে দুঃখিত বলা কি যথেষ্ট? ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার ঋণ নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: যুবদল নেতা জিয়া তিন বছরের ভিক্ষার সঞ্চয় লুট, নিঃস্ব বৃদ্ধ নূর আলম পার্শ্ববর্তী দেশের বৈষম্যে আমাদের দেশের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ ছয় মাসে শেষ হবে: সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এনসিসি ব্যাংক এর ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ৩ শিশুসহ ৯ জনের সীমান্তে মানবেতর জীবন ভোলার আদালতের এজলাসে বাদীর বিষপান আমাকে কখনোই জোর করে এসব করতে বাধ্য করা হয়নি: তামান্না প্রকাশ রাজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কৃষি বিপণন কৃষকদের দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া উচিত জামালপুরে অটোরিকশা চালককে হত্যা, গ্রেপ্তার ৬ গ্রামীণফোনের কাছেই সর্বোচ্চ বকেয়া, মোট পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা: টেলিযোগাযোগমন্ত্রী

সঞ্চয়পত্রের প্রভাব শেয়ারবাজারে

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
সঞ্চয়পত্রের প্রভাব শেয়ারবাজারে

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর ঘোষণা আসার পর শেয়ারবাজারে টানা দুই কার্যদিবস বড় উত্থান দেখা যায়। তবে পরে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় শেয়ারবাজারে ফের দরপতন শুরু হয়। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতিও।

আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার শেয়ারবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী বিনিয়োগ মাধ্যম। যখন সঞ্চয়পত্রে উচ্চ মুনাফা থাকে, তখন ঝুঁকিহীন আয়ের লোভে বড় একটি অংশের বিনিয়োগ শেয়ারবাজারের বাইরে চলে যায়। ফলে শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট তৈরি হয় এবং সূচক ও লেনদেন চাপে পড়ে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লিখিয়েছে। এতে ডিএসইতে কমেছে মূল্যসূচক। তবে সিএসইতে সূচক বেড়েছে। তবে দুই বাজারেই কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

গত ৩১ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করে সরকার। স্কিমের ধরন অনুযায়ী মুনাফার হার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয় ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ১ শতাংশের বেশি কমানো হয়।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর পর নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। সেই সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় পর ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে উঠে আসে। কিন্তু গত রবিবর বিকেলের দিকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকার। এতে গতকাল সোমবার এসে শেয়ারবাজারে ফের দরপতন হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এদিন শেয়ারবাজার ছিল বেশ অস্থির। অস্থিরতার মধ্য দিয়েই লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে। কিন্তু এরপর লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম কমার তালিকা বড় হয়। ফলে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৯টির। আর ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮০টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৪৫টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৪টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৮৬ পয়েন্টে নেমেছে।

শেয়ারবাজারের এই দরপতনের বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর কারণে শেয়ারবাজারে দুই দিন ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। কিন্তু সরকার মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। যার কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়েছে। তবে এ প্রভাব সাময়িক হবে বলে মনে হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন দরপতনের মধ্যে থাকায় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম এখন তলানিতে রয়েছে।’

এদিকে প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৮৫ কোটি ৮১ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৩৭ কোটি ৪১ টাকা। লেনদেন কমেছে ৫১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ২২ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার। ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালেক স্পিনিং।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে– সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হান কটন, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও রহিমা ফুড।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৬টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার ঋণ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার ঋণ
বিশ্বব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

দেশের নড়বড়ে ব্যাংক খাত সংস্কার ও ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটির বোর্ড সভায় ‘আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প-২ এর আওতায় এই ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিশ্বব্যাংকের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংস্থাটির বোর্ড সভায় এ ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মূলত ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে আমানত বিমা জোরদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়াতে খরচ হবে এ অর্থ।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার ও ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশলেও সহায়তা করবে সংস্থাটি। বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ও মূলধন ঘাটতির যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে একটি কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে এ প্রকল্পে।

বিশ্বব্যাংক মনে করে, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে স্থিতিশীল ব্যাংক খাতই হবে প্রধান চালিকাশক্তি।

এসএন/

২৪ জুন: সিঙ্গাপুর ডলার ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
২৪ জুন: সিঙ্গাপুর ডলার ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     139.70 139.72 -0.58
ব্রিটেন পাউন্ড     162.06 162.09 -0.59
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     84.86 84.93 -1.04
জাপানি ইয়েন 0.7596 0.7597 -0.0002
কানাডিয়ান ডলার 86.35 86.40 -0.31
সুইস ক্রোনা 12.60 12.61 -0.16
সিঙ্গাপুর ডলার 94.64 94.70 +0.24
চায়না ইউয়ান     18.06 18.06 -0.05
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2956 1.2957 -0.0008
সৌদি রিয়াল 32.58 32.89  
আরব আমিরাত দিরহাম 33.32 33.60  

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

রিফাত/

স্বর্ণের দাম আবার ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
স্বর্ণের দাম আবার ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা
ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত দামে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকায়।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।

এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম কমায় এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

আজ সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। 

রিফাত/

পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যকরণে রপ্তানি বাড়বে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যকরণে রপ্তানি বাড়বে
ছবি: খবরের কাগজ

চীন শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গেও দেশটির বহুমুখী বাণিজ্য রয়েছে। তবে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলেছে। ঘাটতি কমাতে চীন থেকে আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা ঘাটতি কমাতে এ দেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর কথাও বলেছেন।
 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের চীন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, রপ্তানিকারক, প্রবাসী বাংলাদেশি, অর্থনীতির বিশ্লেষকসহ অনেকে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হলে চীনে রপ্তানি বাড়াতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। 

অর্থনীতির এই বিশ্লেষক আরও বলেন, মনে রাখতে হবে, চীনের বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়াতে হলে পণ্যের গুণগতমান, পণ্য বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ বাড়াতে হবে। বিশ্ববাণিজ্যে শীর্ষ এই দেশটির সঙ্গেও বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যথেষ্ট কঠিন। 

চীন সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে চীন ৯৮ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। এই সুবিধার আওতায় চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, পাটজাত দ্রব্য, ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্লাস্টিক পণ্য চীনে রপ্তানির পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। বিশেষ করে চামড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস, সোলার প্যানেল, এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো উচ্চ-মূল্যের পণ্যগুলোতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে উৎপাদিত পণ্য চীনে রপ্তানি করে ঘাটতি কমানো সম্ভব। 

বিডার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চীন সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিডার কাছে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে চীনে বাংলাদেশি পণ্য বিক্রির জন্য ৩০টি নির্দিষ্ট আউটলেট দিতে হবে। যেখানে শুধু বাংলাদেশি পণ্য থাকবে। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে ২০টি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট করতে হবে। সেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শিল্পের যন্ত্রাংশ তৈরি করবে। চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমাদের দেশে পরিবেশবান্ধবভাবে কয়লা উৎপাদন করতে হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত সুতা, কাপড়, রাসায়নিক পদার্থ, যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতির বড় অংশ আসে চীন থেকে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পেও চীনা যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে চীন থেকে আমদানি ১৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। 

ব্যবসায়ী এই নেতা এই বিশাল ঘাটতি কমাতে চীনের বাজারে যথাযথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, চীনে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি (আম, কাঁঠাল, জাম) কৃষি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং আইসিটি সেবার রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশে কাঁচামাল, সেমি ফিনিশড ও ফিনিশড পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমদানিনির্ভরতা কমে। চীনের সঙ্গে আরও বেশি ম্যাচমেকিং, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ এবং প্রাদেশিক বাজারভিত্তিক রপ্তানি কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া চীনের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি এবং মানসম্পর্কিত বাধা দূর করতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। সর্বোপরি, চীনের বাজারে আমাদের পণ্য বাড়ানোর উপায় স্বল্প মূল্যে অধিক মানসম্পন্ন মূল্যসংযোজনভিত্তিক পণ্য রপ্তানি করা। 

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সম্পর্ককে আমদানিকেন্দ্রিক কাঠামো থেকে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের পাশাপাশি চাহিদাভিত্তিক পণ্যের অংশীদারত্বে রূপান্তর করাই হবে দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খবরের কাগজকে বলেন, দেশ থেকে রপ্তানি করা অনেক পণ্যই আন্তর্জাতিক মানের না। এসব চীনের বাজারে সুবিধা করতে পারে না। রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের মান বাড়াতে হবে। 

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর সাবেক মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘চীনে আমাদের রপ্তানি বাড়াতে হলে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের বৈচিত্র্য, বিপণন নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। আর এর জন্য গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের দেশের শিল্প খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা কাঠিয়ে উঠতে হবে।’

বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড
ছবি: সংগৃীহত

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই (জুলাই-মে) বিদেশি ঋণ পাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ভাটা পড়েছে। ভারত, জাপান, রাশিয়া ও এআইআইবির কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। এ সময় ঋণ এবং অনুদানও কম পাওয়া গেছে। তবে এই সময়ে বিদেশি ঋণের সুদ, আসলসহ ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। যা বিদেশি ঋণ শোধে নতুন রেকর্ড। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ১১ মাসে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ঋণ দাতাসংস্থা ও দেশকে ৪১৩ কোটি ২৩ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে আসল ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলার ও সুদ ১৪৫ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। আগের নেওয়া ঋণের বিপরীতে এই অর্থ পরিশোধ করতে হয়। টাকার হিসাবে ওই সময়ে ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা শোধ করতে হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে তা পরিশোধ করতে হয়েছিল ২৭৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। 

গত জুলাই-মে সময়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ ও অনুদান পেয়েছে প্রায় ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৪১৪ কোটি ডলার ঋণ এবং ৪৩ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। গত ১১ মাসে সর্বোচ্চ ঋণ পাওয়া গেছে বিশ্বব্যাংকের কাছে। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া ৯৩ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭৮ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। গত বছরের ১১ মাসে তাদের কাছে ঋণ ও অনুদান পাওয়া গিয়েছিল ৪২২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, একই ধারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হলে এ বছর বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ সাড়ে ৪ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেট সহায়তা হিসেবেও অর্থ নেয়। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেয়। এভাবে ঋণ ও অনুদান পাওয়া যায়।