মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে বৈশ্বিক বাণিজ্যে। তেল সরবরাহ ও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে খরচ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকরা কতটা ঝুঁকিতে আছেন, বাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে–এসব বিষয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফারুক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার ফারুক আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজের নিজস্ব প্রতিবেদক তারেক মাহমুদ।
খবরের কাগজ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে আপনার আমদানীকৃত পণ্যের শিপমেন্ট বা সরবরাহে কোনো বিলম্ব হচ্ছে কি?
ফারুক আহমেদ: ডিপি ওয়ার্ল্ড জাবেল আলী পোর্ট বন্ধ করার পর শিপমেন্ট এর ব্যাপারে কোনো আপডেট পাওয়া যাচ্ছে না। পোর্ট অপারেশন চালু হলে হয়তো শিপমেন্ট শিডিউল পাব। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সব বন্দরের শিপমেন্ট বিলম্ব হবে। কতটা বিলম্ব হবে সেটি এখনো বোঝা যাচ্ছে না।
খবরের কাগজ: তেলের দাম বৃদ্ধি বা ফ্রেইট চার্জ বাড়লে আমদানি ব্যয় কতটা বাড়বে?
ফারুক আহমেদ: তেলের দাম বৃদ্ধি বা ফ্রেইট চার্জ বাড়লে আমদানি ব্যয় অবশ্যই বাড়বে। সে ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
খবরের কাগজ: ডলারসংকট বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে কি?
ফারুক আহমেদ: এখন পর্যন্ত এলসি খোলার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখছি না। তবে বর্তমানে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘদিন চললে হয়তো ডলারসংকট দেখা দিতে পারে। তখন এলসি খোলার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
খবরের কাগজ: স্ট্রেইট অব হরমুজ বা মধ্যপ্রাচ্য রুটে অস্থিরতার কারণে বিকল্প শিপিং রুট ব্যবহারের প্রয়োজন হচ্ছে কি? এতে অতিরিক্ত কতটা খরচ পড়ছে? কতদিন বাড়তি সময় লাগবে পণ্য আনতে?
ফারুক আহমেদ: স্ট্রেইট অব হরমুজ বা মধ্যপ্রাচ্য রুটে সবাই এখন ওয়েট অ্যান্ড সি পজিশনে (পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা) আছে। পরিস্থিতি বেশি প্রতিকূলে চলে গেলে তখন বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এতে করে অতিরিক্ত খরচ বাড়বে। পণ্য পরিবহনের সময়ও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ দিন বেশি লাগবে।
খবরের কাগজ: কাঁচামাল বা ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি পেলে বাজারে পণ্যের দামে প্রভাব পড়বে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। সরকারের কাছে আপনার পরামর্শ কী?
ফারুক আহমেদ: আমদানি ব্যয় বাড়লে পণ্যের দামও বাড়বে। এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু দিন শেষে এর চাপ সাধারণ মানুষের ওপর গিয়ে পড়বে। তাই এ বিষয়ে সরকারকে একটু কৌশলী হয়ে দূরদর্শী চিন্তা করতে হবে।
খবরের কাগজ: ব্যাংকিং চ্যানেল বা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থায় কোনো ঝুঁকি বা অনিশ্চয়তা তৈরি হবে কি?
ফারুক আহমেদ: না। ব্যাংকিং চ্যানেল বা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেমে কোনো সমস্যা হবে বলে আমার মনে হয় না।
খবরের কাগজ: এই পরিস্থিতিতে ব্যবসার মুনাফা ও নগদপ্রবাহ কতটা চাপে পড়বে?
ফারুক আহমেদ: এমতাবস্তায় মুনাফা থেকে যেসব ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) আটকে আছে, প্রথমে এসব থেকে কীভাবে বের হওয়া যায় সেদিকে বেশি খেয়াল রাখতে হবে। অন্যথায় ব্যবসার নগদ প্রবাহ অনেক কমে যাবে।
খবরের কাগজ: সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে আপনি কী ধরনের নীতিগত সহায়তা আশা করছেন?
ফারুক আহমেদ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দায়িত্ব নিয়ে যুগপোযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।