রমজান মাসের শুরুতে বেগুন, শসা, লেবুসহ অনেক সবজির দাম বেড়ে যায়। ঈদ ঘনিয়ে আসায় এসব সবজির দাম কিছুটা কমলেও এখনো তা সাধারণ মানুষের নাগালে আসেনি। মুরগির দামও বেশি। কমেনি কলা, আপেল, কমলা ও খেজুরের দাম। সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের মতোই অধিকাংশ দোকানে রমজানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী লেবু, বেগুন, শসা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, খেজুর, ছোলা, চিনির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। তার পরও দাম তেমন কমেনি। ২২ রমজান চলে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি থাকায় ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে অনেকেই গ্রামের বাড়ি যেতে শুরু করেছেন। তার পরও বাজারে চড়া পণ্যের দাম।
বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, ২০ থেকে ২৫ দিনের ব্যবধানে রমজানের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। হাইব্রিড শসা ও ক্ষীরার দাম আগের তুলনায় কমে কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, দেশি শসা ১০০, বেগুন ৭০ থেকে ১০০, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০, টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও লেবুর হালি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করা হয়। অন্য সবজিও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. জয় ও হাতিরপুল বাজারের অপুসহ অন্যরা জানান, করলার কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পটোল ৮০ থেকে ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ থেকে ১২০, গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এবারও রমজানের শুরুতে সব ধরনের ফলের দাম বেড়ে যায়। ২২ রমজান চলে গেলেও তেমন কমেনি দাম। খুচরা বিক্রেতারা জানান, রমজানের শুরুতে দাম বেড়ে যায়। বর্তমানে আপেল ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা, মালটা ৩০০, কমলা ৩২০ থেকে ৩৩০, সবুজ আঙুর ৪০০ ও কালো আঙুরের কেজি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়। খেজুরের দাম এখনো কমেনি। আগের মতোই জাহিদি খেজুরের কেজি ২৬০ টাকা, বরই খেজুর ৫০০ থেকে ৫৫০, দাবাস ৬০০, সুক্কারি ৭০০ থেকে ৮০০, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০, আজোয়া ১ হাজার ২০০ ও মেডজুল খেজুর ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলার ডজনও ১৫০ থেকে ১৮০ টাকার কমে মেলে না।
মুরগির দাম চড়া
রমজান মাস শুরু হলে অন্য পণ্যের মতো ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে যায়। প্রথম রমজানে ব্রয়লার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি ও সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হয়। গত সপ্তাহে মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমে। তবে গতকাল আবার বেড়ে যায়। হাতিরপুল বাজারের মুরগি বিক্রেতা রুহুল আমিন, টাউন হল বাজারের সোনালি ব্রয়লার হাউজের স্বত্বাধিকারী শাকিলসহ অন্য বিক্রেতারা খবরের কাগজকে জানান, রমজানের শুরুর দিকে মুরগির দাম বাড়ে। মাঝে কমে। গতকাল আবার বেড়ে যায়। সরবরাহ কমে গেছে। গতকাল ব্রয়লার মুরগি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ ও দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে গরু ও খাসির মাংস আগের মতোই যথাক্রমে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা ও ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। ডিমের দাম আগে কম থাকলেও গতকাল ডজন ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়।
রমজানকে কেন্দ্র করে মাছের দামও বেড়ে যায়। ২২ রমজানেও কমেনি। রুই ও কাতল মাছের কেজি ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্যান্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রসুনের দামও চড়া
রমজানের শুরুতে আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ২৪০ টাকায় ঠেকে। ২২ রমজান চলে গেলেও কমেনি দাম। তবে আগের মতোই আদার কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হওয়ায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, আলু ২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। রমজানে চালের চাহিদা কম থাকায় দাম বাড়েনি। আগের মতোই মিনিকেট ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত তেল ১৯৫ টাকা লিটার, চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি, ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মসুর ডাল ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।