দেশের নড়বড়ে ব্যাংক খাত সংস্কার ও ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটির বোর্ড সভায় ‘আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প-২ এর আওতায় এই ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিশ্বব্যাংকের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংস্থাটির বোর্ড সভায় এ ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মূলত ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে আমানত বিমা জোরদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়াতে খরচ হবে এ অর্থ।
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার ও ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশলেও সহায়তা করবে সংস্থাটি। বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ও মূলধন ঘাটতির যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে একটি কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে এ প্রকল্পে।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে স্থিতিশীল ব্যাংক খাতই হবে প্রধান চালিকাশক্তি।
এসএন/
দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।
একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।
| মুদ্রা | ক্রয় (টাকা) | বিক্রয় (টাকা) | বাড়ল/কমল |
| ইউএস ডলার | 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) | 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) | -- |
| ইউরো | 139.70 | 139.72 | -0.58 |
| ব্রিটেন পাউন্ড | 162.06 | 162.09 | -0.59 |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | 84.86 | 84.93 | -1.04 |
| জাপানি ইয়েন | 0.7596 | 0.7597 | -0.0002 |
| কানাডিয়ান ডলার | 86.35 | 86.40 | -0.31 |
| সুইস ক্রোনা | 12.60 | 12.61 | -0.16 |
| সিঙ্গাপুর ডলার | 94.64 | 94.70 | +0.24 |
| চায়না ইউয়ান | 18.06 | 18.06 | -0.05 |
| ইন্ডিয়ান রুপি | 1.2956 | 1.2957 | -0.0008 |
| সৌদি রিয়াল | 32.58 | 32.89 | |
| আরব আমিরাত দিরহাম | 33.32 | 33.60 |
সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)
রিফাত/
সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত দামে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকায়।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।
এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম কমায় এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
রিফাত/
চীন শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গেও দেশটির বহুমুখী বাণিজ্য রয়েছে। তবে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলেছে। ঘাটতি কমাতে চীন থেকে আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা ঘাটতি কমাতে এ দেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর কথাও বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের চীন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, রপ্তানিকারক, প্রবাসী বাংলাদেশি, অর্থনীতির বিশ্লেষকসহ অনেকে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হলে চীনে রপ্তানি বাড়াতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে।
অর্থনীতির এই বিশ্লেষক আরও বলেন, মনে রাখতে হবে, চীনের বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়াতে হলে পণ্যের গুণগতমান, পণ্য বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ বাড়াতে হবে। বিশ্ববাণিজ্যে শীর্ষ এই দেশটির সঙ্গেও বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যথেষ্ট কঠিন।
চীন সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে চীন ৯৮ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। এই সুবিধার আওতায় চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, পাটজাত দ্রব্য, ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্লাস্টিক পণ্য চীনে রপ্তানির পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। বিশেষ করে চামড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস, সোলার প্যানেল, এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো উচ্চ-মূল্যের পণ্যগুলোতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে উৎপাদিত পণ্য চীনে রপ্তানি করে ঘাটতি কমানো সম্ভব।
বিডার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চীন সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিডার কাছে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে চীনে বাংলাদেশি পণ্য বিক্রির জন্য ৩০টি নির্দিষ্ট আউটলেট দিতে হবে। যেখানে শুধু বাংলাদেশি পণ্য থাকবে। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে ২০টি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট করতে হবে। সেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শিল্পের যন্ত্রাংশ তৈরি করবে। চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমাদের দেশে পরিবেশবান্ধবভাবে কয়লা উৎপাদন করতে হবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত সুতা, কাপড়, রাসায়নিক পদার্থ, যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতির বড় অংশ আসে চীন থেকে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পেও চীনা যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে চীন থেকে আমদানি ১৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ব্যবসায়ী এই নেতা এই বিশাল ঘাটতি কমাতে চীনের বাজারে যথাযথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, চীনে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি (আম, কাঁঠাল, জাম) কৃষি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং আইসিটি সেবার রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশে কাঁচামাল, সেমি ফিনিশড ও ফিনিশড পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমদানিনির্ভরতা কমে। চীনের সঙ্গে আরও বেশি ম্যাচমেকিং, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ এবং প্রাদেশিক বাজারভিত্তিক রপ্তানি কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া চীনের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি এবং মানসম্পর্কিত বাধা দূর করতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। সর্বোপরি, চীনের বাজারে আমাদের পণ্য বাড়ানোর উপায় স্বল্প মূল্যে অধিক মানসম্পন্ন মূল্যসংযোজনভিত্তিক পণ্য রপ্তানি করা।
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সম্পর্ককে আমদানিকেন্দ্রিক কাঠামো থেকে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের পাশাপাশি চাহিদাভিত্তিক পণ্যের অংশীদারত্বে রূপান্তর করাই হবে দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খবরের কাগজকে বলেন, দেশ থেকে রপ্তানি করা অনেক পণ্যই আন্তর্জাতিক মানের না। এসব চীনের বাজারে সুবিধা করতে পারে না। রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের মান বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর সাবেক মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘চীনে আমাদের রপ্তানি বাড়াতে হলে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের বৈচিত্র্য, বিপণন নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। আর এর জন্য গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের দেশের শিল্প খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা কাঠিয়ে উঠতে হবে।’
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই (জুলাই-মে) বিদেশি ঋণ পাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ভাটা পড়েছে। ভারত, জাপান, রাশিয়া ও এআইআইবির কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। এ সময় ঋণ এবং অনুদানও কম পাওয়া গেছে। তবে এই সময়ে বিদেশি ঋণের সুদ, আসলসহ ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। যা বিদেশি ঋণ শোধে নতুন রেকর্ড। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ১১ মাসে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ঋণ দাতাসংস্থা ও দেশকে ৪১৩ কোটি ২৩ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে আসল ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলার ও সুদ ১৪৫ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। আগের নেওয়া ঋণের বিপরীতে এই অর্থ পরিশোধ করতে হয়। টাকার হিসাবে ওই সময়ে ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা শোধ করতে হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে তা পরিশোধ করতে হয়েছিল ২৭৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।
গত জুলাই-মে সময়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ ও অনুদান পেয়েছে প্রায় ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৪১৪ কোটি ডলার ঋণ এবং ৪৩ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। গত ১১ মাসে সর্বোচ্চ ঋণ পাওয়া গেছে বিশ্বব্যাংকের কাছে। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া ৯৩ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭৮ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। গত বছরের ১১ মাসে তাদের কাছে ঋণ ও অনুদান পাওয়া গিয়েছিল ৪২২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, একই ধারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হলে এ বছর বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ সাড়ে ৪ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেট সহায়তা হিসেবেও অর্থ নেয়। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেয়। এভাবে ঋণ ও অনুদান পাওয়া যায়।