ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পৃথিবীর গঠন অধ্যায়ের ১৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বাংলাদেশে জ্যাক মোটরস-এর একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর র‍্যানকন গ্লোবাল ট্রাকস মানুষ স্বপ্ন দেখে কেন? বিজ্ঞান যা বলছে সারা দেশে হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু বজ্রপাত থেকে বাঁচাতে দৃষ্টান্তমূলক কার্যক্রম নাতির প্রতি নানার অনন্য ভালোবাসা, যুবরাজের মর্যাদায় বাড়ি ফেরা মুখ আড়াল করার নতুন বিতর্ক ও ফিফার নিয়ম বাজারে আসছে ভালভের নতুন স্টিম মেশিন বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, পেমেন্ট ও প্রিপেইড মিটার সমস্যা রাজবাড়ীতে ১ লাখ ৫৪ হাজার শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বাজেট বড় কিন্তু উদ্বেগ কমেনি সাজগোজের অনন্য যাত্রা দেশজুড়ে ওয়ালটন প্লাজায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও সার্বক্ষণিক হটলাইন বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিজেদের উজার করে দিতে হবে: হাইতি কোচ প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং আমাদের প্রত্যাশা ইউনিলিভার বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন চট্টগ্রামে সড়কে মাছ ফেলে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ ইন্টারভিউয়ে যে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন ঘর সাজুক মনের মতো আগে প্লাস্টিকের মতো বাজেট বাড়ানো হতো: শিল্পমন্ত্রী রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়া-ইউনিসেফের চুক্তি পড়ে পাওয়া গল্পের ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারের এক দিন পর যুবলীগ নেতার মৃত্যু মরক্কোর লক্ষ্য গ্রুপ সেরা হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বন্ধুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের দলিল: আলী বাঘেরি গোপালগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ আর্জেন্টিনা শিবিরে মেসির জন্মদিনের গল্প

টিকতে পারছেন না পোলট্রিশিল্পের ক্ষুদ্র খামারিরা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
টিকতে পারছেন না পোলট্রিশিল্পের ক্ষুদ্র খামারিরা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিকস

জীবনের সবটুকু পুঁজি বিনিয়োগ এবং দিন-রাত শ্রম দিয়ে মুরগি লালন-পালন করেও টিকতে পারছেন না ক্ষুদ্র খামারিরা। কারণ পোলট্রিশিল্পের প্রধান উপকরণ মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রক উৎপাদকরা। তাদের সংখ্যা হাতে গোনা। এখানে দেশের লাখো খামারি অসহায়। এই শিল্প এখন দাদন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এতে বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। 

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে পোলট্রি খামারের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, বিশেষ করে প্রান্তিক বা ছোট খামারিরা অস্তিত্ব সংকটে পড়ে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। 

দেশের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম এই খাত এমন কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, খামারিদের লোকসান, ব্যাংকঋণের অভাব, বার্ড ফ্লুসহ অন্যান্য মহামারির ঝুঁকি এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব। 

চট্টগ্রামে দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে চট্টগ্রামে পোলট্রি খামার ব্যবসা করছেন রাজু পোলট্রির রফিকুল ইসলাম। খবরের কাগজকে তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হতো সরকারিভাবে। বাংলাদেশ বিমান তাদের ‘বিমান পোলট্রি কমপ্লেক্স’-এর মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে বাচ্চা উৎপাদন করে বিক্রি করত। তাই দামও কম ছিল। লাভও ভালো ছিল। এখন মুরগির বাচ্চা পর্যাপ্ত, মানুষ খামারও করছেন। কিন্তু ব্যবসাটা ভালো যাচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হলো হ্যাচারির মালিকরা সিন্ডিকেট করে এজেন্টের মাধ্যমে মুরগির বাচ্চা বিক্রি করেন। আবার নিজেরাও বিভিন্ন খামারির কাছে বিক্রি করেন। অনেকটা দাদন ব্যবসার মতো হয়ে গেছে এই খাত। কোম্পানির মালিকরা সংখ্যায় কম, তারা একসঙ্গে বসে বাচ্চার দামসহ যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু হাজারও ডিলারের পক্ষে একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই নিয়ন্ত্রণটা পুরোপুরি কোম্পানিগুলোর হাতে চলে গেছে। 

তিনি জানান, গ্রামেগঞ্জে একসময় ছোট ছোট খামারি ছিলেন। বেকার যুবকরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই চিত্র পাল্টাতে বেশি দিন লাগেনি। ছোট খামারিরা টিকে থাকতে পারছেন না। তিনি বলেন, এবারের ঈদে মানুষ ব্রয়লার মুরগি কিনেছেন কেজি ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকায়। ক্রেতাদের ধারণা খামারিরা ঈদে অনেক টাকা লাভ করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভিন্ন। ঈদের বাজারে যেসব মুরগি আসবে সেই বাচ্চা কিনতে হয়েছে প্রতিটি ৮৫ টাকা করে। ভাবা যায়! ৮৫ টাকায় এক দিন বয়সী একটি বাচ্চা কিনে ওষুধ, খাবার, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ খরচসহ মিলে বিক্রি উপযোগী করতে খরচ পড়ে ২০০ টাকা। যারা ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন তারা লাভবান হয়েছেন। কিন্তু এবার ঈদের চার থেকে পাঁচ দিন পর মুরগির দাম কমে ১৬০ বা ১৭০ টাকায় নেমে আসায় অনেককে লোকসান গুনতে হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক দিন বয়সী একটি বাচ্চা উৎপাদনে খরচ পড়ে ২৭ টাকা থেকে ৩৩ টাকা। তারা স্টাফ বেতন, গাড়ি ভাড়া, অফিস খরচ সব যোগ করে বাচ্চার মূল্য নির্ধারণ করে। তারা ৮৫ টাকায় বিক্রি করলে প্রতিটা ডিমে ৫০ টাকা লাভ করেছেন। অথচ একজন খামারির ১০ টাকা লাভ করতে কষ্ট হয়। 

তিনি জানান, সরকারের উচিত খামারি, ডিলারসহ পোলট্রি খাতে জড়িত সব খাত থেকে প্রতিনিধি নিয়ে বৈঠক করে বাচ্চা ও খাদ্যের দাম নির্ধারণ করা। উৎপাদন খরচ যদি ৩০ টাকা হয় তা ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করুক। সারা বছর এই দামে মুরগির বাচ্চা বিক্রি হবে। 

দেশে মুরগির বাচ্চার চাহিদা সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও উৎপাদকরা বলেন, প্রতি সপ্তাহে বাচ্চা উৎপাদন হয় দেড় কোটি। কোম্পানিগুলো অনেক সময় এক সপ্তাহ বাচ্চার সংকট তৈরি করে পরের সপ্তাহে দাম বাড়িয়ে দেয়। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি শুরু থেকে যাদের খামারি হিসেবে দেখে এসেছেন তাদের মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে নতুন করে কিছু লোক এই এলেও সিন্ডিকেটের মারপ্যাঁচ না বুঝে নিঃস্ব হচ্ছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খামারি খবরের কাগজকে বলেন, বড় কোম্পানিগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিদিন মুঠোফোনে মেসেজ আদান-প্রদান করে বাচ্চার দাম ঠিক করে। এই মেসেজের ওপর নির্ভর করে মুরগির বাজার। বড় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে চায় না। 

অর্ধযুগ ধরে খামারিদের কাছ থেকে মুরগি কিনে দোকানদারের কাছে বিক্রি করেন উত্তর চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী গোলাম কদর আজম। তিনি জানান, ব্যবসার শুরুতে উত্তর চট্টগ্রামের দেড় শতাধিক খামারির কাছ থেকে মুরগি কিনে বিভিন্ন বাজারের মুরগির দোকানে পাইকারি বিক্রি করতেন তিনি। তখন তিনি দিনে প্রায় তিন হাজার মুরগি বিক্রি করতেন। এখন তা কমে এক হাজার থেকে দেড় হাজারে নেমে এসেছে। অন্তত ৪০ শতাংশ খামারি লোকসান দিয়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।

তিনি জানান, যেসব খামারি সিন্ডিকেটের কৌশল ধরতে পারে তারা কোনোভাবে টিকে যায়। যেমন ঈদের পর মুরগির বাচ্চার দাম ধীরে ধীরে কমছে। কারণ এখন খামারে যেসব বাচ্চা তোলা হচ্ছে তার বিক্রি হবে কোরবানির ঈদের সময়। সে সময় মুরগির চাহিদা থাকবে না। কোরবানির কিছুদিন পর যখন আশুরাকে লক্ষ্য রেখে খামারিরা মুরগির বাচ্চা তুলবেন তখন আবার দাম বেড়ে যাবে।

মুরগির চাহিদা হ্রাস-বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুচরা বাজারে মুরগির কেজি ১৪০ টাকা থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে দাম থাকলে চাহিদা প্রচুর বেড়ে যায়। দাম ১৬০ টাকা পার হলেই চাহিদা কমে যায়। বর্তমানে মুরগির বাচ্চার দাম কমে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই পাইকারিতে মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। খুচরায় ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। অর্থাৎ গাড়ি ভাড়াসহ চার ধাপ পেরিয়ে একটি মুরগি ভোক্তার কাছে পৌঁছতে ২০ থেকে ২৫ টাকা দাম বেড়ে যায়। কয়েক দিন আগে মুরগির ফিড বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) দাম ছিল ৩ হাজার ২৫৫ টাকা। গত ১ এপ্রিল বস্তায় ১২৫ টাকা বেড়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্যারাগনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ খবরের কাগজকে বলেন, ‘মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার দাম বাড়লে সবাই বলাবলি করেন। কিন্তু যখন আমরা একটি বাচ্চা চার টাকায়ও বিক্রি করতে পারি না। অনেক সময় বাচ্চা মেরে ফেলতে হয়–তখন সবাই চুপ থাকেন। বাস্তবতা হলো দুটি বিষয় নিয়েই ভাবতে হবে। সঠিকভাবে বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করতে পারে না বলে অনেক সময় খামারে রোগ আসে। তখন খামারিরা আমাদের দায়ী করেন। বাচ্চার দাম বৃদ্ধির কারণে খামারিরা নিঃস্ব হচ্ছেন তা নয়।’ এর জন্য তিনি খামারিদের অসচেতনতাকে দায়ী করেন।

একটি বাচ্চার উৎপাদন খরচ ৩৫ টাকার কমবেশি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, কোম্পানিগুলো কোনো সিন্ডিকেট করে না। বরং অনেক খামারি ডিলারদের কাছ থেকে বাচ্চা, ওষুধ, খাদ্য বাকিতে নিয়ে যান। তারা ওই ডিলারের কাছ মুরগি বিক্রি করতে বাধ্য হন। কেউ যদি নগদ টাকা দিয়ে বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধ কেনেন, সেই খামারি নিজের ইচ্ছেমতো দোকানে মুরগি বিক্রি করতে পারেন। 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক এক মহাপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে খবরের কাগজকে বলেন, দেশের ক্ষুদ্র খামারিরা ঝরে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিত খামার গড়া। দেশে বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করে এমন খামারের সংখ্যা ২০ শতাংশও হবে না। বায়োসিকিউরিটি দুই ধরনের। একটা হলো স্ট্রাকচারাল, অর্থাৎ খামারটির অবকাঠামো এমনভাবে নির্মাণ করা হয় চারদিক থেকে বায়োসিকিউরড। আরেকটি হলো অপারেশনাল, অর্থাৎ ওই খামারে যিনি বা যারা কাজ করবেন তারা খামারে প্রবেশের আগে সব ধরনের জীবাণুমুক্ত হয়ে প্রবেশ করবেন। অথচ দেশের বেশির ভাগ খামার উন্মুক্ত। যে কারণে জীবনের সব পুঁজি বিনিয়োগ করে কোনো খামারি হয়তো এক ব্যাচে লাভবান হন। পরের ব্যাচে মুরগি মারা যায়। অথবা ওজন ঠিকভাবে আসে না। লোকসান গুনতে হয়। এ নিয়ে সরকার, কোম্পানি কিংবা খামারিদের সংগঠকদের কোনো মাথাব্যথা নেই। 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান খবরের কাগজকে বলেন, পোলট্রি খাত স্থিতিশীল না হওয়ার কারণে অনেক সময় ক্ষুদ্র খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে উদ্যোগ নিয়ে কোন মৌসুমে বাচ্চার দাম কত হবে তা ঠিক করে দিতে হবে। দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে যারা বাচ্চা এবং খাদ্য উৎপাদন করে তাদের সঙ্গে বসতে হবে। সঙ্গে খামারিদের প্রতিনিধিও রাখতে হবে। তবেই এই খাত স্থিতিশীল হবে। এখন দেখা যায় একসময় হঠাৎ বাচ্চার দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আবার একদম এমনভাবে কমে যায়, যা কল্পনার বাইরে। এটি কোনোভাবেই সুখকর নয়।

২৪ জুন: সিঙ্গাপুর ডলার ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
২৪ জুন: সিঙ্গাপুর ডলার ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     139.70 139.72 -0.58
ব্রিটেন পাউন্ড     162.06 162.09 -0.59
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     84.86 84.93 -1.04
জাপানি ইয়েন 0.7596 0.7597 -0.0002
কানাডিয়ান ডলার 86.35 86.40 -0.31
সুইস ক্রোনা 12.60 12.61 -0.16
সিঙ্গাপুর ডলার 94.64 94.70 +0.24
চায়না ইউয়ান     18.06 18.06 -0.05
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2956 1.2957 -0.0008
সৌদি রিয়াল 32.58 32.89  
আরব আমিরাত দিরহাম 33.32 33.60  

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

রিফাত/

স্বর্ণের দাম আবার ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
স্বর্ণের দাম আবার ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা
ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত দামে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকায়।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।

এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম কমায় এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

আজ সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। 

রিফাত/

পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যকরণে রপ্তানি বাড়বে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যকরণে রপ্তানি বাড়বে
ছবি: খবরের কাগজ

চীন শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গেও দেশটির বহুমুখী বাণিজ্য রয়েছে। তবে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলেছে। ঘাটতি কমাতে চীন থেকে আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা ঘাটতি কমাতে এ দেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর কথাও বলেছেন।
 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের চীন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, রপ্তানিকারক, প্রবাসী বাংলাদেশি, অর্থনীতির বিশ্লেষকসহ অনেকে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হলে চীনে রপ্তানি বাড়াতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। 

অর্থনীতির এই বিশ্লেষক আরও বলেন, মনে রাখতে হবে, চীনের বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়াতে হলে পণ্যের গুণগতমান, পণ্য বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ বাড়াতে হবে। বিশ্ববাণিজ্যে শীর্ষ এই দেশটির সঙ্গেও বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যথেষ্ট কঠিন। 

চীন সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে চীন ৯৮ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। এই সুবিধার আওতায় চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, পাটজাত দ্রব্য, ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্লাস্টিক পণ্য চীনে রপ্তানির পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। বিশেষ করে চামড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস, সোলার প্যানেল, এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো উচ্চ-মূল্যের পণ্যগুলোতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে উৎপাদিত পণ্য চীনে রপ্তানি করে ঘাটতি কমানো সম্ভব। 

বিডার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চীন সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিডার কাছে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে চীনে বাংলাদেশি পণ্য বিক্রির জন্য ৩০টি নির্দিষ্ট আউটলেট দিতে হবে। যেখানে শুধু বাংলাদেশি পণ্য থাকবে। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে ২০টি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট করতে হবে। সেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শিল্পের যন্ত্রাংশ তৈরি করবে। চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমাদের দেশে পরিবেশবান্ধবভাবে কয়লা উৎপাদন করতে হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত সুতা, কাপড়, রাসায়নিক পদার্থ, যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতির বড় অংশ আসে চীন থেকে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পেও চীনা যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে চীন থেকে আমদানি ১৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। 

ব্যবসায়ী এই নেতা এই বিশাল ঘাটতি কমাতে চীনের বাজারে যথাযথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, চীনে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি (আম, কাঁঠাল, জাম) কৃষি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং আইসিটি সেবার রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশে কাঁচামাল, সেমি ফিনিশড ও ফিনিশড পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমদানিনির্ভরতা কমে। চীনের সঙ্গে আরও বেশি ম্যাচমেকিং, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ এবং প্রাদেশিক বাজারভিত্তিক রপ্তানি কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া চীনের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি এবং মানসম্পর্কিত বাধা দূর করতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। সর্বোপরি, চীনের বাজারে আমাদের পণ্য বাড়ানোর উপায় স্বল্প মূল্যে অধিক মানসম্পন্ন মূল্যসংযোজনভিত্তিক পণ্য রপ্তানি করা। 

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সম্পর্ককে আমদানিকেন্দ্রিক কাঠামো থেকে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের পাশাপাশি চাহিদাভিত্তিক পণ্যের অংশীদারত্বে রূপান্তর করাই হবে দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খবরের কাগজকে বলেন, দেশ থেকে রপ্তানি করা অনেক পণ্যই আন্তর্জাতিক মানের না। এসব চীনের বাজারে সুবিধা করতে পারে না। রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের মান বাড়াতে হবে। 

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর সাবেক মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘চীনে আমাদের রপ্তানি বাড়াতে হলে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের বৈচিত্র্য, বিপণন নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। আর এর জন্য গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের দেশের শিল্প খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা কাঠিয়ে উঠতে হবে।’

বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড
ছবি: সংগৃীহত

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই (জুলাই-মে) বিদেশি ঋণ পাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ভাটা পড়েছে। ভারত, জাপান, রাশিয়া ও এআইআইবির কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। এ সময় ঋণ এবং অনুদানও কম পাওয়া গেছে। তবে এই সময়ে বিদেশি ঋণের সুদ, আসলসহ ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। যা বিদেশি ঋণ শোধে নতুন রেকর্ড। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ১১ মাসে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ঋণ দাতাসংস্থা ও দেশকে ৪১৩ কোটি ২৩ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে আসল ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলার ও সুদ ১৪৫ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। আগের নেওয়া ঋণের বিপরীতে এই অর্থ পরিশোধ করতে হয়। টাকার হিসাবে ওই সময়ে ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা শোধ করতে হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে তা পরিশোধ করতে হয়েছিল ২৭৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। 

গত জুলাই-মে সময়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ ও অনুদান পেয়েছে প্রায় ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৪১৪ কোটি ডলার ঋণ এবং ৪৩ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। গত ১১ মাসে সর্বোচ্চ ঋণ পাওয়া গেছে বিশ্বব্যাংকের কাছে। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া ৯৩ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭৮ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। গত বছরের ১১ মাসে তাদের কাছে ঋণ ও অনুদান পাওয়া গিয়েছিল ৪২২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, একই ধারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হলে এ বছর বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ সাড়ে ৪ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেট সহায়তা হিসেবেও অর্থ নেয়। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেয়। এভাবে ঋণ ও অনুদান পাওয়া যায়। 

সূচকের উত্থান হলেও কমেছে লেনদেন

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
সূচকের উত্থান হলেও কমেছে লেনদেন
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে ঢালাও দরপতন হওয়ার পর তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে মূল্য সূচক। লেনদেনের পরিমাণ আরও কমে চলতি মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে বাজারটিতেও মূল্য সূচক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে। ফলে আবারও পতনের আশঙ্কা পেয়ে বসে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। অবশ্য প্রথম ঘণ্টার লেনদেন পার হওয়ার আগেই ঘুরে দাঁড়ায় শেয়ারবাজার।

দাম কমার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখাতে থাকে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত চলে সেই প্রবণতা। এমনকি লেনদেনের শেষদিকে দাম বাড়ার প্রবণতা আরও বাড়ে। ফলে মূল্য সূচকের বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ৫৫টির এবং ৬১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৫৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ২৫টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১১টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১৯টির এবং ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১২টির দাম বেড়েছে। ৮টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ৫১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৩৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্য সূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮২৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। লেনদেন কমেছে ৪৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকার। ৩২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, রবি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এনসিসি ব্যাংক এবং বিডি থাই অ্যালুমেনিয়াম।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর তার আগের কার্যদিবসের ৮ টাকা ৮ পয়সা বা ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আই পি ডি সি ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এ ছাড়াও ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ৮.২৩ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ৭.৫৫ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ৫.৭১ শতাংশ, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স ৫.৭ শতাংশ, বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ৫.৬ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ৫.৩৭ শতাংশ এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ৫.৩৬ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) লিমিটেডের। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩ টাকা ৮ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ কমেছে।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল ফারইস্ট ফাইনান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর দশমিক ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড লিমিটেডের শেয়ার দর ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে।

এ ছাড়াও ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলস, ন্যাশনাল ফিড মিল, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ফাস্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮০টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৯৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।