অবশেষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। এর মধ্যে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ৯টা থেকে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
প্যানেলটির নেতৃত্বে রয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল হক। অপরদিকে এ নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে জরুরি সম্মেলন ডেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। এই প্যানেলের নেতৃত্বে আছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নুরুল হক।
ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্যানেল লিডার ও সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। আমরা আশা করি ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের প্যানেলকে জয়ী করবে। আমরা নির্বাচিত হলে সব পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। নারী উদ্যোক্তাদের নিয়েও অনেক কাজ করার আছে। আমরা চাই ব্যবসায়ীদের কল্যাণ।
চট্টগ্রাম চেম্বারের ২৪ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের ১২ জন পরিচালক সাধারণ সদস্যদের ভোটে, ৬ জন পরিচালক সহযোগী সদস্যদের ভোটে, ৩ জন পরিচালক টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে ও ৩ জন পরিচালক ট্রেড গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হন। তবে এবারের নির্বাচনে ট্রেড গ্রুপে তিনটি পরিচালক পদের বিপরীতে ৩ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন-এ ৩ পরিচালকের বিপরীতে ৩ জন প্রার্থী থাকায় এই ক্যাটাগরির প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন হতে গেলে ৪ জন প্রার্থী থাকতে হয়। চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালনায় নির্বাচিতরা দুই বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন। বাকি ১৮ পরিচালকের পদের জন্য লড়বেন ৫৩ জন।
চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন বোর্ড থেকে গত বছরের ৮ অক্টোবর বিকেলে প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় দেখা যায়, অর্ডিনারি গ্রুপে মোট ১২টি পরিচালক পদের বিপরীতে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ৬টি পরিচালক পদের বিপরীতে প্রার্থী রয়েছেন ১৫ জন। এবার অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে ৬ হাজার ৭৬৫ জন ভোটার রয়েছেন।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নুরুল হক বলেন, গত সোমবার (১৮ মে) হঠাৎ করে নির্বাচন বোর্ড আগামী শনিবার (২৩ মে) চট্টগ্রাম চেম্বারের স্থগিত নির্বাচন আয়োজনের তারিখ ঘোষণা করে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য অপ্রস্তুত সময়।
তার ভাষায়, ঈদুল আজহা সামনে, ব্যবসায়িক মৌসুমের ব্যস্ততা এবং অনেক ব্যবসায়ীর বিদেশে অবস্থানের কারণে অধিকাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। এভাবে স্বল্প সময় দিয়ে তড়িঘড়ি নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা ব্যবসায়ী সমাজের ভোটাধিকার হরণ করে একটি প্রহসনের নির্বাচনে পরিণত হবে।
বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে হাইকোর্টে রিট করা হলে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়। পরে চেম্বার জজ আদালত থেকে সেই আদেশ স্থগিত করা হলেও আগামী ৮ জুন চূড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি মনে করেন এই নির্বাচন সম্পূর্ণ বেআইনি, পক্ষপাতমূলক এবং আরোপিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক নির্বাচন নয়। এর আগেও কয়েক দফা স্থগিত হয় এই নির্বাচন
চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন গত বছরের ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। রিটের প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৪ অক্টোবর চেম্বারের ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তিকরণের উপর স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই স্থগিতাদেশের উপর সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল আদালতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার (গত বছরের ২৯ ও ৩০ অক্টোবর) শুনানি শেষে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য হাইকোর্টের একই আদালতকে নির্দেশ দেন চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে অভিযোগ নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান না করতে নির্দেশ দেন চেম্বার আদালত।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পূর্বের সেই রিট আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনের বাধা কেটে যায়। এ কারণে অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের জন্য গত ৪ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ ঠিক হয়। কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসতেই তা আবার স্থগিত করে নির্বাচন বোর্ড। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তারেক মাহমুদ/অন্তরা