ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘না’ বলার শক্তি: সীমা নির্ধারণেই মানসিক স্বাধীনতার শুরু শিক্ষামন্ত্রীর গ্রামের সড়ক সংস্কার কাজ ঝুলে আছে, ভোগান্তিতে পথচারীরা রৌমারী সীমান্তে পুশইনের পর ২ জন নিখোঁজ, জানে না বিজিবি ফেনীতে গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা, প্রাণ গেল কিশোরের মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হোক দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরে বিজিবির হাতে পুশব্যাক করা ৪ বাংলাদেশি বাগাতিপাড়ায় বাবা-মায়ের সামনেই রিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল সন্তানের জয় পেলেও শিষ্যদের উন্নতির তাগিদ ক্রোয়াট কোচের চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউ মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শরীয়তপুরে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মামলায় ছেলেসহ কারাগারে বিএনপি নেতা ব্যবস্থাপনার ধারণা অধ্যায়ের ১৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র সীতাকুণ্ডে চিরকুট লিখে মসজিদের ইমামের আত্মহত্যা চাকরি দেবে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, সপ্তাহে ২ দিন ছুটি স্কুল-কলেজের অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে চীনের দখলে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার সমর্থকদের আস্থা রাখতে বললেন ইংল্যান্ড কোচ নরসিংদীতে মৃত ভেবে গুমের চেষ্টা, মাইক্রোবাসচালক আটক ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তন করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ১ মণ পেঁয়াজের দামে মিলছে না ১ কেজি গরুর মাংস নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সাজাচ্ছেন কিম, আসছে দানবীয় যুদ্ধজাহাজ চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প তাত্ত্বিক গবেষক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক পপ গানে নিউ অরলিন্সের জ্যাজ ফিউশন, ‘ক্লাউডসেভ’ এর বাজিমাত আখতার-উল-আলম: সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও জাতীয় চেতনার অগ্রসেনানী পাকিস্তানে মানবাধিকারকর্মী মাহরাংকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নেইমারকে নিয়ে রহস্য রাখলেন আনচেলত্তি প্রধানমন্ত্রীর থেকে কৃষক কার্ড নেওয়া সেই কৃষক মারা গেছেন ২৪ জুন: সিঙ্গাপুর ডলার ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে

চামড়া খাতের সংকট উত্তরণে নেই সঠিক পরিকল্পনা

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১০:৪১ এএম
চামড়া খাতের সংকট উত্তরণে নেই সঠিক পরিকল্পনা
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের চামড়া রপ্তানিকারকদের ইউরোপ-আমেরিকার বাজার হাতছাড়া হয়ে গেছে। চীন চামড়া কিনলেও অর্ধেক দামে নিচ্ছে। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা হয়েছিল ৯৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার। চামড়া খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।  

চামড়া খাতের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, চামড়া খাতের জন্য এতদিন সরকার কোনো সমন্বিত রপ্তানি নীতি বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেনি। বর্তমান সরকার চামড়া খাতের সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বহু বছর চেষ্টার পর সিইটিপি নির্মাণ করা হলেও তা নিয়ে সমস্যা কাটছে না। বিগত দুই সরকারের সময়ে চামড়া খাতের সংকট কাটাতে সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।  আর এজন্য চামড়া খাতের সংকট দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য ব্যাপক সম্ভাবনা থাকার পরও দেশে-বিদেশে চামড়া ও চামড়া খাতের বাজার বাড়ছে না।  

ট্যানারি মালিকরা জানান, সিইটিপির জরুরি সংস্কার ও পূর্ণসক্ষমতায় পরিচালনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এলডব্লিউজি সনদ পাওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। বন্ড সুবিধা বা ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত রাসায়নিক আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ও সহজ অর্থায়ন করতে হবে। এতে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে দেশের চামড়ার প্রবেশ সহজ হবে, রপ্তানি মূল্য বাড়বে। ফলে চামড়া ও চামড়া খাতের বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ হবে।  

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহিন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন,‘ এই সরকার কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ সঠিক সময়ে চামড়ায় লবণ দেওয়া হলে তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। দামের ব্যাপারে বায়ারদের সঙ্গে দর কষাকষি করা যাবে। তবে সিইপি পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে। এর কারণে এলডব্লিওজির সনদ পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরোপ-আমেরিকার বাজার হাতছাড়া হয়ে গেছে। চামড়া খাতের সংকট কাটিয়ে উঠতে সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে। বিগত দিনে সময়োপোযোগী পরিকল্পনা করা হয়নি।’  

পোস্তার চামড়া ব্যবসায়ী মনজুর হাসানও জানান, সিইটিপি কার্যকর না থাকায় শুধু চীনের কাছে বাজার চলে গেছে। কিন্তু তারা দাম দিচ্ছে না। অর্ধেক দামে কিনছে। এ জন্য আগের মতো রপ্তানি বাড়ছে না।’    

তবে সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই বছরে সিইটিপির ব্যাপক সংস্কার হয়েছে। পুরোনো স্পেয়ার পার্টস, পাম্প এবং ব্লোয়ার পরিবর্তন বা মেরামত করা হয়েছে। এর ফলে সিইটিপির কিছু কিছু প্যারামিটার এখন বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। আগে কঠিন বর্জ্য নিয়ে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকলেও বর্তমানে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে সিইটিপির নকশাগত ত্রুটিগুলোর স্থায়ী সমাধান করা হবে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘একসময়ে এক-দেড় হাজার টাকায় গরুর চামড়ার পিস বিক্রি হলেও চার-পাঁচ বছর থেকে দামই নেই। ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বেশি বিক্রি হয় না। কোরবানির চামড়া পানির দরে বিক্রি হয়। নতুন সরকার এসেছে ক্ষমতায়। আমাদের প্রত্যাশা যেন চামড়ার দাম বাড়ে।’

পোস্তার চামড়া ব্যবসায়ী মো. আফতাব খান বলেন, রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা থাকার পর এবারও ঈদে চামড়ার দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ সাভারে ট্যানারি পল্লী স্থানান্তর হলেও সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। 

অন্য চামড়া ব্যবসায়ী এবং রপ্তানিকারকরাও জানান, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ না পাওয়ায় ইউরোপ-আমেরিকার বাজার হাতছাড়া হয়ে গেছে। এ সুযোগে চীন কম দামে চামড়া কিনছে। এর ফলে রপ্তানি বাড়ছে না। চামড়ার দামও বাড়ছে না। তবে এই সরকার চামড়া সংরক্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনকে পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। 

অন্য বছরের মতো এবারও সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সম্প্রতি ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়া প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করেছেন ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। খাসির লবণযুক্ত চামড়া প্রতি বর্গফুটের দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির ক্ষেত্রে ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ঢাকাসহ সারা দেশে কার্যকর হবে। 

দাম নির্ধারণ করলেও গত চার-পাঁচ বছর থেকে কোরবানির ঈদের চামড়া পানির দরে বিক্রি হয়। কোরবানির পশুর চামড়া মূলত অভাবী, এতিম ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেন কোরবানিদাতারা। 

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে সরকার এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়।

চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম গতিশীল করতে চামড়া ব্যবসায়ীদের অনুকূলে দ্রুত ঋণ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এ খাতের পুরোনো ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে কিস্তি আদায়ে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। গত ৫ মে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, চামড়াশিল্প দেশের একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী খাত এবং কোরবানির ঈদেই বছরের প্রায় অর্ধেক কাঁচামালের জোগান আসে। এ–জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ব্যবসায়ীদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত করা জরুরি। এ ছাড়া, ২০২৬ সালের জন্য চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা কোনোভাবেই গত বছরের তুলনায় কম রাখা যাবে না। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ও এর বাস্তবায়নসংক্রান্ত তথ্য আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। 

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা জানান, দেশের চামড়া খাতকে গুরুত্ব দিয়ে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য বিশেষ ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো। কিন্তু চামড়া ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ ঋণ নিলে তা আর পরিশোধ করতে চান না। এমনকি ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের যে সুযোগ রাখা হয়েছে, অনেকে সে সুযোগ নিতেও নারাজ। চামড়া ক্রয়ে গত বছর (২০২৫ সালে) ১২৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। যা ২০২৪ সালে ছিল ২৭০ কোটি টাকা। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে ২৫৯ কোটি, ২০২২ সালে ৪৪৩ কোটি, ২০২১ সালে ৬১০ কোটি টাকা, ২০২০ সালে ৭৩৫ কোটি এবং ২০১৯ সালে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। যতই দিন যাচ্ছে চামড়া খাতের ঋণ কমছে। 

চামড়ার দাম না বাড়লেও আকাশচুম্বী জুতা-স্যান্ডেলের দাম

কয়েক বছর থেকেই গরুর কাঁচা চামড়ার পিস ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক পিস চামড়া প্রক্রিয়াকরণের পর ২০ বর্গফুটের মতো চামড়া পাওয়া যায়। তা দিয়ে অন্তত পাঁচ জোড়া জুতা তৈরি হয়। কিন্তু নামিদামি জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এক জোড়া জুতা বিক্রি করছে ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায়। তাদের স্যান্ডেলও বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায়। 

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, গত জুনে কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায় গরুর চামড়া কেনা হয়েছে। একটি গরুর চামড়ায় সাধারণত লবণ লাগে ১০ থেকে ১১ কেজির মতো। এভাবে এক পিস চামড়া সংগ্রহ করার পর লবণ দেওয়া থেকে শুরু করে ট্যানারিতে ফিনিশ্ড প্রোডাক্ট বা চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত আসতে খরচ হয় ২ হাজার ৬৫০ টাকা। সব ধাপ শেষ করতে প্রতি বর্গফুট চামড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে আসতে খরচ পড়ে ১৩২ টাকা।

চামড়ার আকার বড় বা দাম বেশি হলে প্রতি বর্গফুটে খরচ সর্বোচ্চ ১৪৭ টাকা হতে পারে। মো. কামাল পাশাসহ অন্য চামড়া রপ্তানিকারকরা জানান, বে, বাটা, এপেক্সসহ অনেকেই ভালো কোয়ালিটি নিশ্চিত করে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বর্গফুট চামড়া কেনে। সেই চামড়ার জুতা রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন এলাকার শোরুমে দেখা যায় ২ হাজার ২৯৯ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেল্ট বিক্রি হচ্ছে ৯৯৯ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৪৯৯ টাকায়। তবে রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারি মোড়ে অরিজিনাল চামড়া দিয়ে জুতা-স্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে। তাদের কোয়ালিটিও খারাপ না। অথচ সেগুলোর দাম অনেক কম।

ট্যানারি মোড়ের এসবি লেদারের স্বত্বাধিকারী মো. সানি খবরের কাগজকে বলেন, ‘নামিদামি কোম্পানির মতো আমরাও জুতা তৈরি করি। তা ২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। স্যান্ডেলও দেড় থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ জুতা, স্যান্ডেল ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়।’ অন্য উদ্যোক্তারাও বলেন, কম দামে জুতা, স্যান্ডেল, বেল্ট বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার কিছু ব্যাপারে উদ্যোগ নিলে আরও কম দামে এসব পণ্য বিক্রি করা যাবে। 

২৪ জুন: সিঙ্গাপুর ডলার ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
২৪ জুন: সিঙ্গাপুর ডলার ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     139.70 139.72 -0.58
ব্রিটেন পাউন্ড     162.06 162.09 -0.59
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     84.86 84.93 -1.04
জাপানি ইয়েন 0.7596 0.7597 -0.0002
কানাডিয়ান ডলার 86.35 86.40 -0.31
সুইস ক্রোনা 12.60 12.61 -0.16
সিঙ্গাপুর ডলার 94.64 94.70 +0.24
চায়না ইউয়ান     18.06 18.06 -0.05
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2956 1.2957 -0.0008
সৌদি রিয়াল 32.58 32.89  
আরব আমিরাত দিরহাম 33.32 33.60  

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

রিফাত/

স্বর্ণের দাম আবার ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
স্বর্ণের দাম আবার ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা
ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত দামে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকায়।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।

এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম কমায় এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

আজ সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। 

রিফাত/

পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যকরণে রপ্তানি বাড়বে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যকরণে রপ্তানি বাড়বে
ছবি: খবরের কাগজ

চীন শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গেও দেশটির বহুমুখী বাণিজ্য রয়েছে। তবে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলেছে। ঘাটতি কমাতে চীন থেকে আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা ঘাটতি কমাতে এ দেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর কথাও বলেছেন।
 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের চীন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, রপ্তানিকারক, প্রবাসী বাংলাদেশি, অর্থনীতির বিশ্লেষকসহ অনেকে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হলে চীনে রপ্তানি বাড়াতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। 

অর্থনীতির এই বিশ্লেষক আরও বলেন, মনে রাখতে হবে, চীনের বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়াতে হলে পণ্যের গুণগতমান, পণ্য বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ বাড়াতে হবে। বিশ্ববাণিজ্যে শীর্ষ এই দেশটির সঙ্গেও বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যথেষ্ট কঠিন। 

চীন সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে চীন ৯৮ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। এই সুবিধার আওতায় চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, পাটজাত দ্রব্য, ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্লাস্টিক পণ্য চীনে রপ্তানির পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। বিশেষ করে চামড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস, সোলার প্যানেল, এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো উচ্চ-মূল্যের পণ্যগুলোতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে উৎপাদিত পণ্য চীনে রপ্তানি করে ঘাটতি কমানো সম্ভব। 

বিডার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চীন সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিডার কাছে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে চীনে বাংলাদেশি পণ্য বিক্রির জন্য ৩০টি নির্দিষ্ট আউটলেট দিতে হবে। যেখানে শুধু বাংলাদেশি পণ্য থাকবে। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে ২০টি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট করতে হবে। সেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শিল্পের যন্ত্রাংশ তৈরি করবে। চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমাদের দেশে পরিবেশবান্ধবভাবে কয়লা উৎপাদন করতে হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত সুতা, কাপড়, রাসায়নিক পদার্থ, যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতির বড় অংশ আসে চীন থেকে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পেও চীনা যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে চীন থেকে আমদানি ১৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। 

ব্যবসায়ী এই নেতা এই বিশাল ঘাটতি কমাতে চীনের বাজারে যথাযথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, চীনে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি (আম, কাঁঠাল, জাম) কৃষি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং আইসিটি সেবার রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশে কাঁচামাল, সেমি ফিনিশড ও ফিনিশড পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমদানিনির্ভরতা কমে। চীনের সঙ্গে আরও বেশি ম্যাচমেকিং, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ এবং প্রাদেশিক বাজারভিত্তিক রপ্তানি কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া চীনের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি এবং মানসম্পর্কিত বাধা দূর করতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। সর্বোপরি, চীনের বাজারে আমাদের পণ্য বাড়ানোর উপায় স্বল্প মূল্যে অধিক মানসম্পন্ন মূল্যসংযোজনভিত্তিক পণ্য রপ্তানি করা। 

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সম্পর্ককে আমদানিকেন্দ্রিক কাঠামো থেকে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের পাশাপাশি চাহিদাভিত্তিক পণ্যের অংশীদারত্বে রূপান্তর করাই হবে দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খবরের কাগজকে বলেন, দেশ থেকে রপ্তানি করা অনেক পণ্যই আন্তর্জাতিক মানের না। এসব চীনের বাজারে সুবিধা করতে পারে না। রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের মান বাড়াতে হবে। 

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর সাবেক মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘চীনে আমাদের রপ্তানি বাড়াতে হলে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের বৈচিত্র্য, বিপণন নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। আর এর জন্য গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের দেশের শিল্প খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা কাঠিয়ে উঠতে হবে।’

বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড
ছবি: সংগৃীহত

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই (জুলাই-মে) বিদেশি ঋণ পাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ভাটা পড়েছে। ভারত, জাপান, রাশিয়া ও এআইআইবির কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। এ সময় ঋণ এবং অনুদানও কম পাওয়া গেছে। তবে এই সময়ে বিদেশি ঋণের সুদ, আসলসহ ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। যা বিদেশি ঋণ শোধে নতুন রেকর্ড। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ১১ মাসে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ঋণ দাতাসংস্থা ও দেশকে ৪১৩ কোটি ২৩ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে আসল ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলার ও সুদ ১৪৫ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। আগের নেওয়া ঋণের বিপরীতে এই অর্থ পরিশোধ করতে হয়। টাকার হিসাবে ওই সময়ে ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা শোধ করতে হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে তা পরিশোধ করতে হয়েছিল ২৭৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। 

গত জুলাই-মে সময়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ ও অনুদান পেয়েছে প্রায় ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৪১৪ কোটি ডলার ঋণ এবং ৪৩ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। গত ১১ মাসে সর্বোচ্চ ঋণ পাওয়া গেছে বিশ্বব্যাংকের কাছে। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া ৯৩ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭৮ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। গত বছরের ১১ মাসে তাদের কাছে ঋণ ও অনুদান পাওয়া গিয়েছিল ৪২২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, একই ধারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হলে এ বছর বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ সাড়ে ৪ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেট সহায়তা হিসেবেও অর্থ নেয়। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেয়। এভাবে ঋণ ও অনুদান পাওয়া যায়। 

সূচকের উত্থান হলেও কমেছে লেনদেন

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
সূচকের উত্থান হলেও কমেছে লেনদেন
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে ঢালাও দরপতন হওয়ার পর তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে মূল্য সূচক। লেনদেনের পরিমাণ আরও কমে চলতি মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে বাজারটিতেও মূল্য সূচক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে। ফলে আবারও পতনের আশঙ্কা পেয়ে বসে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। অবশ্য প্রথম ঘণ্টার লেনদেন পার হওয়ার আগেই ঘুরে দাঁড়ায় শেয়ারবাজার।

দাম কমার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখাতে থাকে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত চলে সেই প্রবণতা। এমনকি লেনদেনের শেষদিকে দাম বাড়ার প্রবণতা আরও বাড়ে। ফলে মূল্য সূচকের বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ৫৫টির এবং ৬১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৫৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ২৫টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১১টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১৯টির এবং ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১২টির দাম বেড়েছে। ৮টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ৫১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৩৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্য সূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮২৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। লেনদেন কমেছে ৪৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকার। ৩২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, রবি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এনসিসি ব্যাংক এবং বিডি থাই অ্যালুমেনিয়াম।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর তার আগের কার্যদিবসের ৮ টাকা ৮ পয়সা বা ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আই পি ডি সি ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এ ছাড়াও ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ৮.২৩ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ৭.৫৫ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ৫.৭১ শতাংশ, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স ৫.৭ শতাংশ, বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ৫.৬ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ৫.৩৭ শতাংশ এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ৫.৩৬ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) লিমিটেডের। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩ টাকা ৮ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ কমেছে।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল ফারইস্ট ফাইনান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর দশমিক ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড লিমিটেডের শেয়ার দর ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে।

এ ছাড়াও ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলস, ন্যাশনাল ফিড মিল, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ফাস্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮০টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৯৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।