ঢাকা ৭ শ্রাবণ ১৪৩১, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪

এশিয়ান হাইওয়ে: দেশের স্থল বাণিজ্যে গতি আনবে

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১১:৪৯ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:১২ পিএম
এশিয়ান হাইওয়ে: দেশের স্থল বাণিজ্যে গতি আনবে

এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক (এএইচ) প্রকল্পটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন এসক্যাপ) একটি সহযোগী প্রকল্প। প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল ১৯৫৯ সালে। এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্থল বাণিজ্য এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে। 

প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৭৯ কিলোমিটার। এটি এশিয়ার ৩২টি দেশকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করবে। হাইওয়ের সঙ্গে রয়েছে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে। এটি বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপ্লব ঘটবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

এ নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য ২০০৩ সালে ব্যাংককে একটি আন্তসরকার চুক্তি হয়। ২০০৯ সালে আঞ্চলিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এশিয়ান হাইওয়েতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ হবে। এটি এমন একটি রুট যেটি ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এশিয়ান হাইওয়ে শুরু হবে জাপানের টোকিও থেকে, শেষ হবে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। 

অন্যদিকে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে হলো ইউরোপ ও এশিয়াজুড়ে একটি সমন্বিত মালবাহী রেলওয়ে নেটওয়ার্ক। এটিও ইউএন এসক্যাপের একটি সহযোগী প্রকল্প। ইউএন এসক্যাপের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এশিয়ান একটি আঞ্চলিক পরিবহন সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য এশিয়ায় সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা। 

ম্যাপ অনুযায়ী, এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কে ৪৪টি পৃথক রুট রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি রুট তামাবিল-বেনাপোল ৪৯২ কিলোমিটার, তামাবিল-বাংলাবান্ধা ৫১৭ কিলোমিটার এবং টেকনাফ-মোংলা ৭৬২ কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশে। বর্তমানে তিনটি রুটের কাজই চলমান। তবে শেষ হতে অনেক সময় লাগবে। 

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তিনটি রুটই রাজধানী ঢাকাকে ছুঁয়ে যাবে। দুটি রুট দুই প্রান্তে ভারতকে সংযুক্ত করবে। অন্য রুট বাংলাদেশের মধ্যে থাকলেও মায়ানমারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোয় নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে তহবিলসংকটে একরকম বন্ধই হয়ে আছে প্রকল্পের কাজ। বাংলাদেশের মধ্যে ১ হাজার ৮০৪ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়ক ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে ৩০০ কিলোমিটারেরও কম অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ উদ্যোগটি থমকে আছে। এই দীর্ঘ সময়ে উদ্যোগের অগ্রগতি তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে আমাদের অনেক অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সেগুলো সংযোগ করে দিলেই হবে। কিন্তু সীমান্তে এসব অবকাঠামোর আন্তর্দেশীয় সংযোগের ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক খবরের কাগজকে বলেন, এশিয়ার দেশগুলো ছোট ছোট ব্লকে নিজেদের মতো করে একটি মাল্টিমোডাল কানেকটিভিটি তৈরি করে উদার বাণিজ্যের পথ তৈরি করবে- এমনটিই ছিল এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের লক্ষ্য। 

বৈষম্যহীন অর্থনীতির জন্য আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা আরও সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছিল। এতে প্রতিটি দেশ উপকারভোগী হবে। একটি দেশের পণ্য অন্য দেশে সহজে পরিবহন করা যাবে, এতে নেটওয়ার্ক এ থাকা সব দেশ উপকারভোগী হবে। 

এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ব্যয় সাশ্রয়ে বড় সুবিধা পাবে। পণ্য পরিবহনে সময় কমবে। 

কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এই নেটওয়ার্কে থাকা সব দেশই উপকারভোগী হবে। স্থল বাণিজ্যে বাংলাদেশের গতিশীলতা ফিরে আসবে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীন এ দেশের উন্নয়ন সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে, সেটিই প্রত্যাশা।

কোটা সংস্কার: সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ সমাধানই কাম্য

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৯:৪৮ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৯:৪৮ এএম
কোটা সংস্কার: সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ সমাধানই কাম্য

কোটা সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে চলছে আন্দোলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা পাল্টা-হামলা ও সংঘর্ষে ৩০০ জন আহত হয়েছেন। এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও। সারা দেশে চলছে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ। মধ্যরাতে রণক্ষেত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। নারী শিক্ষার্থীরাও হামলার শিকার হয়েছেন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা হয়েছেন লাঞ্ছিত। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ ও কার্জন হলের সামনে কোটা সংস্কারবাদী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে গুলি ছুড়তেও দেখা গেছে। এদিকে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নিন্দা জানিয়েছে। কোটা আন্দোলনে নতুন আলোচনা উঠে এসেছে ‘রাজাকার’ কথাটি। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এ দেশের স্বাধীনতা।

সেখানে রাজাকারদের ভূমিকা কী ছিল তা জানলে হয়তো তারা এ ধরনের স্লোগান থেকে দূরে থাকত। তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার, স্লোগান দেওয়াকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকার বাহিনী কীভাবে দেশে অত্যাচার চালিয়েছে তারা তা জানে না। এসব অত্যাচার, রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে থাকা এরা দেখেনি। 

তাই নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জাবোধ হয়নি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের যারা ‘আমি রাজাকার’ স্লোগান দিচ্ছেন তাদের শেষ দেখিয়ে ছাড়বেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তারা বলছে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে না, তাদের হাতে আন্দোলনের ‘রিমোট কন্ট্রোল’ চলে গেছে। আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করার প্রতিবাদ তারা করছে। 

কোটা সংস্কারের অতীত ও বর্তমান নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা আগেও হয়েছে। এখনো তা চলছে। আদালতের রায় ও নির্দেশনা নিয়ে কোটাবিরোধীদের চলমান আন্দোলনে ঘি ঢেলেছে রাজাকার ইস্যু। এখন থেকে দেড় দশক আগে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) কোটা সংস্কার বা কোটা প্রয়োগের পদ্ধতি সহজ করার সুপারিশ করেছিল। 

আবার ছয় বছর আগে তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি এ নিয়ে কিছু সুপারিশ করেছিল। বিভিন্ন গবেষণাও হয়েছিল বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু সেই সুপারিশ ও গবেষণা আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৮ সালে চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের একপর্যায়ে ওই বছর নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) সব কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করা হয়। রায়ের মূল অংশ গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। 

এই রায়ের মূল কথা হলো সব কোটা বজায় রাখতে হবে। তবে প্রয়োজনে বাড়ানো বা কমানো যাবে। অবশ্য আপিল বিভাগ কোটার বিষয়ে পক্ষগুলোকে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। 

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এখন সরকারের ভেতরেও কোটা সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পরই করণীয় কিছু করতে পারে সরকার। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সংবিধানের আলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা সব গ্রেডে কোটা সংস্কারের দাবি করেছেন। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোটা পুরোপুরি বাতিল না করে সময়ের বিবেচনায় সংস্কার করা উচিত। কোটার পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে ন্যায্যতা ও সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে সংস্কার করা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পিএসসির এক গবেষণায় বলা হয়, অগ্রাধিকার কোটা কোনোভাবেই মেধাকোটার চেয়ে বেশি হতে পারে না। যদিও সেই গবেষণার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

বিশ্বজুড়ে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা ও ঐতিহাসিকভাবে প্রান্তিক বা নিম্ন প্রতিনিধিত্বশীল গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশের সরকারি চাকরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তির ক্ষেত্রে কোটাব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি চাকরিতে কোটা সুবিধা নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও মাঝে মাঝে সুপ্রিম কোর্টকে বিষয়টির ফায়সালা করতে হয়। 

পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস শুধু ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদনকারীর  যোগ্যতা, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে  নির্বাচন করে। বাকি ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ কোটাপদ্ধতিতে নির্বাচন করা হয়। নেপালেও সরকারি চাকরিব্যবস্থায় বর্ণ, জাত এবং লিঙ্গের ওপর ভিত্তি করে কোটাব্যবস্থা রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় কোটা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। সেখানে কোটা ৬০ শতাংশ। 

কোটা সংস্কারের সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে সরকারের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনাসাপেক্ষে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বাস্তবসম্মত কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবি। এ ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।

প্লাস্টিক ব্যবহার রোধ করুন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৪, ১১:১০ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৪, ১১:১০ এএম
প্লাস্টিক ব্যবহার রোধ করুন

বর্তমান বিশ্বে পরিবেশগত বড় হুমকির নাম প্লাস্টিকদূষণ। বিশ্বের সব প্রান্তে প্লাস্টিকপণ্যের ব্যবহার বেড়েছে। প্লাস্টিক ব্যবহারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্লাস্টিকবর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ। প্লাস্টিকপণ্য মাটির সঙ্গে মিশে মাটি দূষণ করে এবং পানির সঙ্গে মিশে পানি ও জলজ জীববৈচিত্র্যের বিপর্যয় ঘটায়। গত শুক্রবার ছয় ঘণ্টারও কম সময়ের বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি ওঠে। চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। 

তথ্য মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছরে জুলাই মাসে ঢাকায় চার গুণ বেশি বৃষ্টির আভাস পাওয়া গেছে। বৃষ্টি যদি আরও বাড়ে তাহলে জলাবদ্ধতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নগরবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছবে। এমন জলাবদ্ধতার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন রাজধানীজুড়ে থাকা প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের ভাগাড়কে। 

বিশেষ করে রাজধানীর বেশির ভাগ খাল-নর্দমা বহুল ব্যবহৃত প্লাস্টিকসামগ্রী ও নিষিদ্ধঘোষিত পলিথিন ব্যাগ থেকে সৃষ্ট বর্জ্যে ভরাট হয়ে থাকে বছরের পর বছর। মাঝেমধ্যে সিটি করপোরেশন কিছুটা অভিযান চালালেও কিছু দিনের মধ্যে আবার একই পরিণতি দেখা যায়। এর পরও পলিথিনের উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন এবং ব্যবহার বাড়ছেই। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে রাজধানীর আগের সব খাল, নালা, নর্দমা দখল-ভরাটে প্রায় শেষ হয়ে গেছে। যতটুকু আছে তা অপরিকল্পিত কাঠামোয় রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা সরু ও অপ্রশস্ত। তার ওপর বিপুল 

পরিমাণ প্লাস্টিক ও পলিথিনবর্জ্যে ভরাট হয়ে পানির প্রবাহ বন্ধ থাকে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরীর বেশির ভাগ এলাকায় পানি সরতে পারে না। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। 

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ৬৪৬ টন প্লাস্টিকবর্জ্য (পলিথিনসহ) সংগ্রহ করা হয়; যা দেশে দৈনন্দিন আবাসিক বর্জ্যের ১০ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকার প্লাস্টিকবর্জ্যের ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য (রিসাইকেল উপযোগী)। অর্থাৎ প্রায় ৬৩ শতাংশ  প্লাস্টিক বা পলিথিনবর্জ্যই রিসাইকেলের অনুপযোগী। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার বার্ষিক মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহার শহরাঞ্চলের জাতীয় গড় থেকে তিন গুণেরও বেশি। অর্থাৎ জনপ্রতি ২২ দশমিক ২৫ কেজি প্লাস্টিকবর্জ্য অপসারণ হয়। 

তথ্য মতে, দেশে ৫ হাজারেরও বেশি প্লাস্টিকপণ্য তৈরির কারখানা রয়েছে। প্লাস্টিকপণ্যের অনিয়ন্ত্রিত উৎপাদন ও বাজারজাত চলছেই। এমনকি রপ্তানিও বেড়েছে। ২০২১ সালে বিদেশে রপ্তানি হয়েছে ৫৫ মিলিয়ন কেজি প্লাস্টিকসামগ্রী। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্যব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য মতে, তারা প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন থাকে প্লাস্টিক বা পলিথিনজাতীয় বর্জ্য। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন খবরের কাগজকে বলেন, আমরা প্লাস্টিক বা পলিথিন বর্জ্যব্যবস্থা নিয়ে আগে যেসব কাজ করেছি তা এখন তেমন কার্যকর হচ্ছে না। কারণ দিন দিন পলিথিনের ব্যবহার বেড়েই চলছে। তাই সরকার এখন নতুন পলিসি তৈরি করেছে। এর আওতায় যে কোম্পানি প্লাস্টিকসামগ্রী তৈরি ও বাজারজাত করবে, তারাই বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের দায়িত্ব নেবে। এটা কার্যকর হলে অনেকটাই ভালো একটা পথ তৈরি হবে।

পলিথিনের ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এর উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে কঠোরভাবে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ করতে হবে। সরকারকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি বাড়াতে হবে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎস থেকে প্লাস্টিকবর্জ্য আলাদা করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রিসাইক্লিং করার জন্য নতুন আইন করা যেতে পারে। সর্বোপরি পলিথিন ব্যবহার রোধকল্পে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে হবে

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৪, ১১:০৪ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৪, ১১:০৪ এএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে হবে

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন অর্থ উপার্জনের অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের মানুষ ডিজিটাল স্বাক্ষরতায় এখনো অনেক পিছিয়ে। ভুল তথ্যের বিশ্বাসপ্রবণতা এ দেশের মানুষের মধ্যে অনেক বেশি। দেশের অন্যতম যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউব নানাভাবে ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। এসব ভুল তথ্য ব্যবহার করে তারা প্রচুর মুনাফাও করছে। তথ্যপ্রবাহের এই ব্যবস্থায় প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইটের গবেষণা ইউনিট ‘ডিসমিসল্যাব’ ইউটিউবের ভিডিও নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদনে বেশ কিছু তথ্য উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনটি গত ১০ জুলাই প্রকাশ করা হয়। 

ডিসমিসল্যাবের গবেষকরা রিউমর স্ক্যানার, বুম, নিউজচেকার, ফ্যাক্ট ক্রিসেন্ডো, ফ্যাক্ট ওয়াচ, এএফপি ফ্যাক্ট চেকসহ দেশের সাতটি ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থার ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত ২ হাজার ৪২টি নিবন্ধ বিশ্লেষণ করেছেন। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ইউটিউবে অনুসন্ধান চালানো হয়। শুধু মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদন এর মধ্যে স্থান পায়। গবেষকরা এতে ৭০০টি ভুল তথ্যসংবলিত ভিডিও দেখতে পান। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি রাজনীতি এবং প্রায় ১৫ শতাংশ ধর্মসংক্রান্ত। এর পর আছে খেলাধুলা ও দুর্যোগ-সম্পর্কিত বিষয়। 

গবেষকরা এই ৭০০ ভিডিও নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তারা প্রত্যক্ষ করেছেন, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ইউটিউব কর্তৃপক্ষ মাত্র ২৫টি ভিডিওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এতগুলো ভুল তথ্যসংবলিত ভিডিও মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ৫৪১টি চ্যানেল থেকে এসব ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে আবার বিভিন্ন ব্র্যান্ড পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে দেশীয় সুপরিচিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনও রয়েছে। ভিডিওগুলোর গড় ভিউ ২ লাখের বেশি। এতে ৮৩টি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন রয়েছে। বিদেশি কোম্পানির বিজ্ঞাপন রয়েছে, যারা বাংলাদেশি দর্শকদের প্রাধান্য দিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। 

ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব অসত্য তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে তেমন একটা পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। বরং ব্যবহারকারীরা অর্থ উপার্জনের একটা সহজ মাধ্যম পাওয়ায় যেকোনো অসত্য তথ্য এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে উপস্থাপন করতে কুণ্ঠাবোধ করছেন না। বিজ্ঞাপন ইউটিউবের আয়ের একটা মাধ্যম। ইদানীং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সংখ্যাও দেশে বেড়েছে। এরা ভিডিওগুলোতে দেওয়া বিজ্ঞাপন থেকে মুনাফা পান কি না, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। ইউটিউবে একশ্রেণির অসাধু প্রবেশ করেছে। তাদের স্বার্থে অনেক সময় এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। যার ফলে তারা সংগঠিত হয়ে তহবিলও সংগ্রহ করতে পারছে। কিন্তু ইউটিউব এ ক্ষেত্রে জোরালো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। যা নিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তথ্যমতে, বাংলাদেশে ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৭ মিলিয়ন, অর্থাৎ ৩ কোটি ৭০ লাখ (গত এপ্রিল পর্যন্ত)। গত জানুয়ারিতে ইউটিউবের মাধ্যমে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশের কাছে পৌঁছেছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিজ্ঞাপনেরও সুরক্ষানীতি থাকা দরকার। যারা এসব প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন, তাদের আরও সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও বেশি গ্রাহকসেবা পর্যবেক্ষণের বিষয়ে জোর দিতে হবে। সরকারকে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। ভুল তথ্যের বিষয়ে ইউটিউবের কাছে জবাবদিহি চাইতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৫১ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৫১ এএম
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

রাজধানীতে গত শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়। এই ৬ ঘণ্টার বৃষ্টিতে বেশির ভাগ এলাকায় সড়ক ডুবে যায়। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। কোথাও পানি ছিল হাঁটুসমান, আবার কোথাওবা কোমরসমান। অল্প সময়ে বিপুল বর্ষণে নাকাল রাজধানীবাসী। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩ ঘণ্টায় ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৬০ মিলিমিটার। 

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সড়কে যানবাহন ও মানুষের চাপ ছিল কম। ডুবে যাওয়া সড়কগুলোতে দেখা গেছে পানিতে বিকল হয়ে যাওয়া সিএনজি, অটোরিকশা, বাস ও প্রাইভেট কার। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারও ভারী বর্ষণ হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্ষাকালের সামগ্রিকভাবে মোট বৃষ্টি ৩ শতাংশ কমেছে, আর বর্ষার আগের দুই মাস অর্থাৎ এপ্রিল ও মে মাসে বৃষ্টি ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হলে শহরে পানি জমা, পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়া, ভবনের দেয়াল নরম হয়ে ধসে পড়াসহ নানা ধরনের বিপদ দেখা দিচ্ছে। 

রাজধানীবাসীর দীর্ঘ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি না পাওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। কেবল চিন্তাভাবনাতেই দিনের পর দিন ফাইলবন্দি হয়ে আটকে আছে জলাবদ্ধতা নিরসন পরিকল্পনা। আর রাজধানীজুড়ে থেমে নেই খাল ও নর্দমা দখল। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এ পর্যন্ত যত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো কবে বাস্তবায়ন হবে তা বলতে পারেন না সংশ্লিষ্টরা। ২০২০ সালে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেয় দুই সিটি করপোরেশন। সে সময় থেকে চার বছর পার হলেও রাজধানীর জলাবদ্ধতার উন্নতি হয়নি। 

গত শুক্রবার দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে না পারা। রাজধানীর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের সংখ্যা ৬৯টি। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩০টি এবং দক্ষিণে রয়েছে ৩৯টি। আর দুই সিটি করপোরেশনের নর্দমা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার। খাল ও নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়া এবং সেগুলো উদ্ধারে ব্যর্থতার কারণেই জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

তারা বলছেন, খালগুলোর দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর রুটিনমাফিক উচ্ছেদে কিছু অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তা ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে খাল-নর্দমা পরিষ্কার করা হয়। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। এ ছাড়া রয়েছে নগরবাসীর দায়িত্বহীনতা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালে বর্জ্য ফেলেন নগরবাসী। নির্বিচারে খাল দখল করেন। এসবের অবসান হওয়া দরকার। 

তথ্যমতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত চার বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে খরচ করেছে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন চার বছরে খরচ করেছে ৩৭০ কোটি টাকা। 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন দরকার। পূর্ণাঙ্গ ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। সেটা না করে যেটুকু প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ছিল, তাও ধ্বংস করা হয়েছে। 

ভারী বর্ষণে রাজধানীতে যাতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পলিথিন-জাতীয় বর্জ্য নির্বিচারে  নর্দমা ও খালে ফেলা হয়। এসব বন্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। নালার ওপরের ছিদ্রযুক্ত ঢাকনার মুখ বন্ধ হয়ে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। খাল ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। 

ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। দুই সিটি করপোরেশনকে খালের গভীরতা বাড়াতে তৎপর হতে হবে। তাদের কার্যক্রমে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ থাকলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন করা সহজ হবে। এতে জনভোগান্তি কমবে বলে আশা করা যায়।

প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১১:০৭ এএম
প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) প্রধান দায়িত্ব প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ পদে চাকরির ব্যবস্থা করা। এ জন্য কমিশন পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে এবং মূল্যায়ন করবে। কিন্তু সম্প্রতি এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির কারণে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন। তারা অনেক হতাশ হয়েছেন। যে অভিযোগগুলো এসেছে তা মারাত্মক। শুধু সাম্প্রতিক কালের পরীক্ষায় নয়, কয়েক বছর ধরে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

সাংবিধানিক একটি প্রতিষ্ঠানের এমন সংবেদনশীল পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে খোদ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব পালন নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে করা মামলায় সংস্থাটির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ ছয়জন দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গাড়িচালক আবেদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ট্রল করছেন। 

শুধু প্রশ্ন ফাঁস করে একজন গাড়িচালক হয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন, যেটি আবেদ নিজেই সিআইডির কাছে স্বীকার করেছেন। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসার পর তারা বিষয়টি আমলে নেয়। প্রথাগত সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর সিআইডি একে একে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের আওতায় আনে। মামলার অন্য আসামিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে- এমন আশঙ্কায় পালিয়ে গেছেন। তবে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনায় কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসছে। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে খোদ পিএসসির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত আছেন বলে সিআইডির তদন্তে জানা গেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা এসব কর্মকর্তাকে নজরদারিতে রেখেছেন। সূত্র বলছে, আবেদ ১৩ কোটি টাকা দিয়ে রেলের প্রশ্নপত্র কিনে তিনি বিভিন্নজনের কাছে বিক্রি করেছেন। 

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, এই প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে পিএসসির রথী-মহারথীরা জড়িত রয়েছেন; যারা খুবই ভিআইপি কর্মকর্তা। তবে তাদের বিষয়ে আরও কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনের আওতায় আনা হবে। ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের বিভিন্ন পরীক্ষায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক খবরের কাগজকে বলেন, প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাওয়া কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কিন্তু বহু বছর ধরে এসব চলছে। শুধু বিসিএস কেন, যেকোনো ধরনের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস করা বা হওয়া গুরুতর অপরাধ। সরকার বা দুর্নীতি দমন কমিশনের যে ভূমিকা রাখা দরকার, সেটা নেই। ফলে বিষয়টার সমাধান হচ্ছে না। সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে হবে।

দুর্নীতি রোধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব কাজে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যেসব তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, সেসব কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। এসব ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।