আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সারা দেশে ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচন বহুল কাঙ্ক্ষিত ও প্রতীক্ষিত। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন এক পরিস্থিতির মধ্যে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে রাষ্ট্রব্যবস্থা সমাজ ও রাজনীতিতে আবার গণতান্ত্রিক চর্চার অফুরন্ত সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা অনেকেরই। নতুন সরকার গঠনের নির্বাচন এবং গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারিত হবে। সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট নিয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভাষণ দেন। তিনি ভাষণে উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিধাহীনচিত্তে ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনারা দলে দলে সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দ্বিধাহীনচিত্তে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে। সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন। এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন।’ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে প্রত্যাশা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জাতির কাছে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন সব প্রস্তুতি শেষ করেছে। ১৬০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এসেছেন। ৪৫ হাজার দেশের পর্যবেক্ষক আছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিবিড়ভাবে এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন শুরু থেকেই স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। যেকোনো ব্যত্যয় শনাক্তে প্রযুক্তি ও থার্মাল লেন্সের ব্যবহার করা হবে।
নির্বাচন কমিশনে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। এ জন্য তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে মোট ৫০টি দল। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩। মোট নারী প্রার্থী ৮১ জন। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচনে কারচুপি ঠেকাতে প্রায় সব ভোটকেন্দ্রে বসানো হয়েছে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি)। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা। সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ সদস্য মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সংযত থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব বজায় রেখে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনকালীন ভোটকেন্দ্র যেন ভোটারদের জন্য আস্থা ও নিরাপত্তার জায়গা হয়ে ওঠে, সে ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। সহিংসতার রাজনীতি কখনো ভালো ফল বয়ে আনে না; কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারে না। তাই সহিংসতামুক্ত নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার জন্য সবার মধ্যে সহনশীলতা জরুরি। গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে দল-মতনির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হোক, এটাই প্রত্যাশা।