প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়নের অঙ্গীকার ‘কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে’- এ বিশ্বাস থেকেই কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এক মাস মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। এই অল্প সময়ে নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজে মনোযোগী হয়েছেন তিনি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড চালু, ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী ভাতা, কৃষিঋণ মওকুফ এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার।
দীর্ঘ ৪৮ বছর পর বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি। সত্তর ও আশির দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে উন্নয়ন বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, এখন তার সুযোগ্য পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতীতের সফল পরিকল্পনাগুলো পুনর্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। মূলত এ উদ্বোধন আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। বাংলাদেশে একসময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সফল উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। বাবার সেই ঐতিহাসিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী খাল খননের এ বিশাল কর্মযজ্ঞের ডাক দিয়েছেন বলে মনে করেন দলের নেতারা।
আগামী পাঁচ বছর দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির সমন্বয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের এ উদ্যোগকে পরিবেশবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে খাল পুনরুদ্ধার করা গেলে তা বাংলাদেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান ও রিজিয়নাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহম্মদ খান বলেন, নদীর সংযোগ ঠিক রেখে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু দলীয় পরিচয়ে কেউ যাতে খাল দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে জোর পদক্ষেপ নিতে হবে। খাল খননের পাশাপাশি জীবন-জীবিকার সংযোগ, খাল দখলকারীদের শাস্তি ও দূষণ রোধ নিশ্চিত করতে হবে।
আগামী মাস থেকে দেশের ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, মধ্যম পর্যায়ের কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে বলে অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। দীর্ঘদিন খাল ও নদী খনন না হওয়ায় সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষার পানি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। খাল পুনর্খননের মাধ্যমে সেই পানি ধরে রেখে সেচকাজে ব্যবহার করা গেলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এ ছাড়া কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। এসব শিল্প গড়ে উঠলে কৃষকদের পাশাপাশি তাদের সন্তানের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
যেকোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কিছুদিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সরকারের নীতি, দিকনির্দেশনা, অগ্রাধিকার এবং শাসনব্যবস্থার ধরন সম্পর্কে জনগণ প্রাথমিক ধারণা পেতে শুরু করে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক গতিশীলতা আনয়ন, আইনশৃঙ্খলার কার্যক্রম জোরদার, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং জনগণের আস্থা দৃঢ় করার লক্ষ্যে নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে সরকারের প্রথম এক মাসের কার্যক্রম জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে শুরু করেছে। কাজের জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং জনকল্যাণের প্রতি দৃঢ়সংকল্প ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে তিনি প্রতিফলন ঘটাতে শুরু করেছেন। যদি তার সরকার এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে তা রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে বর্ষায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা যাবে এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। দেশে খরা মৌসুমেও কৃষকদের যাতে সেচসুবিধা চালু থাকে, সেটাও এ কর্মসূচির মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রত্যাশা করছি, সরকারের খাল খনন কর্মসূচি কৃষকদের কৃষির উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।