ঢাকা ৭ শ্রাবণ ১৪৩১, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪

অ্যাথেনার সেমিনার : মাদকাসক্তি, অপরাধ নাকি মানসিক রোগ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:০৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:০৯ পিএম
অ্যাথেনার সেমিনার : মাদকাসক্তি, অপরাধ নাকি মানসিক রোগ
অ্যাথেনার পক্ষ থেকে অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল কে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ও অ্যাথেনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইফতেখার ই আলম সিদ্দিকী শোভন।

অ্যাথেনা লিমিটেড মানসিক ও মাদকাসক্তি চিকিৎসা এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ্রর উদ্যোগে ১০ জুলাই 'মাদকাসক্তি, অপরাধ নাকি মানসিক রোগ? এর প্রতিকার' শীর্ষক একটি গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই বৈঠকে মাদকাসক্তিকে অপরাধ বা নৈতিক সংকট হিসেবে না দেখে এটি একটি মানসিক রোগ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া, এই রোগের প্রতিকার ও মাদক নির্মূলের নানান দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন বক্তারা। 

মাদক নিয়ন্ত্রণে খেলার মাঠের গুরুত্ব তুলে ধরেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। 

তাজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো মাদক তৈরি হয় না। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ করে। তাহলে কেন আমরা মাদকের প্রবেশ পথগুলো বন্ধ করতে পারছি না? মাদকের প্রবেশ পথগুলো চিহ্নিত করতে হবে। একইসঙ্গে মাদক ব্যবসা বা মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মাদক নির্মূল করতে হবে।’

মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে মাদকের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব সম্পর্কে তথ্যসমূহ সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বও তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।  

অ্যাথেনা লিমিটেডের ৫ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই গোল টেবিল বৈঠক এর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য জারা জাবীন মাহবুব। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেন্টাল হেলথ কাউন্সেলর নুসরাত সাবরিন চৌধুরী।

প্যানেলিষ্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিশিষ্ট চিকিৎসাবিদ ডা. অরূপ রতন চৌধুরীসহ আরও অনেকে।  

প্রত্যেক বক্তাই মাদকের ক্ষতিকারক দিকগুলোর তুলে ধরার সাথে সাথে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে না দেখে তার চিকিৎসার উপর জোর দেয়ার বিষয় তুলে ধরেন তাদের বক্তব্যে। 

আলোচনার পাশাপাশি মাদকবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করার জন্য অ্যাথেনার পক্ষ থেকে অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল কে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ও অ্যাথেনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইফতেখার ই আলম সিদ্দিকী শোভন। 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্ট এর সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) অধ্যাপক ডা: মো. আজিজুল ইসলাম সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন।

দেশে প্রথমবার অপারেশন ছাড়া হার্টের অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৯ পিএম
দেশে প্রথমবার অপারেশন ছাড়া হার্টের অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হৃদযন্ত্রের রক্তনালি সুরক্ষিত (করোনারি প্রটেকশন) করে হৃদযন্ত্রে ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতিতে অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে হৃদযন্ত্রের চিকিৎসায় দেশে নতুন এক দিগন্তের সূচনা হলো। অপারেশন ছাড়াই অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন একটি জটিল পদ্ধতি। 

প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আফজালুর রহমানের নেতৃত্বে গত ১১ জুলাই এ সাফল্য আসে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আফজালুর রহমানের বর্তমান কর্মস্থল রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে এ চিকিৎসা হয়।

ডা. মো. আফজালুর রহমান রবিবার (১৪ জুলাই) খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই নিয়মিত ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতিতে হৃদযন্ত্রে কৃত্রিম ভালভ প্রতিস্থাপন করে আসছি। তবে হৃদযন্ত্রের প্রধান রক্তনালি সুরক্ষিত করে দেশে এবারই প্রথম আমরা সাফল্যের সঙ্গে অপারেশন ছাড়া হৃদযন্ত্রে অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন করলাম। এই চিকিৎসা নেওয়া রোগী সুস্থ আছেন। রোগীর বয়স ৭৫ বছর।’

ক্ষত হতে পারে যে কারও

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৯ পিএম
ক্ষত হতে পারে যে কারও

ত্বকে ক্ষত একটি সাধারণ সমস্যা। এটা যে কারও হতে পারে। ক্ষত হলে রক্তপাত এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বেশির ভাগ ক্ষতই ত্বকের ওপরের স্তরে হতে দেখা যায় এবং সেগুলো ক্ষুদ্র হয়। কোনো কোনো ক্ষত গুরুতর হয় এবং ত্বকের গভীরের টিস্যুকে প্রভাবিত করে। ওয়েব এমডি অবলম্বনে লিখেছেন আরাফাত বেলাল

যেকোনো ধরনের আঘাত থেকে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। এটা থেকে হালকা বা গুরুতর রক্তপাত হয়। আক্রান্ত অংশ নীলচে বা লালচে হয়ে যায়। আক্রান্ত অংশে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় সেখানে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।

কারণ
যখন ত্বকে কোনো কিছুর আঁচড় কেটে যায়, তখন যে অগভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাকে অ্যাব্রেশন বলে। ট্রমা বা কোনো বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে যে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাকে ল্যাকারেশন বলে। এ ছাড়া কোনো ধারাল বস্তু, যেমন ছুরির মাধ্যমে রেখার মতো যে খোলা ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাকে ইনসিজন বলে। কোনো সুচাল বস্তু যেমন নখ, সুচ বা দাঁতের মাধ্যমে (পশু বা মানুষের) ক্ষত হলে তাকে পাংচারড ক্ষত বলে। বাইরে থেকে তীব্র বেগে কোনো বস্তু যেমন বুলেট শরীরে প্রবেশ করলে, পেনিট্রেটিং টাইপ খোলা ক্ষতের সৃষ্টি করে।

চিকিৎসা
যদি ক্ষত থেকে রক্তপাত হতে থাকে, তাহলে তা বন্ধ করার জন্য পরিষ্কার ব্যান্ডেজ দিয়ে সামান্য চাপ দেওয়া হয়। সংক্রমণের আশঙ্কা কমাতে, ক্ষত সৃষ্টিকারী বস্তুকে ক্ষতস্থান থেকে অপসারণ করা হয় এবং ক্ষতস্থান ভালোভাবে ধোয়া হয়। ক্ষতস্থানে অবশিষ্ট কোনো ডেব্রিস বা ভগ্নাবশেষের অপসারণ করার জন্য স্টেরাইল সল্যুশন দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা হয়।

ক্ষতস্থানের ওপর অ্যান্টিবায়োটিক মলমের পাতলা আস্তরণ প্রয়োগ করা হয়। স্টেপল, স্টেরাইল ব্যান্ডেজ ড্রেসিং, সেলাই বা স্কিন অ্যাডেসিভ ব্যান্ডের সাহায্যে ক্ষতস্থান বন্ধ করা হয়। যদি শেষ ৫ বছরে টিটেনাসের ভ্যাকসিন না নেওয়া হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে টিটেনাস শট বা ইনজেকশন দেওয়া হয়। বিশেষত যেসব ক্ষত পশু বা মানুষের কামড়ে তৈরি হয়েছে, সেগুলোর জন্য টিটেনাসের ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি।

 কলি

সমস্যার নাম পটাশিয়ামের অভাব

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:০১ পিএম
সমস্যার নাম পটাশিয়ামের অভাব

পটাশিয়ামের অভাব বা ঘাটতি একটি বিরল অবস্থা, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোক্যালেমিয়া নামে পরিচিত। এই অবস্থায় শরীরে নানা ধরনের লক্ষণ এবং উপসর্গ দেখা দেয়। মাই উপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব

লক্ষণ এবং উপসর্গ
পটাশিয়ামের অভাবে প্রথম এবং সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হলো সারা শরীরে দুর্বলতা এবং ক্লান্তি। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে আছে খাবার হজমে সমস্যা। এ ছাড়া পেশিতে টান এবং আড়ষ্টতা, বুক ধড়ফড় করা (লক্ষণীয়ভাবে দ্রুত, অনিয়মিত এবং জোরালো হৃদস্পন্দন), শ্বাস নিতে সমস্যা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অসাড় অথবা ঝিঁঝি ভাব।

কারণ
নানান চিকিৎসাজনিত অবস্থা এবং ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে পটাশিয়ামের অভাব হতে পারে। এ ছাড়া ডায়রিয়া এবং বমির গুরুতর ঘটনা থাকলে, বিপুল পরিমাণ রক্ত শরীর থেকে বেরিয়ে গেলে, কিডনি খারাপ বা কিডনির বিকলতা দেখা দিলে, লিউকোমিয়া (ব্লাড ক্যানসারের একটি ধরন) হলে পটাশিয়ামের অভাব দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি হাঁপানি এবং এমফিসেমার ব্যবহৃত ওষুধের ফলে পটাশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে।

রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা
উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলো নিয়ে হাজির হলে চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতে পারেন। যেমন- রক্ত পরীক্ষা। এর সাহায্যে রক্তপ্রবাহে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ উপাদানের মাত্রা দেখা যেতে পারে।

হৃৎপিণ্ডের অনিয়মিত স্পন্দনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রামের (ইসিজি) পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। কারণ পটাশিয়ামের ঘাটতি হৃদস্পন্দনে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা এবং উপসর্গের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পরামর্শ দেবেন। যদি রক্তপ্রবাহে পটাশিয়ামের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে কম না হয়, তা হলে চিকিৎসক পটাশিয়ামের ভারসাম্য ফেরাতে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ অথবা পটাশিয়াম লবণযুক্ত সিরাপ দিতে পারেন।

যদি অবস্থা গুরুতর হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি দ্রুত হৃদস্পন্দনের সমস্যা অনুভব করেন, তবে তার (পুরুষ অথবা মহিলা) শিরায় পটাশিয়ামের সম্পূরক প্রদান করা হয়। পটাশিয়ামের ঘাটতির বিপদ এড়াতে যতটা সম্ভব মদ্যপান এড়িয়ে চলা উচিত এবং সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলা উচিত।

পটাশিয়ামের ঘাটতি মেটাতে যা খাবেন
 প্রতিদিন একটি করে কলা খেলেই পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। পুষ্টিবিদরা বলেন, মাঝারি মাপের একটি কলায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে। যা শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য যথেষ্ট।

 মিষ্টি আলুতে যথেষ্ট পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে।

ভিটামিন সির ঘাটতি পূরণ করতে শীতে কমলালেবু খুব ভালো একটা ফল। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, পটাশিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কমলালেবু। একটি কমলালেবুতে প্রায় ২৩০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে।

পুষ্টিবিদরা বলেন, নিয়মিত এক কাপ পালংশাক খেতে পারলে শরীরে পটাশিয়ামের অভাব হবে না। প্রায় ৮০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে এই শাকে।

 কলি

সুস্থ থাকার এক ডজন উপায়

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৫ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৫ পিএম
সুস্থ থাকার এক ডজন উপায়

গবেষণায় দেখা গেছে, আজীবন সুস্বাস্থ্যের গোপন চাবিকাঠি হলো ‘লাইফস্টাইল মেডিসিন’, যা খুবই সহজ। কেবল আপনার ডায়েটে কিছু স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনুন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন। সেই সঙ্গে কীভাবে নিজেকে স্ট্রেস-ফ্রি রাখতে পারবেন, সেটা শিখুন। অনকো ওয়েবসাইট অবলম্বনে  জানাচ্ছেন ফখরুল ইসলাম

নিজের সুস্বাস্থ্য কীভাবে বজায় রাখবেন তার সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া জরুরি। কয়েকটি সাধারণ ধাপ অনুসরণ করলে সহজেই শরীর সুস্থ ও ফিট রাখা সম্ভব। চলুন দেখে নেই সেগুলো।

ব্যায়াম
নিয়মিত শরীরচর্চা বার্ধক্য ঠেকাতে পারে। এটি দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে, রক্তচাপ স্বাভাবিক করে, চর্বিহীন পেশি উন্নত করে, কোলেস্টেরল কমায় এবং হাড়ের ঘনত্ব উন্নত করে।

বাড়ির চারপাশে জগিং করুন, বাড়ির বা প্রতিবেশীর বাচ্চাদের সঙ্গে পার্কে হাঁটুন, দড়ি লাফের অভ্যাস করুন বা খেলাধুলা করুন, হাইকিং পছন্দ হলে সেটাও করতে পারেন।

ব্যায়াম শরীরে এন্ডোরফিন রিলিজ করে, যা সামগ্রিকভাবে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে বাড়ায়। এভাবে নিয়মিত ব্যায়াম শুধু শারীরিকভাবে ফিট থাকতে সাহায্য করে না, বরং বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকিও কমায়।

সঠিক খাবার খান
সারা দিনে অন্তত পাঁচটি সবজি খাদ্যতালিকায় রাখুন। সেগুলো পছন্দমতো কাঁচা, সেদ্ধ বা ভেজে খেতে পারেন।
ডায়েটে শাকসবজির পরিমাণ বেশি হলে ফুসফুস, কোলন, স্তন, জরায়ু, খাদ্যনালি, পাকস্থলী, মূত্রাশয়, অগ্ন্যাশয় এবং ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমায়। সঠিক খাবার ওজন ঠিক রাখবে, লক্ষ্যে স্থির রাখতে সাহায্য করবে।

খাদ্যতালিকা থেকে কোমল পানীয়, ক্যান্ডি, চিপসের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিন। কারণ এগুলো শরীরে পুষ্টি জোগায় না, বরং শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি পৌঁছে দেয়।

চা এবং কফির আকারে প্রতিদিন কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রতিদিন দুই কাপের বেশি খেলে তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। 

পর্যাপ্ত পানি পান করুন
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা খুবই প্রয়োজন। পানি ডিটক্সিফাই করে, হজমে সাহায্য করে, কেমোথেরাপির ফলাফলে সাহায্য করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, পেশিকে শক্তি জোগায় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। চাইলে ডায়েটে ডাবের পানি এবং তাজা ফলের রসও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

মেডিটেশন
মেডিটেশন বা ধ্যানের সুদূরপ্রসারী এবং দীর্ঘস্থায়ী উপকারিতা রয়েছে। এটি মানসিক চাপ কমায় এবং আরও ভালোভাবে সংযোগ স্থাপন করতে দেয়, লক্ষ্যে স্থির রাখে এবং ব্যথা দূর করে। পর্যাপ্ত অনুশীলন, মননশীলতা, মস্তিষ্ককে স্থির রাখা এবং নিজের প্রতি সদয় হওয়া জীবনের অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যান
আপনি পুরোপুরি সুস্থবোধ করলেও আপনার শরীর সুস্থ আছে তো? নিজের জন্য সময় বের করে অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখুন। এটি যেকোনো রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমে যায়, শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ঘুমাতে সাহায্য করতে পারে।

সঠিক ওজন বজায় রাখুন
যদিও সবার শরীরের আকার, আয়তন, ওজন এক নয়; তবে শরীরের ওজন ঠিক আছে কি-না জানার জন্য ‘বডি মাস ইনডেক্স’-এর সাহায্য নিন।

ওজন কমানোর অনেক উপায় রয়েছে, তবে কোনটি আপনার জন্য সঠিক- সেটা বেছে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে আপনি কোনো ভালো ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিতে পারেন। 

রাতে ভালো ঘুমান
বিশ্রাম এবং মেডিটেশন, ঘুমানোর আগে এক গ্লাস উষ্ণ দুধ রাতে ভালো ঘুমাতে সাহায্য করতে পারে। ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগেই খাবার খাবেন না। শোবার ঘর অন্ধকার রাখুন এবং সমস্ত স্ট্রেস ঝেড়ে ফেলে ঘুমাতে যান। অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখাই ভালো।

অ্যালকোহল পান করবেন না
অ্যালকোহল শরীরে টক্সিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসের গতি অনিয়মিত করে তোলে, মস্তিষ্ক নিজেকে ত্বরান্বিত করে এবং লিভার এটিকে বিপাক করার চেষ্টা করে ওভারড্রাইভ করে।

এসব ছাড়াও আরও খারাপ দিক রয়েছে- যা মানসিক স্বাস্থ্য, শরীরের ওজন, ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। অ্যালকোহল শরীরে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।   

তামাক থেকে দূরে থাকুন
ধূমপান ক্যানসারের অন্যতম কারণ, যা চাইলে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। পুরুষদের মধ্যে ক্যানসারের ৫০ শতাংশ ধূমপানের সঙ্গে সম্পর্কিত। যদি এই অভ্যাস ছাড়তে সমস্যা হয়, তা হলে কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিতে পারেন। কেন ধূমপান ছেড়ে দেওয়া উচিত, চাইলে সে বিষয়ে অনলাইনে পড়ে নিতে পারেন।

ঘরে রান্না করুন এবং বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন
চেষ্টা করুন সহজ সিম্পল খাবার রান্না করে খেতে। তাতে সময়ও বাঁচবে, আবার শরীরের জন্যও উপকারী হবে। প্রয়োজনে ছুটির দিনে একবার বসে সপ্তাহের খাবার মেনু ঠিক করে নিন, তাতে আপনার সুবিধে হবে। পূর্ব পরিকল্পনা আপনাকে অতিরিক্ত ফ্যাট, চিনি এবং লবণযুক্ত খাবার এড়াতে সাহায্য করবে এবং আপনাকে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর রাখবে। 

দাঁতের কথা ভুলবেন না
মুখের স্বাস্থ্যও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মুখকে অবহেলা করলে দাঁতের সমস্যা এবং মাড়ির রোগ যেমন প্রদাহ এবং প্লাক তৈরি হতে পারে। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, দাঁতের সুস্বাস্থ্য হৃদরোগ, নিউমোনিয়া, অস্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থা, অ্যালজাইমার এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি কমায়। মুখের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক চিহ্ন, আলসার বা ক্ষত রয়েছে কি-না দেখুন। সেক্ষেত্রে ডেন্টিস্ট বা সাধারণ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মাঝেমধ্যেই বাইরে যান
আপনি যদি ডেস্কে কাজ করেন, তা হলে আপনার জীবনধারায় পরিবর্তন করার সময় এসেছে। কারণ পেশিগুলোকে নড়াচড়া করতে এবং নমনীয় করতে একটানা কাজ না করে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন এবং চলাফেরা করুন। অফিসের কাজের পর প্রয়োজনে জিমে জয়েন করুন। বাচ্চাদের বা প্রিয় পোষ্যকে নিয়ে পার্কে বেড়াতে যান। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলুন, সহকর্মীদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করুন।

কলি

 

জরায়ুমুখ ক্যানসারে আতঙ্ক নয়

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৩৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৩৯ পিএম
জরায়ুমুখ ক্যানসারে আতঙ্ক নয়

সারভাইকাল ক্যানসার বা জরায়ুমুখ ক্যানসার নারীদের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। সারা বিশ্বে নারীদের ক্যানসারের মধ্যে এটি তৃতীয় স্থানে রয়েছে। লিখেছেন অনকো ক্যানসার সেন্টারের মেডিকেল অনকোলজিস্ট ডা. রাজীভ জেনা, অনুলিখন ফারজানা আলম

জরায়ুমুখ ক্যানসার জরায়ুর মুখে, গর্ভাশয়ে বা জরায়ুর নিচের অংশে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে নিরাময় সম্ভব, নয়তো ক্যানসার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সঠিক সময় সারভাইকাল ক্যানসারের রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।

সারভাইকাল ক্যানসারের কারণ কী
সারভাইকাল ক্যানসারের প্রধান কারণ হিসেবে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ভাইরাস হলো প্রধান কারণ যা সারভাইকাল ক্যানসারের জন্য দায়ী। ভাইরাসটির অনেক ভ্যারিয়েন্ট আছে। এদের মধ্যে এইচপিভি ১৬ এবং ১৮, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সারভাইকাল ক্যানসারের কারণ।

ঝুঁকি কতটুকু
নারীদের অল্প বয়সে বিয়ে এই ক্যানসারের অন্যতম কারণ। একইভাবে একজন নারীর যদি একাধিক যৌনসঙ্গী বা সন্তান থাকে অথবা যদি পাঁচ বছরের বেশি জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি খেয়ে থাকেন তাহলে এই ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। পাশাপাশি ধূমপান করলেও ঝুঁকি থাকে। আর যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন যদি কারও এইচআইভি ইনফেকশন হয়ে থাকে তাদের সারভাইকাল ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

প্রাথমিক লক্ষণ ও উপসর্গগুলো
সারভাইকাল ক্যানসারকে তিনটি ধাপে ভাগ করা যায়। প্রিক্যানসারাস, আর্লি স্টেজ এবং লেট স্টেজ। প্রিক্যানসারাস অর্থাৎ এখন পর্যন্ত ক্যানসার হয়নি কিন্তু এমন একটা স্টেজে আছে যে ক্যানসার হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। প্রিক্যানসারাস এবং আর্লি স্টেজে অনেক সময় কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নাও থাকতে পারে। প্রধাণত যে লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো হলো- অস্বাভাবিক রক্তপাত, যদি দুটি মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলের মাঝেও ব্লিডিং হচ্ছে কিংবা মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে অথবা যদি মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলের সময় বেড়ে যায়। তাছাড়া যদি যৌন মিলনের পর ব্লিডিং হয়, মেনোপজের পর রক্তপাত, তীব্র গন্ধযুক্ত স্রাব ক্যানসারের লক্ষণ ও উপসর্গের মধ্যে পড়ে।

আরও কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন ওজন কমে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়া, ক্লান্তি, দুর্বলতা। এ ছাড়া যদি রোগটি অনেক ছড়িয়ে পড়ে তখন ব্যথা হতে পারে। রোগটি যদি নিকটবর্তী অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, যেমন মূত্রথলিতে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে মূত্রথলি সম্পর্কিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা। একইভাবে পেছনে রেকটাম আছে সেখানে যদি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে রেকটামে ব্লিডিং হতে পারে বা কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।

ক্যানসারের স্টেজগুলো কী কী 
সারভাইকাল ক্যানসারের রোগটি কোথায় আছে এবং কতদূর ছড়িয়ে পড়েছে তার ওপর নির্ভর করে স্টেজিং করা হয়। স্টেজ হিসেবে ১, ২, ৩, ৪ এভাবে ভাগ করা হয়েছে। স্টেজ-১ হচ্ছে যদি শুধু সার্ভিক্সে রোগটি থাকে। স্টেজ-২ ও ৩ হলো যদি সার্ভিক্স থেকে বাইরে চলে গেছে কিন্তু পেলভিক রিজিওনের বাইরে চলে যায়নি। স্টেজ-৪-কে ভাগ করা হয়েছে স্টেজ-৪-এ এবং স্টেজ-৪-বি। স্টেজ-৪-এ হচ্ছে রোগ কাছাকাছি অঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে আর স্টেজ-৪-বি হচ্ছে যখন রোগ অনেক দূরে ছড়িয়ে গেছে।

রোগ নির্ণয় যেভাবে
সারভাইকাল ক্যানসার প্রিক্যানসারাস স্টেজেও থাকতে পারে অর্থাৎ এখনো ক্যানসার হয়নি কিন্তু হওয়ার চান্স বেশি। এ রকম ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আলসার দেখা যায় ন। তখন কল্পস্কোপ দিয়ে কিছু কেমিক্যালস যেমন অ্যাসিটিক অ্যাসিড, লুগলস আয়োডিন দিলে কিছু রং পরিবর্তন হয়। তখন ওই জায়গা থেকে বায়োপসি নিয়ে ডায়াগনোসিস করলে রোগ ধরা পরে। 
অন্যদিকে যদি ভিজুয়াল টিউমার বা আলসার থাকে, তাহলে সেখান থেকে স্যাম্পল টিসু নিয়ে বায়োপসি করা হয়। এই বায়োপসি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ক্যানসার আছে বা নেই।

ক্যানসারের চিকিৎসা
সারভাইকাল ক্যানসার কোন স্টেজে আছে, তার ওপর নির্ভর করছে চিকিৎসা। যদি প্রিক্যানসারাস অর্থাৎ ক্যানসার এখনো হয়নি স্টেজে থাকে, তাহলে ডাক্তার থারমাল অ্যাবলেশন, ক্রায়োথেরাপি, লুপ ইলেকট্রোসার্জিক্যাল একসিশেন প্রসিডিউরের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

আর্লি স্টেজে সারভাইকাল ক্যানসারের দুটি অপশন আছে। সার্জারি করা যায় অথবা রেডিওথেরাপি দেওয়া যায়। রোগটি যদি স্থানীয়ভাবে অ্যাডভান্স হয় তাহলে রেডিওথেরাপির সঙ্গে কেমোও দিতে হয়। এ ছাড়া ব্রাকিথেরাপিও দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া যদি পুরো অ্যাডভান্স, স্টেজ-৪-বি হয়, রোগটি অন্য জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ সার্জারি, রেডিওথেরাপি সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে কেমোথেরাপি দিতে হয়। এ সময় টার্গেটেড থেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপিরও অপশন আছে।

প্রতিরোধ
সারভাইকাল ক্যানসার প্রতিরোধ দুটি উপায়ে করা যায়। প্রথম হচ্ছে এইচপিভি ভাইরাসের টিকা নেওয়া। এটা এক ধরনের প্রাথমিক প্রতিরোধ। টিকাটি ৯ থেকে ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে।

প্রতিরোধের দ্বিতীয় উপায় হলো স্ক্রিনিং। রোগটি হয়েছে কি না জানতে একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্ক্রিনিং করে দেখতে হয়। ফলে রোগটি বেড়ে যাওয়ার আগেই ধরে ফেলা সম্ভব হয় এবং চিকিৎসা করা যায়। এটি খুবই কার্যকরি পদ্ধতি। কারণ দেখা গেছে, সারভাইকাল ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রিক্যানসারাস থেকে ক্যানসার হতে মোটামুটি ১০ থেকে ২০ বছর লাগে। যদি নিয়মিত ফলো করা যায় তাহলে ক্যানসারটা প্রিক্যানসারাস বা আর্লি স্টেজে নির্ণয় করা সম্ভব। তাতে রোগী ভালো চিকিৎসা পান এবং রোগীর আয়ু অনেকটা বেড়ে যায়।

কলি