ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ৪টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন এমপি আমির হামজা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক নিশ্চিত আশ্রয় ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর গ্রেপ্তার টেকনাফে আঘাতপ্রাপ্ত মা হাতি লোকালয়ে, উদ্ধারে বন বিভাগের তৎপরতা ঝিনাইদহে দুর্নীতি বিরোধী চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা মিরপুরে মাদরাসার সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৩ ইংল্যান্ড দলের চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার জাপানিজ সমর্থকরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন? জামালপুরে মানববন্ধনে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাদকের আখড়া মুন্সীগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও তার মাকে হত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১ এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ ফরিদপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান
Nagad desktop

মধুপুরের আনারস: ২০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৫, ০১:০৪ পিএম
মধুপুরের আনারস: ২০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা
টাঙ্গাইলের বাজারে উঠেছে মধুপুরের আনারস। ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের বাজারে উঠেছে জিআই (জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন) স্বীকৃত মধুপুরের আনারস। চাহিদা বেশি হলেও লাভ পাচ্ছেন না চাষিরা। সারের দাম বেশি হওয়ায় খরচ উঠছে না তাদের। পাইকারি বিক্রিই বেশি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে এই আনারস। চাষিরা চান প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। কৃষি বিভাগ জানায়, আনারস থেকে খাদ্যপণ্য তৈরির কারখানা গড়ার পরিকল্পনা আছে। চলতি মৌসুমে ২০০ কোটি টাকার বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।

গারোবাজার গ্রামের আনারস চাষি বিশ্বাস শেখ জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৪ বিঘা জমিতে আনারস চাষে লাখ টাকার বেশি খরচ করেছেন। ক্যালেন্ডার জাতের প্রতিটি আনারস বিক্রি করছেন ১৫ থেকে ৪০ টাকায়। কিন্তু সারসহ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তেমন লাভ হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘সারের দাম অনুযায়ী আনারসের দাম পোষায় না। যদিও গতবারের চেয়ে এবার দাম একটু বেশি, তাও তেমন লাভ নেই। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যান, তাই খুচরার চেয়ে পাইকারি বিক্রিই বেশি হয়।’

প্রান্তিক চাষিরাও একই হতাশা জানিয়ে বলেন, ‘আনারস চাষিদের জন্য যদি সারের দামটা একটু কমিয়ে রাখা হতো, তাহলে ভালো হতো। আনারসের যে দাম, আর সারের যে দাম- এ দামে কৃষকের আসলে পোষায় না।’ সরকারের কাছে তাদের দাবি, ‘সারের দাম কমাতে হবে।’

আনারস ব্যবসায়ীরা জানান, টাঙ্গাইলের আনারস চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তাদের মতে, ‘দাম এখন কিছুটা কম। তবে বাজারে আমসহ অন্যান্য ফল কমে গেলে আনারসের দাম বাড়বে।’

গারোবাজারে প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ পিস আনারস। স্থানীয়ভাবে বড় ও খুচরা ব্যবসায়ী মিলিয়ে আছেন প্রায় ৩০০ জন। কিন্তু সঠিকভাবে বাজারজাতকরণের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করে না বলে জানান তারা। এক আনারস ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা যাতে সঠিকভাবে আনারস বাজারজাত করতে পারি, সে বিষয়ে কেউ কোনো পরিকল্পনা নেয়নি।’

রাজশাহী থেকে আসা এক আনারস ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের জেলায় আমের চাহিদা অনেক, তবে আনারসের তেমন চাষ নেই। তাই মধুপুর থেকে কিনে এনে বিক্রি করি। এখানকার আনারস দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে ভালো ব্যবসার পরিকল্পনা করছি।’
আকাশ চন্দ্র নামে টাঙ্গাইল শহর থেকে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘মধুপুরের দিকে গেলে বাড়ির লোকজন বলে, আনারস আনতেই হবে। তারা শুধু মধুপুরের আনারস খায়। কারণ এখানে ফরমালিন দেওয়া হয় না, খেতে ভালো লাগে।’

তবে গারোবাজারের ইজারাদার জুলহাস উদ্দিন ভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আগে আনারস প্রাকৃতিকভাবে পাকত। ফলে ফল মিষ্টি হতো। কিন্তু এখন অনেকেই ফরমালিন ব্যবহার করছে, এতে গুণগত মান কমে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাজারে দেশের প্রায় ৪০টি জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন। মধুপুরের আনারস সারা দেশে চাহিদাসম্পন্ন।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিআই স্বীকৃতি পাওয়া আনারসের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আজিজুল হক বলেন, ‘আনারসের জিআই স্বীকৃতি একটি বড় অর্জন। টাঙ্গাইলের তিনটি পণ্য আনারস, চমচম ও তাঁতের শাড়ি-এই স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন আনারসকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের বিশেষ নজর দিতে হবে।’

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, ‘সরকারিভাবে আমাদের আনারস নিয়ে পরিকল্পনা আছে। সিজনের সময় অতিরিক্ত আনারসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আনারস থেকে খাদ্যদ্রব্য তৈরির কারখানা করার পরিকল্পনা আছে।’

চলতি মৌসুমে জেলায় ৭ হাজার ৭৯৪ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৭২ হাজার ৭৯০ টন আনারস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গারোবাজার, জলছত্র, মোটেরবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ১৫ লাখ পিসের বেশি আনারস। দৈনিক এ বাণিজ্যের পরিমাণ ৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, মৌসুম শেষে আনারস বেচাকেনা থেকে অন্তত ২০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে। তবে লাভবান হতে হলে দরকার সঠিক বাজারব্যবস্থাপনা, সারের দাম কমানো এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন। আর এসব বাস্তবায়নেই টিকে থাকবে মধুপুরের আনারসের ঐতিহ্য।

দিনাজপুরের চাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’
লিচুচাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের শীর্ষ লিচু উৎপাদন এলাকা দিনাজপুরে এবার চায়না-থ্রি জাতের লিচুর ফলন তুলনামূলক ভালো হলেও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, শিলাবৃষ্টি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উদ্বেগে রয়েছেন চাষিরা। এ পরিস্থিতি, বাজার দর, উৎপাদন খরচ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার লিচুচাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক খবরের কাগজের রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান এনায়েত করিম।

দৈনিক খবরের কাগজ : কত বিঘা জমিতে লিচুর চাষ করেছেন?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: গত বছর প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে লিচুর চাষ করেছিলাম। এ বছর সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২১ বিঘা হয়েছে। আমার বাগানে চায়না-থ্রি, বোম্বাই, মাদ্রাজি ও বেদানা জাতের লিচু রয়েছে। তবে এ বছর বেদানা, মাদ্রাজি ও বোম্বাই জাতের গাছে খুব একটা মুকুল আসেনি। অন্যদিকে চায়না-থ্রি জাতের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন কেমন হয়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: চায়না-থ্রি জাতের ফলন গত বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়ার কারণে কিছু ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির ফলে ফল ঝরে গেছে এবং পরিচর্যার খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ রয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: আবহাওয়ার প্রভাব কতটা পড়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: আবহাওয়ার প্রভাব অনেক বেশি ছিল। কখনো প্রচণ্ড দাবদাহ, আবার হঠাৎ বৃষ্টি হয়েছে। এতে মুকুল ঝরে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে পুড়েও গেছে। ফলে বাড়তি পরিচর্যা করতে হয়েছে। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে বেশি কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: রোগবালাইয়ের আক্রমণ কেমন ছিল?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: আবহাওয়ার কারণে রোগবালাইয়ের চাপ অন্য বছরের তুলনায় বেশি ছিল। তাই নিয়মিত নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। তা না হলে ফলনের ক্ষতি আরও বেশি হতো।

দৈনিক খবরের কাগজ: প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ কত হয়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: প্রতি বিঘায় গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন লিচু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০ থেকে ১১ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০ লিচু প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রতি বিঘা থেকে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন: ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’

দৈনিক খবরের কাগজ: বর্তমান বাজার দরে বিক্রি করে লাভ হচ্ছে, নাকি লোকসান?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: এখনো বাজারে চাহিদা কিছুটা কম। ঈদের কারণে ক্রেতা কম ছিলেন। তবে ঈদ শেষ হওয়ায় মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় চাহিদা বাড়ছে। ফলে দামও বাড়তে শুরু করেছে। এতে কৃষক কিছুটা লাভবান হবে।

দৈনিক খবরের কাগজ: লিচু কোথায় বিক্রি করছেন?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: বেশির ভাগ লিচু বাগান থেকেই বিক্রি হয়। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগানে আসেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ক্রেতারাও বাগান পরিদর্শন করে লিচু কিনে নিয়ে যান। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করছেন।

দৈনিক খবরের কাগজ: সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: সরকার যদি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করে, তাহলে কৃষকরা একসঙ্গে সব ফল বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। এতে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব হবে। কেননা, লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি। পাশাপাশি লিচু ও আম রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে হবে। আর কৃষকদের ব্যবহৃত বালাইনাশক যেন সঠিক দামে ও মানসম্মতভাবে পাওয়া যায়, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন। 

পাবনার লিচুবাগান মালিক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’
বাগান মালিক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনা জেলার লিচু উৎপাদনকারী উপজেলাগুলোর মধ্যে কয়েকটি অঞ্চলে এ বছর ভালো ফলনের আশা জাগলেও শেষ মুহূর্তে বৈরী আবহাওয়া বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে এনেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, রোদ ও বৃষ্টির প্রভাবে লিচুর একটি বড় অংশ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে দাম থাকলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ মিলছে না। দৈনিক খবরের কাগজকে এমন বাস্তবতার কথা জানান পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার শাহপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের বাগান মালিক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজশাহী ব্যুরো প্রধান এনায়েত করিম।

খবরের কাগজ: গত বছরের তুলনায় এবার ফলন কেমন হয়েছে?

হামিদুল ইসলাম: গত বছর তেমন ফলন ছিল না। এবার শুরুতে ব্যাপক ফলন ছিল। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় অনেক লিচু পুড়ে ও নষ্ট হয়ে গেছে।

খবরের কাগজ: কোন জাতের লিচু বেশি চাষ করেছেন এবং কেন?

হামিদুল ইসলাম: আমাদের বোম্বাই জাতের লিচু বেশি। আগে থেকেই বোম্বাইয়ের গাছ বেশি লাগানো ছিল, তাই এখন বোম্বাইয়ের পরিমাণ বেশি।

খবরের কাগজ: আবহাওয়া উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে?

হামিদুল ইসলাম: প্রভাব তো পড়েছেই। অনেক লিচু নষ্ট হয়েছে। আমাদের ছোট একটি গ্রামেই আনুমানিক ৬ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

খবরের কাগজ: রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ কেমন ছিল?

হামিদুল ইসলাম: পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে স্প্রে করা হয়েছিল। তেমন আক্রমণ ছিল না। মূল ক্ষতি হয়েছে আবহাওয়ার কারণে।

খবরের কাগজ: শ্রমিক ও পরিচর্যার খরচ কতটা বেড়েছে?

হামিদুল ইসলাম: শ্রমিকের দৈনিক মজুরি প্রায় ১ হাজার টাকা। একটি ঝুড়ির দাম ১২০ টাকা। ঢাকায় পাঠাতে গাড়ি ভাড়া বাড়তি। এসব খরচ যোগ করলে অনেক চাপ পড়ে।

খবরের কাগজ: বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে লাভ হচ্ছে?

হামিদুল ইসলাম: ঢাকার বাজারে গত দুই-তিন দিন লাভ তো নেই-ই, উল্টো বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে এমন অবস্থা। যারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, তাদেরও খুব বেশি কিছু থাকছে না।

খবরের কাগজ: পাইকাররা কি ন্যায্য দাম দিচ্ছেন?

হামিদুল ইসলাম: পাইকাররা বাজার অনুযায়ী দাম দিচ্ছেন। তারা যদি নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে পরের দিন আর আসবেন না। পরিস্থিতি সবার জন্যই কঠিন।

খবরের কাগজ: এখন কোথায় বিক্রি করছেন–বাগানে নাকি বাজারে?

হামিদুল ইসলাম: এখন মূলত বাগান থেকেই বিক্রি হচ্ছে। সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

খবরের কাগজ: বাগানে কত দামে বিক্রি হচ্ছে?

হামিদুল ইসলাম: মানভেদে ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ৪০০-২ হাজার ৫০০, এমনকি ২ হাজার ৮০০ টাকাও হয়েছে। হাটে সাধারণত ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০-২ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে।

খবরের কাগজ: সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

হামিদুল ইসলাম: সরকার হয়তো এই ক্ষতি পুরো বহন করবে না। কিন্তু কৃষক ও বাগান মালিকরা বড় চাপের মধ্যে আছেন। আমাদের এলাকায় যে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, তা সামলানো সহজ নয়। কোনো সহায়তা বা কার্যকর উদ্যোগ থাকলে কৃষকের উপকার হবে।

খবরের কাগজ: চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলুন। 

হামিদুল ইসলাম: এ বছর লিচুর ফলন শুরুতে আশাব্যঞ্জক হলেও শেষ সময়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে চিত্র বদলে গেছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, পরিবহন ব্যয়ও চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে বাজারে ভালো দাম দেখালেও প্রকৃত লাভের অঙ্ক ছোট হয়ে আসছে। কৃষক ও বাগানমালিকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং বাড়তি উৎপাদন ব্যয় সামাল দেওয়া।

নওগাঁয় চড়ামূল্যে কিনতে হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগ শঙ্কায় আমচাষিরা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
নওগাঁয় চড়ামূল্যে কিনতে হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগ শঙ্কায় আমচাষিরা
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁয় নিরাপদ আম উৎপাদনের অন্যতম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং। যেখানে  আমকে একটি বিশেষ ব্যাগে ঢেকে রাখা হয়। ফলে আম পোকামাকড়ের আক্রমণ  থেকে রক্ষা পায়। কীটনাশকের ব্যবহার না করে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি  ব্যবহার বেশ কয়েক বছর ধরেই জনপ্রিয় উত্তরের জেলা নওগাঁয়।

প্রতিবছরই আমের নতুন নতুন বাগান বাড়ছে এই জেলায়। সেই সাথে তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্যোক্তাও। বেশ কিছু তরুণ উদ্যোক্তা রপ্তানির উদ্দেশ্যে এই ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব আমের সিংহভাগই রপ্তানি করা হয় বিদেশে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই এই ব্যাগের চাহিদা ও দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ বছর চাহিদামতো ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় আম ব্যাগিং করতে পারেননি নওগাঁর অনেক চাষী। আবার যতটুকু ব্যাগ মিলছে, তাও কিনতে হয়েছে দ্বিগুন দামে।

আম চাষিরা জানান, গতবছর প্রতিটি ফ্রুট ব্যাগের দাম পড়েছিল ৩ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু এবার তা কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সায়। আবার বাড়তি দাম দিয়েও ব্যাগ কিনতে পারেননি অনেক চাষী। 

নওগাঁর পোরশা উপজেলার ছাতড়া গ্রামের তরুন আম চাষি তানিম মাহমুদ ও ফয়সাল এবার যৌথভাবে ১৬৮ বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন। যেখানে বারি-৪ আম্রপালি ও গৌঢ়মতিসহ বিভিন্ন জাতের আম গাছ রয়েছে। এরমধ্যে ১৬ একর জমিতে সাড়ে ৩ লাখ আম ফ্রুট বেগিং করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু চাহিদামতো ব্যাগ পাননি তারা। 

পার্শ্ববর্তী সাপাহার উপজেলার সবচেয়ে বড় উদ্যোক্তা সোহেল রানা। প্রতিবছর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে আম রপ্তানি করে থাকেন। তিনি জানান, এ বছর ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা ছিলো ৩ লাখ পিস। এর বিপরীতে মাত্র ১৫ হাজার পিস কিনতে পেরেছি। তাও আবার চড়া দামে কিনতে হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ব্যবহার করা ৪৫ হাজার পিস ফ্রুট ব্যাগ ছিল। এ নিয়ে মোট ৬০ হাজার পিস ব্যানানা ম্যাংগো আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। কিছু আম আছে ফ্রুট ব্যাগ ছাড়া ভাল হয় না। বিশেষ করে গৌড়মতি আমে ফ্রুট ব্যাগিং না করলে দাগ পড়ে এবং পোকা লাগে। এ কারণে চাহিদামতো ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হতে হলো।

আমচাষিরা বলছেন, এপ্রিল মাস থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করার সময়। এ বছর ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় অনেক চাষী আমে ব্যাগিং করতে পারেননি। খোলা আম বাজারে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি হয়ে থাকে। তবে ফ্রুট ব্যাগিং করা আম ক্রেতাদের কাছে চাহিদা থাকায় বাজারে প্রকারভেদে ৭-৮ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি হয়ে থাকে।

এদিকে, ফ্রুট ব্যাগ স্বল্পতার কারণে গত ৩-৪ বছর আগে যেসব গাছ রোপন করা হয়েছিল সেসব গাছে এবার আম এসেছে। এতে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা আরও বেড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। যা থেকে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৮৬ হেক্টর জমির আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের ১ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ পিস আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। গত বছর সাপাহার ও পোরশা উপজেলা থেকে বিভিন্ন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে ২৮৪ টন আম্রপালি, খিরসাপাত ও ব্যানানা ম্যাংগো আম মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানি হয়েছিল।

ফ্রুট ব্যাগ স্বল্পতা ও দাম বৃদ্ধির কথা শিকার করছেন নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, খুব দ্রুতই কৃষকদের মাঝে উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে আম উৎপাদনের আগ্রহ বাড়ছে। এ কারনে রপ্তানি পরিসর বাড়াতে রপ্তানিযোগ্য এবং কীটনাশকমুক্ত আম ‍উৎপাদন ও ভাল দাম পেতে কৃষকদের মাঝে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা বেড়েছে। শেষ সময়ে এসে আমচাষিদের কাছে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যেসব কোম্পানি ফ্রুট ব্যাগ সরবরাহ করেন তারা দিতে পারেননি।

হারুন চৌধুরী/খাদিজা রুমি/

চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয়

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয়
মাদারীপুরের সফল আম চাষি। ছবি: খবরের কাগজ

চাকরির পেছনে দীর্ঘদিন ছুটেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি মাদারীপুরের তরুণ শাহান্দার হাওলাদার। তবে হতাশ না হয়ে তিনি বেছে নেন কৃষি পেশা। ইউটিউব দেখে আধুনিক আমচাষের কৌশল শিখে গড়ে তোলেন বাণিজ্যিক আমবাগান। বর্তমানে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের পূর্ব মাদ্রা গ্রামের বাসিন্দা শাহান্দার হাওলাদার ২০১৫ সালে লেখাপড়া শেষ করার পর দীর্ঘদিন চাকরির চেষ্টা করেন। একের পর এক চেষ্টা করেও চাকরি না পাওয়ায় তিনি বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেন। এ সময় ইউটিউবে আধুনিক কৃষি ও আম চাষবিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে প্রায় চার একর জমির ওপর গড়ে তোলেন একটি বাণিজ্যিক আমবাগান। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হলেও ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সফলতা অর্জন করেন তিনি।

বর্তমানে তার বাগানে রুপালি ও হিমসাগর জাতের উন্নতমানের আম উৎপাদিত হচ্ছে। বাগান পরিচর্যা ও অন্য কাজে প্রতিদিন প্রায় ১২ জন শ্রমিক কাজ করছেন। ফলে নিজের স্বাবলম্বীর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মাদারীপুর জেলায় ৩৫৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৭৮ মেট্রিক টন উৎপাদন ধরে জেলার মোট আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ২৩৪ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার আম বাণিজ্য হতে পারে বলে আশা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।

মাদ্রা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক রাকিব হাসান  জানান, শাহান্দার এলাকার তরুণদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে চাকরির পেছনে না ছুটেও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে সফল হওয়া সম্ভব।

আমবাগান মালিক শাহান্দার হাওলাদার বলেন, ‘চাকরি না পেয়ে একসময় অনেক হতাশ ছিলাম। পরে ইউটিউব থেকে আমচাষের বিভিন্ন বিষয় শিখে কাজ শুরু করি। প্রথম দিকে অনেক কষ্ট ছিল। তবে এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাদারীপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ শাশ্বতী ছন্দা দেবনাথ বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর মাদারীপুরে গত বছরের তুলনায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। শাহান্দার হাওলাদার আমাদের এখান থেকে পরামর্শ নিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, আম চাষ অনেক লাভজনক। যারা বেকার আছেন তারা ইচ্ছা করলে আমাদের এখান থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে বাগান করতে পারেন। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে থাকে।

আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা
ছবি: মুজিবনগর আম্রকাননে আম সংগ্রহের কাজ করা কয়েকজন মৌসুমি শ্রমিক

সকাল পার হতে না হতেই আমবাগানের ভেতর শোনা যায় মানুষের হাঁকডাক। কেউ গাছের মগডালে, কেউ দড়ির লিফটে ঝুড়িভর্তি আম নামাচ্ছেন। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকরা সেই আম বাছাই করে সাজিয়ে রাখছেন ক্যারেটে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজের সমুদ্রে মানুষ আর ফলের এক মৌসুমি উৎসব।

আমের জেলা বলতে দেশের মানুষ প্রথমে রাজশাহীর নাম নিলেও স্বাদের প্রশ্নে মেহেরপুরের চাষিরা কারও কাছে মাথা নত করতে রাজি নন। এ জেলার মাটির গুণ, আবহাওয়া আর পরিচর্যার কারণে এখানকার আমের আলাদা মিষ্টতা ও ঘ্রাণ রয়েছে বলে দাবি আম চাষিদের। সেই আম এখন গাছ থেকে নামানোর মহাযজ্ঞে ব্যস্ত প্রায় এক হাজার মৌসুমি শ্রমিক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় ২ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। জেলার গাংনী, মুজিবনগর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বাগানগুলোতে আম সংগ্রহের ব্যস্ততা  চোখে পড়ার মতো। 

মুজিবনগর আম্রকাননে আম সংগ্রহের কাজ করেন মৌসুমি শ্রমিকরা। শ্রমিকরা সাধারণত ৮ থেকে ১০ জন মিলে একটি দল গঠন করেন। প্রতিটি দলের একজন দলনেতা থাকেন। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। দলনেতারা পান ৭০০ টাকা। পাশাপাশি দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করতে হয় বাগান মালিককে। তবে নগদ মজুরির বাইরেও রয়েছে আরেকটি আকর্ষণ। প্রতিদিন প্রত্যেক শ্রমিক চার কেজি করে আম পান।

মেহেরপুর জেলা শহরের শ্রমিক বাবু হোসেন বলেন, আমের মৌসুম এলেই আমরা দল বেঁধে বাগানে কাজ করি। গাছে উঠতে কষ্ট হয়, ঝুঁকিও আছে। তবে মজুরির সঙ্গে যে চার কেজি আম পাই, সেটাও বড় পাওয়া। কিছু বাড়িতে রাখি, কিছু বিক্রি করি।
একই দলের শ্রমিক আবদুস সাত্তারের মুখে অন্য কথা। তিনি হেসে বলেন, গাছে উঠলে কোন্ আমটা সবচেয়ে সুন্দর, সেটাই আগে চোখে পড়ে। নিজেদের ভাগের জন্য ভালো আমগুলো আলাদা করে রাখি। এটা অনেক দিনের নিয়ম। তবে মালিকের ক্ষতি করে নয়।

গাংনী উপজেলার একাধিক বাগানের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, আম পাকার সময় দেরি করার সুযোগ নেই। এক দিনে যে পরিমাণ আম নামাতে হয়, তা শ্রমিক ছাড়া সম্ভব নয়। মজুরি, খাবার, আম সব মিলিয়ে খরচ হয়। কিন্তু সময়মতো আম না তুলতে পারলে লোকসান আরও বেশি।

বাগান মালিকদের মতে, দক্ষ শ্রমিকের অভাব এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কারণ গাছের উচ্চতা, ফলের পরিমাণ এবং আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে কাজ করতে হয় তাদের।

মেহেরপুরের আম চাষিদের দাবি, উৎপাদনে রাজশাহী দেশের শীর্ষে থাকলেও স্বাদের বিচারে মেহেরপুরের আমের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বিশেষ করে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও বিভিন্ন দেশিজাতের আমের চাহিদা দেশের বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে।

বাগানের ছায়ায় দাঁড়িয়ে শ্রমিকরা যখন ঝুড়ি ভরছেন, তখন দূরে ট্রাকে উঠছে সদ্য পাড়া আম। কয়েক সপ্তাহের এই মৌসুমে আম শুধু ফল নয়, মেহেরপুরের হাজারও মানুষের জীবিকারও নাম। গাছের মগডাল থেকে বাজার পর্যন্ত সেই যাত্রার নেপথ্যে রয়েছেন এক হাজারের মতো মৌসুমি শ্রমিক। যাদের ঘামে মিষ্টি হয়ে ওঠে মেহেরপুরের আমের গল্প।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, হিমসাগর, বোম্বাই, ল্যাংড়া, আম্রপালি ছাড়াও ১২ মাস ধরে এমন আমবাগানও তৈরি হচ্ছে। ফলে আগামীতে দেশে ১২ মাসই আম পাওয়া যাবে। জেলায় ২ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। গত মৌসুমে জেলায়  ৩৮ হাজার ১৭৭ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিল।  সূত্র: বাসস