মাগুরায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু ন্যায্য দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। দালালদের দৌরাত্ম্য ও খরচ বৃদ্ধিতে লোকসানের ভয় বাড়ছে। কৃষকরা চাইছেন, সরকার যেন সরাসরি পাট কেনে। বাজার মনিটরিং ও নির্ধারিত হাট চালুর দাবি তুলেছেন তারা। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ফলন ভালো হয়েছে, এখন দরকার বাজারে স্থিতিশীলতা। কৃষকরা মনে করেন, ন্যায্য দাম না পেলে পাট চাষে আগ্রহ কমবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মাগুরা জেলায় ৩৪ হাজার ৬৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মাগুরা সদর ১০ হাজার ২০০ হেক্টর। শ্রীপুরে ৯ হাজার ১০০ হেক্টর। মহম্মদপুরে ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর। শালিখায় ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর।
জেলার কৃষকরা জানান, প্রতিবছর দেখা যায়, পাটের ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম পড়ে যায়। দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভের টাকা কাড়লেও কৃষকরা পড়েন লোকসানে। এ বছরও কি সেই পরিণতি হবে- তা নিয়েই দোটানায় রয়েছেন সবাই। কৃষকরা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি- সবকিছুর দাম বেড়েছে। এই খরচের ভার বইতে গিয়ে লাভের সুযোগ সংকুচিত হয়ে যায়। আর যদি বাজারে ন্যায্য দাম না মেলে, তাহলে সব পরিশ্রম বৃথা যাবে।
নালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমি দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। ফলন বেশ ভালো। গতবারও কিন্তু ভালো ফলন হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাজারে দাম পাইনি। দালালরা কম দামে কিনে নেয়। এবারও যদি এমন হয়, তাহলে আমি বড় ধরনের লোকসানে পড়ব।’
ওক্কুরপাড়া এলাকার কৃষক শৈলেন শিকদার বলেন, ‘জমির পাট কেটে পাশের খালে জাগ দিয়েছি। শ্রমিক খরচ, সার, বীজ- সবকিছু মিলিয়ে খরচ বেড়েছে। সরকার যদি দাম ঠিক না রাখে, তাহলে মূলধনই উঠে আসবে না।’ একই কথা জানালেন কানুটিয়া গ্রামের কৃষক আকরাম হোসেন। তিনি জানান, ‘প্রতিবছর পাট চাষ করি। এবার ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে। কিন্তু লাভ-লোকসান সব নির্ভর করছে বাজারদরের ওপর। সরকার যদি বাজার নিয়ন্ত্রণ না করে, তাহলে এই পরিশ্রমের কোনো দাম থাকবে না।’
মাগুরার কৃষকরা বলছেন, সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পাট কিনত, তাহলে দালালদের দৌরাত্ম্য কমত। একই সঙ্গে তারা চান
সরকারিভাবে নির্দিষ্ট হাট চালু করা হোক। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হোক। আঠারো খাদা গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘পাট হচ্ছে সোনালি আঁশ। কিন্তু আমরা যারা চাষ করি, তারা পাই না সোনালি দাম। বাজারে যদি শৃঙ্খলা না থাকে, তাহলে এই চাষ ধরে রাখা কঠিন হবে।’ তবে কৃষকরা বলছেন, শুধু ভালো ফলনে লাভবান হওয়া সম্ভব নয়, যদি বাজারে স্থায়ী ও কার্যকর নজরদারি না থাকে। বাজারে দালাল ও মজুতদারদের দাপট কমাতে হলে সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি। বিশেষ করে যারা উৎপাদন করেন- সেই কৃষকের হাতে যেন সঠিক দাম পৌঁছায়, সেটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এবার পাটের চাষ ভালো হয়েছে। আমরা ৫ হাজার ৬০০ কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়েছি। ফলনেও কৃষকরা সন্তুষ্ট। এখন বাজার স্থিতিশীল থাকলে তারা লাভবান হবেন।’