চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে পুদিনা চাষের জনপ্রিয়তা। স্বল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এই সুগন্ধি ফসলের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ।
পাহাড় ও সমতলের মিশেলে গড়া সীতাকুণ্ডের উর্বর জমিতে এখন দেখা মিলছে সবুজ পুদিনাপাতার সমারোহ। কয়েক বছর আগেও যেখানে ধান বা সবজি চাষ হতো, সেখানে এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে পুদিনা।
এদিকে রমজানকে সামনে রেখে বাণিজ্যিকভাবে প্রতিবছরের মতো এ বছরেও পাহাড়ের পাদদেশে ২০ হেক্টর জমিতে ৫০০ জন কৃষক অর্ধকোটি টাকারও বেশি জনপ্রিয় সুগন্ধি পুদিনার চাষ করেছে। পুদিনাপাতা ঔষধি হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই পরিচিত। মৌসুমে পুদিনা চাষে তারা অর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। ভাটিয়ারী, সলিমপুর, কুমিরা, মাদামবিবির হাট, সোনাইছড়িসহ অন্য স্থানে পুদিনার চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি সুগন্ধি পুদিনার চাষ হয়েছে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জাহানাবাদ এলাকার খাদেমপাড়া পাহাড়ের পাদদেশে। এখানে শুধু ১০ হেক্টর জমিতে ঔষধি গুণে ভরা পুদিনার চাষ হয়েছে। মাহে রমজানে চট্টগ্রামের মানুষের ইফতারের সঙ্গে একটু পুদিনা না থাকলে যেন চলেই না।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, তুলনামূলক কম সময়ে ফলন এবং সারা বছর বাজারে চাহিদা থাকায় পুদিনা চাষ লাভজনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রমজান মাসে চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
অল্প খরচে চাষ করা যায় সুগন্ধি ফসলটি। দুই-তিন মাসের মধ্যে কাটা শুরু করা যায়। বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে পুদিনা চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। বেলে দো-আঁশ মাটি ও পর্যাপ্ত রোদ এই ফসলের জন্য উপযোগী। একই জমি থেকে বছরে কয়েকবার পাতা সংগ্রহ করা যায়, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি আয় নিশ্চিত করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানিয়েছে, পুদিনার প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে, যা ক্যানসার, হৃদরোগসহ আরও বিভিন্ন রোগ থেকে মানুষকে বাঁচাতে সাহায্য করে। এ পাতা গলার ক্ষত প্রতিরোধ করে, দাঁত ও মাড়ির ক্ষত সারিয়ে তোলতে সাহায্য করে।
ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জাহানাবাদ খাদেমপাড়া এলাকার কৃষক মো. শফি চলতি মৌসুমে ৪০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ের পাদদেশে পুদিনা পাতার চাষ করেছেন। তিনি বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে পুদিনা চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছি। এতে সব মিলিয়ে খরচ পড়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। বাজার দর ভালো থাকলে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রায় ২ লাখ টাকারও অধিক পুদিনা বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। তিনি বলেন, এ এলাকায় আমার মত মো. শাহ আলম, মো. সেলিম, শাহাজানসহ অন্তত ৭০ জন কৃষক কম বেশি পুদিনার চাষ করেছেন।
মাদামবিবির হাট এলাকার কৃষক জামাল বলেন, বারো মাস পুদিনা চাষ করি। এবার চাষ করতে গিয়ে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয় আশা করছি। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী রহমান জানান, আমি প্রায় এক একর জমি পুদিনাসহ নিয়েছি। ২ লাখ টাকা পুঁজি, ৫০ হাজার লাভ হবে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.হাবিবুল্লাহ্ বলেন, উপজেলার ভাটিয়ারী এবং সলিমপুর এলাকাগুলোতে রমজানকে সামনে রেখে কৃষকরা পুদিনা চাষ করেছে। পুদিনা অত্যন্ত সল্প সময়ের ফসল। প্রায় একমাসের মধ্যে (হারভেস্ট) সংগ্রহ করা যায়। এখানকার রোজাদাররা ইফতারের সময় সরই সামান্য হলেও পুদিনা পাতা খেয়ে শরীরকে প্রশান্ত করে। সে জন্য পুদিনা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার ২০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। ৫০০ কৃষক পুদিনা চাষ করেছে। পুদিনা একটি অত্যন্ত ঔষধিগুণ সম্পন্ন ফসল। এটি কৃষকরা ছোট্ট আঁটি বেঁধে ১৫-২০ টাকা দামে বিক্রি করে। তবে পুদিনা বর্ষাকালে নষ্ট হয়, শুষ্ক মৌসুমে কোনো ক্ষতি হয় না। কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকি, স্বল্প বালাইনাশক প্রয়োগ করে নিরাপদ পুদিনা উৎপাদন করে। অধিকাংশ পুদিনা নিরাপদ। এটি শরীরের কোনো ক্ষতি করে না। সামনে এই পুদিনা চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে। এমনকি চট্টগ্রামের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুদিনার চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করছি।