ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার! ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত?

দিনাজপুরে জ্বালানিসংকটে লিচু নিয়ে দুশ্চিন্তা

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
দিনাজপুরে জ্বালানিসংকটে লিচু নিয়ে দুশ্চিন্তা
মাসিমপুরের একটি লিচু বাগানে পানি স্প্রে করছেন এক চাষি। ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল ও ডিজেলের সংকটে লিচু বাগানে নিয়মিত স্প্রে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে চাষিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সময়মতো পরিচর্যা না হওয়ায় লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চাষিরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শুধু লিচু নয়, পুরো মৌসুমের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সরেজমিন মাসিমপুর ও উলিপুরসহ কয়েকটি এলাকার লিচু বাগান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ চাষিই পেট্রলের অভাবে স্প্রে মেশিন চালাতে পারছেন না। বিকল্প হিসেবে পায়ে চালিত মেশিন ব্যবহার করছেন। এতে সময় ও শ্রম বাড়ছে, খরচও বাড়ছে কয়েক গুণ। প্রচণ্ড খরার মধ্যে গাছের গুটি বড় হওয়ার এই সময়ে পানি ও কীটনাশক দিতে না করতে পারায় চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

উলিপুরের লিচু চাষি আবু বক্কর বলেন, ‘তীব্র গরমে প্রতিদিন বাগানে স্প্রে করা দরকার। কিন্তু পেট্রলের অভাবে মেশিন চালাতে পারছি না। দুই দিন লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার পেট্রল পেয়েছিলাম, যা এক ঘণ্টাও চলেনি।’

একই গ্রামের আরেক চাষি মহেন্দ্রনাথ জানান, আমার দুটি বাগানে শতাধিক গাছ রয়েছে। পেট্রল না পেয়ে বাধ্য হয়ে পায়ে চালিত মেশিন ব্যবহার করছি। প্রচণ্ড রোদে কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ভেঙে পড়ে। সময়মতো স্প্রে করতে না পারলে লিচু নষ্ট হয়ে যাবে।’

ধেদার মোড় এলাকার চাষি মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা মেশিন নিয়ে গেলেও পাম্প থেকে পেট্রল দিতে চায় না। এতে বাগানের কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

শিকদার হাট এলকার চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, লিচুর গুটি এখন বড় হচ্ছে। এ সময় একদিন স্প্রে মিস করলে পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়। পায়ে চালিত মেশিন দিয়ে পুরো বাগান স্প্রে করা প্রায় অসম্ভব। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে আমরা চরম সংকটে পড়েছি।

দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম তুষার বলেন, ‘কৃষকদের জন্য প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হচ্ছে। পাম্প মালিকদের সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্বালানি দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। দ্রুত সবার হাতে প্রত্যয়নপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সমস্যায় পড়লে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি, আর্থিক উন্নয়নে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি ও আইএফএডির সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি অফিসে ওই পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত  হয়। 

প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। 

পার্টনার কংগ্রেসে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি  ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমেদ খান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন।

এ ছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও স্থানীয় কৃষক কৃষাণীরা এ কংগ্রেসে অংশ নেন।

ফয়সল আহমেদ/অমিয়/

বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর
আলুবোখারা মসলা জাতীয় ফল/ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কৃষি উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান এই প্রথম বিদেশি ফল আলুবোখারা চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। আমাদের দেশে সাধারণত আম, জাম বা লিচুর বাগান দেখা গেলেও, সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও মসলা জাতীয় এই বিদেশি ফল চাষ করে রীতিমতো সফলতার মুখ দেখছেন তিনি।

তার এমন সফলতা দেখে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন আলুবোখারার বাগান করতে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন তার বাগান দেখতে ও আলুবোখারা কিনতে।

বাগান মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২৫টি আলুবোখারার গাছ পেয়েছিলাম। বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে আলুবোখারার গাছগুলো রোপণ করি। গাছ রোপনের এক বছর পর না বুঝে অনেকটা রাগ করে ১৮টি আলুবোখারার গাছ কেটে ফেলি। বর্তমানে বাগানে ৭টি গাছ রয়েছে। তবে দুই বছর পর গাছে প্রচুর পরিমাণ ফল আসতে শুরু করে। এরপর থেকে বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এ বছরই আরো আধিক পরিমান জমিতে বাণিজ্যিক আকারে আলুবোখারার বাগান তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, আলুবোখারা একটি বিদেশি ও মশলা জাতীয় ফল। আলুবোখারা গাছে সাধারণত জানুয়ারি মাসে ফুল আসে। ফুল আসার চার থেকে পাঁচ মাস পর জুন মাসের দিকে ফল পুরোপুরি পরিপক্ব হয়। প্রতিটি ফলের ওজন সাধারণত ১০ থেকে ১২ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে এ গাছ পরিচর্যা ও সার-ঔষধ খুব বেশী প্রয়োজন হয়না। সাধারণ সবজী জাতীয় ফসলের মতো সার-ঔষধ ও পরিচর্যা করলেই হয়।

এ বিষয় নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, সাধারণত আলুবোখারা মসলা জাতীয় ফল। ইরাক, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় এবং ভারতের কিছু এলাকায় আলুবোখারার চাষ হয়। বর্তমানে আমাদের দেশেও আলুবোখারার চাষ হচ্ছে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হাবিবুর রহমানের পাশে আছি। তাকে সার্বিক সহোযোগিতা করা হচ্ছে। 

নয়ন/ এএফ 

সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই
জুঁই খেতে কাজ করছেন চায়নিজ কৃষক।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর যখন ফুলের গুণগত মান ও বাজারদর নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন জুঁইচাষি, তখন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে আবহাওয়া পূর্বাভাস। চীনের বৃহত্তম জুঁই উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কুয়াংসি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংচৌ শহর এখন আবহাওয়াভিত্তিক সেবা ব্যবহার করে জুঁই শিল্পকে আরও টেকসই করে তুলছে।
মে’র শেষ দিকে হেংচৌর বিস্তীর্ণ মাঠে জুঁই ফুল সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। সুগন্ধি ও চা শিল্পে ব্যবহৃত এই ফুল আবহাওয়ার প্রতি বেশ সংবেদনশীল। অতিরিক্ত বৃষ্টি ফুলের সুগন্ধ কমিয়ে দেয় এবং গুণগত মান নষ্ট করে, অন্যদিকে খরা ও অতিরিক্ত তাপ কুঁড়ির বিকাশ ব্যাহত করে উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
হেংচৌর ৬৬৭ হেক্টর আয়তনের জুঁই বাগান ‘চাইনিজ জেসমিন গার্ডেন’-এর ব্যবস্থাপক উ চিফু বলেন, জুঁই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। রোদেলা দিনে ফুলের সুগন্ধ বেশি থাকে এবং বাজারমূল্যও ভালো পাওয়া যায়। তবে টানা বৃষ্টিপাত ফুলের দামে ভালো প্রভাব ফেলে। পরপর তিন দিন বৃষ্টি না হলে ক্রয়মূল্য বেড়ে যায়।
বর্তমানে হেংচৌতে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে জুঁই চাষ হয় এবং বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টনেরও বেশি তাজা ফুল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই শিল্পের বার্ষিক উৎপাদনমূল্য ২৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি এবং প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষের জীবিকার সঙ্গে এটি জড়িত।
স্থানীয় জুঁই শিল্পসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা হুয়াং ইয়াচি জানান, বিশ্বে উৎপাদিত প্রতি ১০টি জুঁই ফুলের মধ্যে প্রায় ৬টিই হেংচৌতে উৎপাদিত হয়। এখানকার জুঁই ফুলের পণ্য জাপান, মরক্কো, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ ২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়।
চীনের আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতেও সহায়তা করছে। উ চিফু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া গেলে প্রতি হেক্টরে অন্তত ১ হাজার ৫০০ ইউয়ান সেচ ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেচের কারণে মাটিক্ষয় ও শিকড়ের ক্ষতিও এড়ানো যায়।
শুধু চাষিরাই নয়, আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও বাজার সংশ্লিষ্টরাও। কুয়াংসি চিনেং মডার্ন এগ্রিকালচারের পরিচালিত জুঁই-সুগন্ধি পণ্য শিল্পপার্ক ‘সিয়াংসিয়াং গার্ডেন’-এর মহাব্যবস্থাপক উ ইয়ুমিং বলেন, বৃষ্টির কারণে ফুলের গুণগত মান ও উৎপাদন কমে গেলে কাঁচামালের দাম বেড়ে যায়। এ ছাড়া জুঁই তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফুলের সতেজতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর উচ্চ তাপমাত্রা পরিবহনজনিত ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, গ্রীষ্মকাল জুঁইজাত পণ্যের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টিতে কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিলে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। তাই এখন প্রতিষ্ঠানগুলো আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম কাঁচামাল মজুত ও উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরি করে।
জুঁই শিল্পকে আরও কার্যকর সহায়তা দিতে হেংচৌ ও কুয়াংসির রাজধানী নাননিংয়ের আবহাওয়া বিভাগ একটি ডিজিটাল জুঁই প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এই প্ল্যাটফর্মে স্থলভিত্তিক আবহাওয়া কেন্দ্র, রাডার এবং সংখ্যাতাত্ত্বিক পূর্বাভাস মডেলের তথ্য একত্রিত করে কৃষক ও চা উৎপাদকদের মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক আবহাওয়া তথ্য, সতর্কবার্তা ও কৃষিসেবা সরবরাহ করা হয়।
হেংচৌ আবহাওয়া ব্যুরোর প্রধান কনা লি জানান, জুঁই ফুলের জন্য বিশেষভাবে ঝড়বৃষ্টি-ঝুঁকি পূর্বাভাস ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। আগের দিনের বৃষ্টিপাতের তথ্য, বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরবর্তী দিনের পূর্বাভাস একত্রে বিশ্লেষণ করে ফুল সংগ্রহ ও বাজারদরের সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সাল থেকে খরা মোকাবিলা ও জুঁই বাগানের মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২৪ বার কৃত্রিম বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
কান লি বলেন, আরও বুদ্ধিমান ও নির্ভুল পদ্ধতিতে আবহাওয়া সেবাকে ডিজিটাল জুঁই প্লাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে শিল্পটির উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। সূত্র: সিএমজি

দক্ষিণাঞ্চলে পেঁপে চাষে নীরব বিপ্লব

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
দক্ষিণাঞ্চলে পেঁপে চাষে নীরব বিপ্লব
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের অর্জুন মাঝি গ্রামের মোস্তফা কামালের বাগানে থোকায় থোকায় পেঁপে ঝুলছে। সম্প্রতি তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

একসময় বাড়ির আঙিনায় সীমিত পরিসরে পেঁপের চাষ হতো। পরিবারের চাহিদা মেটানোর বাইরে এর খুব বেশি গুরুত্ব ছিল না। সেই পরিচিত ফলটিই এখন বদলে দিচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির চিত্র। বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে অনেক কৃষক সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এসব পেঁপে পাঠানো হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় বছরে উৎপাদিত হচ্ছে ৩৫ হাজার ৪০৫ টন পেঁপে। বিশেষ করে বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জ উপজেলায় পেঁপে চাষ এখন লাভজনক কৃষি উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। রেডলেডি, শাহী, কাশ্মীরি ও টপলেডি জাতের পেঁপে চাষ করে অল্প সময়েই অনেক কৃষক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছেন।

সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ইছাগুড়া ও পূর্ব ইছাগুড়া গ্রামের মির্জা আনোয়ার হোসেন ফনু, ইব্রাহিম আকন, মকরম প্রতাপ গ্রামের আবুল মহরী, সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের মো. আরিফুর রহমান, চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়ানী গ্রামের বাচ্চু সিকদার, চাঁদপুরা ইউনিয়নের হিজলতলা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক সুমন এখন এ অঞ্চলের সফল পেঁপেচাষিদের অন্যতম মুখ।

বাবুগঞ্জের বায়লাখালী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক সুমনের গল্প এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। প্রবাসজীবন শেষে পাঁচ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছিলেন পেঁপে চাষ। সেই উদ্যোগই আজ তাকে এনে দিয়েছে আর্থিক সচ্ছলতা, পরিচিতি এবং সম্মাননা।

গত পাঁচ বছরে কাঁচা ও পাকা মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন তিনি। শুধু ফল বিক্রিই নয়, গত দুই বছর ধরে পেঁপের চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে তৈরি করেছেন নতুন আয়ের ক্ষেত্র। সুমন জানান, একটি পেঁপেগাছে সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। কোনো কোনো পেঁপের ওজন পাঁচ কেজি পর্যন্ত হলেও অধিকাংশের ওজন দুই থেকে তিন কেজির মধ্যে। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি ১৭ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁপে বিক্রি করেন।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘২০২৩ সাল ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সফল বছর। ওই বছর শুধু পেঁপে চাষ থেকেই প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ করেছি। এখন ফল বিক্রির পাশাপাশি চারাও বিক্রি করছি। এত চাহিদা যে কৃষকদের সিরিয়াল দিয়ে চারা নিতে হয়।’

চারা বিক্রির ক্ষেত্রেও রয়েছে তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তিন থেকে চারটি চারা একসঙ্গে একটি পলিব্যাগে দিয়ে মাত্র ৪০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘রোপণের পর কোনো চারা নষ্ট হয়ে গেলেও যেন অন্তত একটি গাছ বেঁচে থাকে, সেই চিন্তা থেকেই একাধিক চারা দিই। কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটাই আমার মূল লক্ষ্য। অনেক সময় যাদের চারা দিতে পারি না, তাদের বিনামূল্যে বীজও দিয়ে থাকি।’

চাঁদপাশা ইউনিয়নের অর্জুন মাঝি গ্রামের প্রফেসর মোহাম্মদ মোস্তফা কামালও পেঁপে চাষে সফলতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অল্প খরচে দ্রুত ফলন পাওয়ার কারণে পেঁপে চাষ অত্যন্ত লাভজনক। সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এটি কৃষকের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস হতে পারে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ১ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে ভোলা জেলায়।

জেলাভিত্তিক উৎপাদনের চিত্র বলছে, বরিশালে ১১২ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৮২৩ টন, পিরোজপুরে ৫ হাজার ৮১ টন, ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫৯৫ টন, পটুয়াখালীতে ৮ হাজার ২৩৫ টন এবং বরগুনায় ৩ হাজার ২৭১ টন পেঁপে। সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে ভোলায়, সেখানে ৪৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ টন পেঁপে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, ‘পেঁপে একটি উচ্চফলনশীল, পুষ্টিকর এবং লাভজনক ফল। বরিশাল অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া এ ফল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের চারা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে পেঁপে চাষের আওতা ও উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’

ঈশ্বরদীর লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’
পাইকারি লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী অঞ্চলের লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতি মৌসুমে হাজার হাজার টন লিচু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়। তবে চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত দাবদাহ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজার পরিস্থিতি, দাম, চাহিদা ও ব্যবসার নানা দিক নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন ঈশ্বরদী উপজেলার শাহপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের পাইকারি লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজশাহী ব্যুরো প্রধান এনায়েত করিম

খবরের কাগজ: লিচু ব্যবসার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন?

মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম: আমরা মূলত পাইকারি ব্যবসা করি। লিচুবাগানে মুকুল আসার পর থেকেই বাগান কিনে নিই এবং পুরো মৌসুমজুড়ে পরিচর্যা করি। এরপর ফল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করি। দীর্ঘদিন ধরেই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছি।

খবরের কাগজ: চলতি মৌসুমের বাজার পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?

রকিবুল ইসলাম: বাজার মোটামুটি ভালো। ক্রেতাদের চাহিদাও রয়েছে। কিন্তু এ বছর প্রাকৃতিক কারণে লিচু খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত রোদে অনেক লিচু পুড়ে গেছে এবং ঝরে পড়েছে। ফলে উৎপাদন কমে গেছে।
খবরের কাগজ: গত বছরের তুলনায় ব্যবসা কেমন হচ্ছে?

আরও পড়ুন: ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’

রকিবুল ইসলাম: চাহিদার দিক থেকে বাজার ভালো। কেনাবেচাও বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমরা প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারছি না। লিচু পোড়ার কারণে চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

খবরের কাগজ: লিচু পোড়ার কারণ কী বলে মনে করেন?

রকিবুল ইসলাম: আমাদের মতে এটি পুরোপুরি আবহাওয়াজনিত সমস্যা। দীর্ঘ সময় তীব্র রোদ, তাপপ্রবাহ এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে এমনটা হয়েছে। কীটনাশকের কারণে এভাবে লিচু পোড়ে বলে আমরা মনে করি না।

খবরের কাগজ: বর্তমানে লিচুর বাজারদর কত?

রকিবুল ইসলাম: বাগান পর্যায়ে প্রতি হাজার লিচু ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকাও পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।

খবরের কাগজ: বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার অবস্থা কেমন?

রকিবুল ইসলাম: বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। ফলে বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। সরবরাহ আরও কমলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খবরের কাগজ: দেশের কোন কোন অঞ্চলে বেশি লিচু যাচ্ছে?

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ

রকিবুল ইসলাম: রাজধানী ঢাকা ছাড়াও খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বেশি লিচু পাঠানো হচ্ছে।

খবরের কাগজ: পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব কেমন?

রকিবুল ইসলাম: পরিবহন খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এতে ব্যবসার ব্যয় অনেক বেড়েছে এবং লাভের পরিমাণ কমে গেছে।

খবরের কাগজ: লিচু রপ্তানির সম্ভাবনা কতটা?

রকিবুল ইসলাম: বাংলাদেশের লিচুর মান খুব ভালো। সরকারি সহযোগিতা ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে লিচু রপ্তানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

খবরের কাগজ: ব্যবসার প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

রকিবুল ইসলাম: সারের দাম, কীটনাশকের দাম এবং শ্রম ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুযায়ী বাজারদর সব সময় পাওয়া যায় না। এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

খবরের কাগজ: মৌসুমের শেষ দিকে দামের কী অবস্থা হতে পারে?

রকিবুল ইসলাম: সাধারণত মৌসুমের শেষ দিকে দাম বেড়ে যায়। এ বছর উৎপাদন কম হওয়ায় দাম আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে যে দাম রয়েছে, তা থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।