দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল ও ডিজেলের সংকটে লিচু বাগানে নিয়মিত স্প্রে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে চাষিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সময়মতো পরিচর্যা না হওয়ায় লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চাষিরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শুধু লিচু নয়, পুরো মৌসুমের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সরেজমিন মাসিমপুর ও উলিপুরসহ কয়েকটি এলাকার লিচু বাগান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ চাষিই পেট্রলের অভাবে স্প্রে মেশিন চালাতে পারছেন না। বিকল্প হিসেবে পায়ে চালিত মেশিন ব্যবহার করছেন। এতে সময় ও শ্রম বাড়ছে, খরচও বাড়ছে কয়েক গুণ। প্রচণ্ড খরার মধ্যে গাছের গুটি বড় হওয়ার এই সময়ে পানি ও কীটনাশক দিতে না করতে পারায় চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
উলিপুরের লিচু চাষি আবু বক্কর বলেন, ‘তীব্র গরমে প্রতিদিন বাগানে স্প্রে করা দরকার। কিন্তু পেট্রলের অভাবে মেশিন চালাতে পারছি না। দুই দিন লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার পেট্রল পেয়েছিলাম, যা এক ঘণ্টাও চলেনি।’
একই গ্রামের আরেক চাষি মহেন্দ্রনাথ জানান, আমার দুটি বাগানে শতাধিক গাছ রয়েছে। পেট্রল না পেয়ে বাধ্য হয়ে পায়ে চালিত মেশিন ব্যবহার করছি। প্রচণ্ড রোদে কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ভেঙে পড়ে। সময়মতো স্প্রে করতে না পারলে লিচু নষ্ট হয়ে যাবে।’
ধেদার মোড় এলাকার চাষি মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা মেশিন নিয়ে গেলেও পাম্প থেকে পেট্রল দিতে চায় না। এতে বাগানের কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
শিকদার হাট এলকার চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, লিচুর গুটি এখন বড় হচ্ছে। এ সময় একদিন স্প্রে মিস করলে পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়। পায়ে চালিত মেশিন দিয়ে পুরো বাগান স্প্রে করা প্রায় অসম্ভব। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে আমরা চরম সংকটে পড়েছি।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম তুষার বলেন, ‘কৃষকদের জন্য প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হচ্ছে। পাম্প মালিকদের সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্বালানি দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। দ্রুত সবার হাতে প্রত্যয়নপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সমস্যায় পড়লে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।