ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সংবাদ উপস্থাপক থেকে জনপ্রতিনিধি: শামীমা তন্বীর অসাধারণ অভিযাত্রা ন্যাশনাল ব্যাংকে চাকরির সুযোগ স্বীকৃত কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজতে হবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে ৩০ শতাংশ ডিভিডেন্ড অনুমোদন নারী থাকুক নিরাপদে... মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় চিরচেনা বিলবোর্ড-ব্যানারের অনুপস্থিতি স্বপ্নে জীবিত দেখার দাবি! ১৮ দিন পর তরুণীর কবর খনন নওগাঁয় রেল লাইনের পাশ থেকে কলেজশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা মেসির হ্যাটট্রি গোলে আর্জেন্টিনার জয়, হিলিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ‘আমরা সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি’, মোদিকে জর্জিয়া মেলোনি সিলেটে একদিনে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু নাটোরে বলাৎকার মামলায় ২ জন কারাগারে ডলার স্থিতিশীল, বেড়েছে ইউরো ও পাউন্ডের দাম চাঁদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত ১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় ভাঙচুর সিলেটে বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন চা শ্রমিকরা ‘সমর্থকরা আর্জেন্টিনার এই দলকে নিয়ে পাগল’, ইতিহাস গড়ার পর মেসি সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ইরানি কৌশলেই উপসাগর থেকে গোপনে তেল সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ইতিহাস বদলানোর হুঙ্কার টমাস টুখেলের ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান ভুট্টু গ্রেপ্তার আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস কচুয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতির হুমকি, ‘সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দেব’ ৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা নওগাঁ সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তি
Nagad desktop

উত্তেজনা-উৎসবে জাকসু নির্বাচন আজ

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:১৭ এএম
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২৭ এএম
উত্তেজনা-উৎসবে জাকসু নির্বাচন আজ
ছবি: খবরের কাগজ

৩৩ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও ২১টি হল সংসদ নির্বাচন। কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি পদে ৯ ও জিএস পদে লড়ছেন আটজন। ক্যাম্পাসে ভোটের উত্তেজনা তুঙ্গে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে ভোট উৎসবের আমেজ। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। 

নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসন কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য, ৭ প্লাটুন বিজিবি ও ৫ প্লাটুন আনসার মোতায়েন রয়েছে। গতকাল বুধবার থেকে ক্যাম্পাসে বাড়তি টহল চলছে। এবারের নির্বাচনে ১১ হাজার ৯১৯ জন শিক্ষার্থী ভোট দেবেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮১৭ জন নারী, যারা মোট ভোটারের ৪৮.৮ শতাংশ। তারা নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ভোটের প্রস্তুতি
জাকসু নির্বাচনের ভোটের সব প্রস্তুতি নিয়েছে কমিশন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাকসু নির্বাচন কমিশন ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ১১টি ছাত্র ও ১০টি ছাত্রী হলে একযোগে ভোটগ্রহণ চলবে। ২১টি ভোটকেন্দ্রে ২২৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ৬৭ জন পোলিং অফিসার (শিক্ষক) ও ৬৭ জন সহায়ক পোলিং অফিসার (কর্মকর্তা) দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গণনা হবে সিনেট হলে।

মীর মশাররফ হোসেন হল গেট ও প্রান্তিক গেট ছাড়া সব গেট ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ক্যাম্পাসের ভাসমান দোকান, টারজান পয়েন্ট, মুরাদ চত্বর, প্রান্তিক ও প্রধান গেটের দোকানগুলো আজ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। হলের ক্যানটিন খোলা ও খাবার মজুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি বিভাগ ছাড়া মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্বাচন কমিশনের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে।

ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সমর্থিত সাদী-বৈশাখী-সাজ্জাদ-ইকরা পরিষদ গত শনিবার অদম্য-২৪ ভাস্কর্যের সামনে ইশতেহার ঘোষণা করে। ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান ও জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী বলেন, তাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস। তাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে, নিয়মিত জাকসু নির্বাচন ও অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্তি, কোর্স কারিকুলামের মানোন্নয়ন, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, ল্যাব আধুনিকায়ন, হলের সিট নিশ্চিতকরণ, র‍্যাগিং ও গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ, নারীদের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা, আলাদা নামাজ কক্ষ, যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল গঠন। চিকিৎসাকেন্দ্র আধুনিকায়ন, ২৪/৭ চিকিৎসক, বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান, পরিবহনসংকট সমাধানে অটোরিকশা, ইলেকট্রিক কার্ট, জিপিএস ট্র্যাকিং চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে তাদের।
 
সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেল
সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিয়ে এই প্যানেল নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষক মূল্যায়ন, গবেষণায় তহবিল, ২৪ ঘণ্টা গ্রন্থাগার খোলা রাখা, চিকিৎসাকেন্দ্রকে হাসপাতালে রূপান্তর, স্বাস্থ্যবিমা, ক্যানটিনে ভর্তুকি প্রদান, হল সংস্কার, নারী নিরাপত্তা, নতুন বাস রুট চালু ও সাংস্কৃতিক উৎসব।

ছাত্রফ্রন্ট
গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাত্রফ্রন্ট ইশতেহারে ঘোষণা করেছে। তাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে, সেশনজট নিরসন, গবেষণায় ১০ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ, ২৪ ঘণ্টা গ্রন্থাগার খোলা রাখা, র‍্যাগিং বন্ধ, নিরাপত্তা চৌকি, মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, নিজস্ব অর্থায়নে বাস, শাটল কার্ট, ক্রীড়াবিদদের ভাতাও দিতে চান তারা। 

শিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট
গত রবিবার বটতলায় ৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আরিফ উল্লাহ। জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভর্তুকি ও মেডিকেল সুবিধায় হ্যাঁ, সেশনজট ও র‍্যাগিংয়ে না।’ প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে সেশনজট নিরসন, নারী নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বই প্রদান।

নারী প্রার্থী ও ভোটারদের ভূমিকা
জাকসু ও ২১টি হল সংসদের ৩৪০টি পদের জন্য ৬২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ৪৪৮ জন পুরুষ ও ১৭২ জন নারী। প্রত্যেক ভোটার ৪০টি পদে (জাকসুর ২৫টি ও হল সংসদের ১৫টি) ভোট দেবেন। জাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ১৩টি পদে নারী-পুরুষ উভয় ভোটার ভোট দিতে পারবেন। এই ১৩টি পদে ৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১১ জন নারী। সহসভাপতি (ভিপি) পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই, তবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সমর্থিত তানজিলা হোসাইন বৈশাখী একমাত্র নারী প্রার্থী।

১০টি হলের ২০ জন নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপে তারা জানান, তারা লিঙ্গ সমতা ও নারী ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রার্থীদের সমর্থন করবেন। নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুশরিকা আদ্রি বলেন, ‘যারা সন্ধ্যার কারফিউ ফিরিয়ে আনতে চায় বা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সঙ্গে আছে, তাদের ভোট দেব না।’ সাংবাদিকতা বিভাগের জেরিন তাসনিম বৈশাখী বলেন, ‘নারীদের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার। যারা নারীবিদ্বেষ ছড়ায়, তারা সমাজকে পিছিয়ে নেয়। আমি নারীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করবে এমন প্রার্থীদের ভোট দেব।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে প্রার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘মৌলবাদী শক্তি পরাজিত না হলে নারী শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়া বাড়বে।’ আরেক প্রার্থী ফারিয়া জামান নিকি বলেন, ‘নারীদের স্বাধীনতা সীমিত করতে চায়, এমন দল নির্বাচিত হলে ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নারী ভোটাররা তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে আশা করি।’

সম্ভাবনা বেড়েছে বৈশাখীর
সাধারণ সম্পাদক পদে একমাত্র নারী প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী নিজেকে রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘নারীদের জন্য রাজনীতি কঠিন। আমি দেখাতে চাই, যোগ্যতা থাকলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোনো যায়।’ তার প্রতিদ্বন্দ্বী অনন্যা ফারিয়া ভোটের দুই দিন আগে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় বৈশাখীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। অন্যান্য জিএস প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন ছাত্রশিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের মাজহারুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম, সম্প্রীতির ঐক্যের শারণ আহসান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাকিল আলী। 

শিক্ষার্থীদের মতে, মাজহারুলের কলা, সমাজবিজ্ঞান ও চারুকলা অনুষদে নারী ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে জীববিজ্ঞান ও বিজ্ঞান অনুষদে তিনি কিছু নারী ভোট পেতে পারেন। তার দলের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের সাইবারবুলিংয়ের অভিযোগ থাকলেও ডানপন্থি সমর্থক ও জীববিজ্ঞান-বিজ্ঞান অনুষদের ভোটে তিনি বৈশাখীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তৌহিদ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়েছেন, আর শরণ এহসান নারী ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য। সিয়াম ও শরণ বৈশাখীর ভোট ভাগ করে নিতে পারেন, যা মাজহারের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু নারী হলগুলোতে বেশ জনপ্রিয়। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-সমর্থিত আরিফুজ্জামান ও ছাত্রদল-সমর্থিত শেখ সাদী হাসান। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কয়েকজন নেতাও আরিফুজ্জামান উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। তারা বলছেন, আরিফুজ্জামান নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। তিনি আসলে ডানপন্থি রাজনীতিতেই বিশ্বাস করেন। এ জন্য তিনি ডানপন্থি ও জীববিজ্ঞান-বিজ্ঞান অনুষদের নারী ভোট পেতে পারেন। সাদী উত্তরাঞ্চলের (রাজশাহী ও রংপুর) ভোটারদের সমর্থন পেলে ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারেন।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী লাল লম বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন নিশ্চিত করাই প্রার্থীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’ অর্থনীতি বিভাগের তৈমুর খান তূর্য বলেন, ‘ইশতেহারে বাস্তবায়নযোগ্য দিক আছে, প্রার্থীরা শিক্ষার্থীবান্ধব হোক।’ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘৩৩ বছর পর ভোট দিতে যাচ্ছি। আশা করি নির্বাচিত প্রার্থীরা অধিকার আদায়ে কাজ করবেন।’

ডোপ টেস্ট ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ
ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হলেও অনেক প্রার্থী গতকাল পর্যন্ত ডোপ টেস্ট করাননি। যারা টেস্ট করেছেন, তাদের ফলাফলও চূড়ান্ত হয়নি। পজিটিভ ফলাফল এলেও প্রার্থীদের নাম ব্যালটে থাকছে, যা নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছাত্রফ্রন্টের প্রার্থী সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, ‘ডোপ টেস্ট নাটক। পজিটিভ ফলাফলের প্রার্থীরা কি থাকবে?’ সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই, কারচুপি নয়।’ 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পজিটিভ ফলাফলের ক্ষেত্রে বহুল প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের জানানো হবে। তবে শেষ মুহূর্তে ব্যালট থেকে নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।’

জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চব্বিশের জুলাইয়ে হামলায় মদদদাতা অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশের পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যসহ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন।

শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীর আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিলে জাকসুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। মিছিলকারীরা ‘মুজিববাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘যে হাত সন্ত্রাস করে, সে হাত ভেঙে দাও’, ‘নুরুলের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ফিরোজের চামড়া তুলে নিবো আমরা’, ‘বসিরের চামড়া তুলে নিবো আমরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে ‘মানি না মানবো না অরুণাপল্লীর বিচার’, ‘ছি ছি ধিক্কার কামরুলের বিচার’, ‘ছি ছি ধিক্কার কামরুল (ভিসি) তুই গাদ্দার’, ‘প্রহসনের বিচার মানি না, মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।

জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পির সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা নামলাহ বলেন, ’১৫ জুলাই দুপুর ও রাতে, ১৭ জুলাই বিকেলে ছাত্রলীগ ও সন্ত্রাসীরা চাপাতি-বন্দুক নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছিল। আমরা ভিসির গেটে চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলাম। ভিসির নির্দেশে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ’যেসব শিক্ষক এই হামলার মাস্টারপ্ল্যান করেছেন, তাদের শুধু বেতন-গ্রেড কমিয়ে বা সতর্ক করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যারা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাতে বলেন, তারা শিক্ষকের পর্যায়ে পড়েন না। তাদের শিক্ষক হিসেবেই বিতাড়িত করা উচিত।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ’গতকাল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িতদের ফেরত আনার পাঁয়তারা করা হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত। জুলাইয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এই ক্যাম্পাসে বশির, ফিরোজ, আলমগীর, নুরুল আলম, শৈবাল, রঙ্গনসহ কেউ ঢুকতে পারবে না।’

জাকসু জিএস ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ’এই বিচার মানি না। বলা হয় জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি জাকসু, কিন্তু হওয়ার কথা ছিল জুলাইয়ের বিচার।’

তিনি জুলাই হামলার মদদদাতা শিক্ষকদের বিষয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করে পুনঃতদন্ত ও ফৌজদারি মামলার দাবি জানান।

বিক্ষোভ চলাকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রব ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদুল আলম উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, ’সিন্ডিকেট সভাপতি হিসেবে স্ট্রাকচার্ড কমিটির রিপোর্ট বিধান অনুসরণ করে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে এ নিয়ে মন্তব্য করা আমার এক্তিয়ার বহির্ভূত। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি শোনার জন্য আমি অপেক্ষা করেছি এবং আলোচনা করেছি।’

’তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকলে আলোচনা করে সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা যেতে পারে’ বলে জানান তিনি।

তিনি জুলাই স্পিরিটের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ’আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। মানুষ হিসেবে সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। অভিযোগ এলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে।’

মঙ্গলবার সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদ ও ইসলামি ছাত্র শিবির জাবি শাখা প্রতিবাদ লিপি ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বিচারকে ‘প্রহসন ও সমঝোতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

আমানউল্লাহ/থিও/

বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের কমন রুমের দেয়ালে আঁকা হয়েছে ফুটবলের দুই কিংবদন্তি পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার গ্রাফিতি। ছবি: খবরের কাগজ

আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে। তবে শুধু বর্তমান সময়ের তারকা লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়র নন, ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি পেলে ও ম্যারাডোনার গ্রাফিতি এঁকে বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ভিন্নমাত্রা যোগ করেছেন বাকৃবির শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের কমন রুমের দেয়ালে ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছেন ভেটেরিনারি অনুষদের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক শান্ত। অন্যদিকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের প্রতিকৃতি এঁকেছেন পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ফারাবি।

মেসি-নেইমারদের পাশাপাশি পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি বাকৃবির বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এনেছে ভিন্ন আমেজ। গ্রাফিতিগুলো দেখতে ও ছবি তুলতে প্রতিদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে ভিড় করছেন বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু শাহজালাল হল নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হল, সোহরাওয়ার্দী হল এবং ঈশা খাঁ হলের দেয়ালেও ফুটে উঠেছে বিশ্বকাপের নানা রং। কোথাও জাতীয় পতাকা, কোথাও বিশ্বকাপ ট্রফি, আবার কোথাও বর্তমান তারকাদের প্রতিকৃতি। তবে এসবের মধ্যেও পেলে ও ম্যারাডোনার গ্রাফিতি আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। আধুনিক ফুটবলের তারকাদের ভিড়ে এই দুই কিংবদন্তির প্রত্যাবর্তন যেন ক্যাম্পাসে বয়ে এনেছে ফুটবল উন্মাদনার হাওয়া। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা যেমন গ্রাফিতির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, তেমনি প্রবীণ ফুটবলপ্রেমীরাও স্মরণ করছেন ফুটবলের সোনালি দিনের গল্প।

কথা হয় ব্রাজিল সমর্থক ইমতিয়াজ ফারাবির সঙ্গে। তার কাছে পেলে শুধুই একজন ফুটবলার নন, বরং ফুটবলের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নায়ক। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পেলে ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যার হাতে তিনটি বিশ্বকাপের ট্রফি উঠেছে। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হিসেবে তিনি যে কীর্তি গড়েছেন, তা আজও অনন্য।’

প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার গ্রাফিতি তৈরির সময় ও পরিশ্রমের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুরো কাজটি শেষ করতে আমার প্রায় তিন দিন ও তিন রাত লেগেছে। প্রথম দিন স্কেচ করতেই কেটে যায়। পরের দুই দিন রঙের কাজ করেছি। এখানে প্রায় ১৮ ধরনের রং ব্যবহার করা হয়েছে। ক্লাস শেষ করে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিদিন আমার কাজ করতে হয়েছে।’

এদিকে ম্যারাডোনার গ্রাফিতি অঙ্কনকারী আর্জেন্টিনার সমর্থক রেজওয়ানুল হক শান্ত বলেন, ‘প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপ এলে ক্যাম্পাসে একটা উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। সেই আনন্দকে আরও বাড়াতেই আমরা এই গ্রাফিতির উদ্যোগ নিই।’

শান্ত জানান, প্রায় ১১ ফুট উচ্চতার ম্যারাডোনার গ্রাফিতিটি আঁকতে তার প্রায় দুই দিন সময় লেগেছে। এতে জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও তাকে সহযোগিতা করেছে। হলের আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নেই গ্রাফিতিটির যাবতীয় খরচ বহন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ‘গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘর’। ইনসেটে তালাবদ্ধ দরজা। ছবি: খবরের কাগজ

পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি রক্ষায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ‘গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘর’ আজও আলোর মুখ দেখেনি। হস্তান্তরের দুই বছর কেটে গেলেও প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি বর্তমানে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বর্তমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনটি ১৯৭১ সালে পাক হানাদারদের নির্মম টর্চার সেল (তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানের খুলনা শাখা) ছিল। সেখানে চলত মুক্তিকামী মানুষের ওপর পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ। দেশ স্বাধীনের পর বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই গল্লামারী বধ্যভূমি ও এর আশপাশে খুঁজে পান গণহত্যার নানা চিহ্ন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক মুনতাসির মামুনের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর এই এলাকা থেকে প্রায় ৫ ট্রাকভর্তি মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছিল। ধারণা করা হয়, এখানে আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের মে মাসে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন খুলনার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে এই টর্চার সেলটিকে জাদুঘর করার উদ্যোগ নেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিদর্শন হিসেবে রাখার উদ্দেশ্যে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সালের জুলাই মাসে চুক্তির মাধ্যমে ভবনের কাজ শেষ করে মেসার্স আনিসা এন্টারপ্রাইজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ জানায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে যশোরের এক টেন্ডার কোম্পানি জাদুঘরের ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজ পায়। তারা ২০২৪ সালের জুন মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তাস্তর করে। জাদুঘরের ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫৫ টাকা। ল্যান্ডস্কেপিং কাজের জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে খরচ হয় ৬১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৫ টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাদুঘরের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পার হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। চারপাশ পুরো নীরব। ভেতরের প্রদর্শনী কক্ষগুলো দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ছবি ও নিদর্শন প্রদর্শনের কথা থাকলেও কক্ষগুলো এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে আছে।

এই জাদুঘরটির নকশা প্রণয়ন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক এস এম নাজিমউদ্দিন। তিনি জানান, পুরোনো টিনশেড ভবনটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি নকশা তৈরি করেন, যেখানে ১৯৭১ সালের নির্যাতন ও বেদনার প্রতীকী উপস্থাপন ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘নকশাটিতে একাত্তরের সেই ভয়াবহতার অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ছবি ও স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, জাদুঘরটি উদ্বোধনের জন্য প্রায় প্রস্তুত। এখন শুধু কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অপেক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান টিনশেড ভবনটি ছিল একটি বধ্যভূমি ও নির্যাতন কেন্দ্র। সেখানে হাজার হাজার মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেও বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাদুঘরটি দ্রুত সবার জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারবে। একজন কিউরেটর নিয়োগ দিয়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস, ছবি ও নিদর্শন সংগ্রহ করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও পাঠচর্চাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দ্রুত জাদুঘরটি চালু করা প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার শেখ মো. সাইফুল আলম বাদশা বলেন, ‘ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজ শেষ। এখন প্রদর্শনীর জিনিসপত্র বসালেই এটি প্রস্তুত হয়ে যাবে। কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো সময় এটি চালু করতে পারে।’

প্রতিষ্ঠার দুই বছর পরও জাদুঘরটি উদ্বোধন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি তাকে আগে কেউ জানায়নি। তিনি ভেতরে গিয়ে দেখেননি কতদূর কাজ হয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

উপাচার্য আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমরা অবশ্যই সংরক্ষণ করব। সেখানে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ফাইল পর্যালোচনা করে কী কী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ, প্রাথমিক সত্যতায় তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ, প্রাথমিক সত্যতায় তদন্ত কমিটি গঠন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়াতে তা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দপ্তরের এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠি আইন অনুষদের ডিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, প্রক্টর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তদন্ত) স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময়ে জমাকৃত প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় ড. রিদওয়ানুল হক যে দুটি গবেষণা প্রবন্ধ জমা দিয়েছিলেন, সেগুলোর মধ্যে প্রায় শতভাগ মিল থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। এ বিষয়ে অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার পদোন্নতি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ ড. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রশাসন আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম মিলনমেলা ১০ জুলাই

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম মিলনমেলা ১০ জুলাই
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম মিলনমেলা আগামী ১০ জুলাই কলেজ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মিলনমেলার দিনব্যাপী কর্মসূচিতে রয়েছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, ব্যাচভিত্তিক পরিচিতি ও স্মৃতিচারণা। এ ছাড়া অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের বিষয়ে আলোচনা, র‌্যাফল ড্র এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। আয়োজকেরা আশা করছেন, এই মিলনমেলার মাধ্যমে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সেতুবন্ধ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের জন্য রেজিস্ট্রেশনের লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে । মোবাইল নম্বর ০১৮৮৬১০৭৭০০, ০১৬১৪৬০৬৬৬০। রেজিস্ট্রেশন করার শেষ তারিখ আগামী ২৭ জুন, ২০২৬। 

উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালের ২০শে জুন প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।

তারেক/