রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ২৩ পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে দেখা যায়, ২০টি পদেই ছাত্রশিবির মনোনীত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল থেকে জানা যায়, জিএস পদে আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেল থেকে সালাহউদ্দিন আম্মার, ছাত্রদল মনোনীত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম প্যানেল থেকে নার্গিস খাতুন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক স্বতন্ত্র থেকে তোফায়েল আহমেদ তোহফা বিজয়ী হয়েছে।
পূর্নাঙ্গ ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, অন্যদিকে ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট পেয়েছেন ছাত্রদলের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবির।
আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেল থেকে ১১ হাজার ৫৩৭ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জিএস প্রার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার। শিবির মনোনীত প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৯ ভোট, ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের জিএস প্রার্থী নাফিউল ইসলাম (জীবন) পেয়েছেন ১ হাজার ৩২৮ ভোট।
এদিকে এজিএসে শিবির মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী সালমান সাব্বির ৬ হাজার ৯৭১ ভোট পেয়ে অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, বিপরীতে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের এজিএস জাহিন বিশ্বাস এষা ১ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন, তার প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৯৪১ টি।
অন্য পদগুলোতে জয়ী হলেন যারা
ক্রীড়া ও খেলাধুলা বিষয়ক সম্পাদক পদে ৭ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়েছেন ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী নার্গিস খাতুন, সহকারী ক্রীড়া ও খেলাধুলা বিষয়ক সম্পাদক পদে ৭ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়েছেন আবু সাঈদ মোহাম্মদ নুন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়েছেন জাহিদ হাসান জোহা, সহ-সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৭ হাজার ৪০২ ভোট পেয়েছেন রাকিবুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ হাজার ৫৯৩ ভোট পেয়েছেন সাইয়িদা হাফসা, সহকারী মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে ১০ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সামিয়া জাহান।
এদিকে তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদে ৭ হাজার ৯২ ভোট পেয়েছেন বি এম নাজমুছ সাকিব, সহকারী তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ হাজার ৫৭ ভোট পেয়েছেন সিফাত আবু সালেহ, মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ৭ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়েছেন মো. মুজাহিদ ইসলাম, সহকারী মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ৭ হাজার ৬১১ ভোট পেয়েছেন আসাদুল্লাহ আল গালিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে তোফায়েল আহমেদ তোহফা (স্বতন্ত্র) ৬ হাজার ৭৮০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। সহকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মুজাহিদুল ইসলাম ৮ হাজার ৫৮ ভোট পেয়েছেন। বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে ইমরান লস্কর পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৯৯, সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদকে ৭ হাজার ৩৩০ ভোট পেয়েছেন মো. নয়ন হোসেন, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকে আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ৬ হাজার ১৬৩ ভোট পেয়েছেন, সহকারী পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকে মাসুমা ইসরাত মুমু পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৯২ টি ভোট। নির্বাহী সদস্য পদে জয়ী চারজন হলেন, দ্বীপ মাহমুদ, মো. ইমজিয়াউল হক কামালি, সুজন চন্দ্র, এ বি এম খালেদ।
সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ৫ জন হলেন সালাহউদ্দিন আম্মার (জিএস) যিনি ভোট পেয়েছেন ১২ হাজার ৮৩৩ ভোট, মোস্তাকুর রহমান জাহিদ (ভিপি) পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৬৭ ভোট, ফাহিম রেজা (জিএস প্রার্থী) পেয়েছেন ৮ হাজার ২০৫ ভোট, আকিল বিন তালিব ৫ হাজার ৭০৭ এবং সালমান সাব্বির (এজিএস) ৪ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
ছাত্রদলের পরাজয়ের কারণ
ছাত্রশিবিরের বিপরীতে বড় হারকে সংগঠনের বিচক্ষণতার অভাব হিসেবে দেখছেন অনেক নেতা।
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তাহের রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির পিছিয়ে পরার পেছনে অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো দেশের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় রাবি থেকে ছাত্রদলের মেধাবীদের মূল্যায়ন না করা।’
হল সংসদে শিবিরের বড় ব্যবধানে জয়
রাকসু নির্বাচনে হল সংসদের শীর্ষ পদে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় প্রতিটি হলেই ভিপি, জিএস এবং এজিএস তিনটি পদই পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা।
মাদার বখশ হল সংসদে ভিপি পদে মো. রুবেল আলি ও জিএস পদে ইব্রাহিম হোসাইন। শেরে বাংলা ফজলুল হক হলে ভিপি পদে রানা হোসাইন ও জিএস পদে তানজীল হোসাইন। শাহ মখদুম হলে ভিপি পদে শামীম পাটোয়ারী ও জিএস পদে বায়জিদ। নবাব আব্দুল লতিফ হলে নেয়ামত উল্যাহ ও জিএস পদে নুরুল ইসলাম শহীদ। সৈয়দ আমির আলি হলে ভিপি পদে নাঈম ইসলাম ও জিএস পদে সাব্বির ইসলাম। শহিদ শামসুজ্জোহা হলে ভিপি আশিকুর রহমান ও জিএস পদে সোয়াইব হোসেন।
হবিবুর রহমান হল সংসদে ভিপি পদে আহমাদ আহসান উল্লাহ ফারহান ও জিএস পদে আশিক শিকদার। মতিহার হলে তাজুল ইসলাম ও জিএস পদে আরিফুল ইসলাম। সোহরাওয়ার্দী হলে ভিপি কাউসার হাবিব ও জিএস সাচ্ছু হোসেন। বিজয়-২৪ হলে ভিপি রাছেল মিয়া ও জিএস ইমরুল হাসান মিশকাত নির্বাচিত হয়েছেন।
নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলোর সংসদেও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে শিবির প্যানেল
বেগম খালেদা জিয়া হল সংসদে ভিপি পদে সাবরিনা মারজান ও জিএস পদে জারিন তাসনিম রিফা। জুলাই-৩৬ হলে ভিপি পদে সৈয়দা সমাপিকা আহমেদ সিমি ও জিএস পদে তাসফিয়া তাবাস্সুম। রহমতুন্নেসা হলে ভিপি পদে সাইফুন নাসিরা ও জিএস পদে হাবিবা আক্তার রিয়া। মন্নুজান হলে ভিপি সুমাইয়া জাহান ও জিএস তাসমেরি জাহান তন্বী।
রোকেয়া হলে ভিপি অর্পণা হক মুগ্ধ ও জিএস মোসা. লায়লা খাতুন এবং তাপসি রাবেয়া হলে ভিপি মরিয়ম খাতুন ও জিএস তাওহিদা আক্তার বিজয়ী হয়েছেন। মন্নুজান হলে ভিপি সুমাইয়া জাহান, জিএস তন্নী এবং পদে জয়ী হয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তারা সকলেই ছাত্রশিবির ও ছাত্রী সংস্থার সমর্থিত প্যানেল সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী।
জয়ের বিষয়ে নবনির্বাচিত ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, যারা বিজিত হয়েছেন তারাও আমাদের সহযোদ্ধা, তাদের মধ্যেও লিডারশীপ কোয়ালিটি আছে। কিন্তু একজনই যেহেতু নির্বাচিত হয় তাই বেশিরভাগই পরাজিত হয়। সেই ভাইদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই এবং আমরা চাইব তারা যেন আমাদের এই ক্যাম্পাস গড়তে ভূমিকা রাখে।
মাহফুজ/