শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকসংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রের ছাগলনাইয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জনবহুল ও আবাসিক এলাকায় এই মডেল বিদ্যালয়টি থাকার ফলে এর শ্রেণিকক্ষ ও আসনসংখ্যা উপজেলার অন্য সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় অনেকাংশে বেশি থাকে। এতে দেখা দেয় শ্রেণিকক্ষসংকট।
পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন ভবণ নির্মাণের জন্য প্রকল্প বরাদ্দ হলেও এর কোনো অগ্রগতি নেই। এদিকে শিক্ষার্থীদের আধিক্যের কারণে পাঠদানে হিমশিম খেতে হয় শিক্ষকদের। অন্যদিকে বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো খেলার মাঠ। এর ফলে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেখানে পাঠরত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া সড়কের ওপর কোনো ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন জানান, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সাত শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিধি অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ৪০ জন শিক্ষার্থীর আসন থাকার কথা থাকলেও কক্ষসংকটে বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ বিদ্যালয়টিতে দোতলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় কক্ষসংকটে শ্রেণি কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কক্ষসংকটে বর্তমানে দুই শিফটে চালানো হচ্ছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। অন্যদিকে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর তুলনায় ১৮ জন শিক্ষকের প্রয়োজন থাকলেও রয়েছে ১৩ জন শিক্ষক।
এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘পরিত্যক্ত ভবনের জায়গায় আমরা একটি নতুন টিনশেডের ভবন তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছি। নতুন শেডটি তৈরি হলে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংখ্যা বাড়ানো হবে।’
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের টিনশেডের পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ১ দশমিক ৫ শতক জমিতে ওই ভবনটি ঝোপঝাড়ে ভূতুড়ে পরিবেশে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত ওই ভবনটি মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামান্য দূরের এই ভবনটিতে দিন ও রাতে অবাধে মাদকাসক্ত যুবকদের আনাগোনা দেখা যায়।
এদিকে পরিত্যক্ত ভবনের জায়গায় নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দও হয়। তবে বিধি অনুযায়ী ভবন নির্মাণে যে পরিমাণ জায়গা প্রয়োজন, তা না থাকায় নতুন ভবন করা যাচ্ছে না বলে জানান প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন। তিনি জানান, পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে শ্রেণিকক্ষসংকট নিরসন হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের বাইরে পা রাখার সামান্য খালি জায়গাও নেই। মাঠসংকটে খেলাধুলা বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। এতে হতাশা প্রকাশ করেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয়টির পাশে রয়েছে ছাগলনাইয়া সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের বিশাল মাঠ। তবে অন্য স্কুলের মাঠ থাকলেও সেই মাঠে যাওয়ার পথে রয়েছে ব্যস্ততম সড়ক ও মাঠের সীমানাপ্রাচীর।
ছাগলনাইয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯০০ সালে। শহীদ আবদুর রাজ্জাক সড়কের এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠে যাওয়ার সমস্যার পাশাপাশি বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয় বলে জানান অভিভাবকরা। এ জন্য বিদ্যালয় ও মাঠের মাঝে সড়কের ওপর একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব কোনো খেলার মাঠ নেই। স্কুলের একাডেমিক ভবনের পরই একটি সড়ক রয়েছে। সে জন্য শিক্ষার্থীদের পাশের স্কুলের মাঠে যাওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা করব।’