গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের তিন ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন সাঁওতালরা।
শনিবার (২ মার্চ) উপজেলা শহরের চৌরাস্তা এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করেন তারা।
সাহেবগঞ্জ ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটি এই মানবনন্ধনের আয়োজন করে।
এর আগে তীর-ধনুক, ব্যানার, ফেস্টুনসংবলিত সাঁওতালদের একটি বিক্ষোভ মিছিল পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এতে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি বার্নাবাস টুডু।
বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাফায়েল হাসদা, সহ-সাংগঠনিক মিনহাজ শেখ, কোষাধ্যক্ষ গণেশ মুরমু, আদিবাসী নেতা বিমল বেসরা, মায়রা হেমব্রম, জামিল হেমব্রম ও আদিবাসী নেত্রী রুমিলা কিসকু প্রমুখ।
এ সময় সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ছামিউল আলম রাসু।
বক্তারা বলেন, ‘বিরোধপূর্ণ জমি উদ্ধার করতে গিয়ে তিন সাঁওতালকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও একজন আসামিও গ্রেপ্তার হয়নি। বিচারের দাবি নিয়ে কোর্ট চত্বরে ঘুরতে ঘুরতে সময় যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসীরা ওই জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। সেখানে ধান, আলু, ভুট্টা ও সরিষাসহ বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কোনো কৃষিজমি নষ্ট করে কল-কারখানা করা যাবে না। কিন্তু একটি স্বার্থন্বেষী মহল সাঁওতালদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে ইপিজেড নির্মাণের পাঁয়তারা করছে। তারা আমাদের কথা ভাবছে না।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘আমরা ইপিজেডবিরোধী নই। আগে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কথা বিবেচনা করতে হবে। হত্যার বিচার করতে হবে। অন্যথায় আমরা ওই জমি ছেড়ে দেব না। অনতিবিলম্বে হত্যার বিচার, ভাঙচুর, লুটপাট, ক্ষতিপূরণ ও জমি ফেরতসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।’
রফিক খন্দকার/জোবাইদা/অমিয়/