ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেল্যার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা রোগী সেজে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী আটক ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩, আহত ৫ দুই দফা কমে ৪৪৩২ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন আনোয়ার ইব্রাহিম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীতে থাকবে ১৮০০০ পুলিশ মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন টিভিতে আজকের খেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১ জুন মাসে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫৩৭ লেবাননে যেকোনো হুমকি নির্মূলে স্বাধীন ইসরায়েলি সৈন্যরা: কাটজ পদত্যাগের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপিপুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু সেনেগালের কঠিন পরীক্ষা, নরওয়ের চোখ নক আউটে যমুনা ফিউচার পার্কে ২ দিনের ‘কে-গুডস ফেস্টা’ মালয়েশিয়ায় ‘হালাল’ পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা কাতারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮ হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুর পূর্ণতা পায়নি চামড়া শিল্পনগরী শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা, নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল মিশর বর্ষা এলেই জলজট স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন ‘হেলিও ৪৬’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা মালেশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার আশা আছে জটিলতাও

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে বন্যার পানি নামার পর বেরিয়ে আসছে ক্ষতচিহ্ন। পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে সড়ক। ভেঙে গেছে কাঁচা বসতঘর। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু। 

চট্টগ্রামে শুধু কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ পৌণে ৭০০ কোটি টাকা। রাস্তা-ঘাট অবকাঠামো এবং বাড়ি ঘরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। তবে এই খাতেও ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু ফটিকছড়ি উপজেলাতেই ক্ষতির পরিমাণ ৫০৬ কোটি টাকা।

চট্টগ্রামের এডিসি (জেনারেল) রাকিব হাসান খবরের কাগজকে বলেন, তারা এতদিন বন্যায় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। পানি নেমে যাওয়ার পর এখন ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণের কাজ শুরু করেছেন। তা শেষ করতে আরও কয়েকদিন লেগে যেতে পারে। 

চট্টগ্রাম জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বন্যা পরিস্থিতি প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ফটিকছড়ি উপজেলার ৩০ হাজার ২০০ পরিবারের দেড় লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিরসরাই উপজেলায় ২৫ হাজার পরিবারের এক লাখ মানুষ, সীতাকুণ্ডে ২৭০০ পরিবারের ১২ হাজার মানুষ, হাটহাজারীতে ২০০ পরিবারের ৬০০ মানুষ, বোয়ালখালীতে ১৮০ পরিবারের ১৫০০ মানুষ, বাঁশখালীতে ১৭৫০ পরিবারের ৮৭৫০ মানুষ এবং রাউজানে ১০৮ পরিবারের ৩০০০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুচ ছোবহান বলেন, চট্টগ্রামে আকস্মিক বন্যায় ফলন আসার আগ মুহূর্তে নষ্ট হয়ে গেছে আমন ধান। আর্থিকভাবে বিশাল অংকের ধাক্কা খেয়েছেন কৃষকরা। ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৭ জন কৃষক পরিবারের আর্থিক ক্ষতি ৩৯১ কোটি ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬০০ টাকা। 

চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় আমান আবাদে ৭৫ হাজার ৫৪০ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারের ২৫১ কোটি ৬৩ লাখ ৪২৪ হাজার টাকা। আমনের বীজতলাতে ৩৯ হাজার ২০৩ কৃষক পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। আউশ আবাদে ২৩ হাজার ৬৭৪ কৃষক পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ ৯৪২ হাজার টাকা। শরৎকালীন সবজিতে ২২ হাজার ৬৫০ কৃষক পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আদা চাষে ৯৫ কৃষক পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা। হলুদ চাষে ৯৪ কৃষক পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮ লাখ ৯ হাজার টাকা, আখ চাষে ৫০ কৃষক পরিবারের ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও পান চাষে ৬৫ কৃষক পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৪ লাখ ৫ হাজার টাকার। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৭ কৃষক পরিবার। তাদের মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩৯১ কোটি ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬০০ টাকা। মোট ৫৮ হাজার ৪৯২ হেক্টর জমিতে ক্ষতি হয়েছে ৮৮ হাজার ৩৬৭ টন ফসল।

অপরদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ৫ হাজার ৫৪১ হেক্টর খামারের মাছ। ক্ষতি হয়েছে ২৯০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। 

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ জানান, চট্টগ্রামে বন্যায় মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মীরসরাইয়ে ১৪২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই মুহুরী প্রজেক্টের। ফটিকছড়িতে ৩৩ কোটি, হাটহাজারীতে ২৩ কোটি, রাউজানে প্রায় ১০ কোটি টাকা। অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যে জানা যায়, বন্যায় ছোট-বড় ১৬ হাজার ৮৬৪টি মৎস্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব মৎস্য খামারের মোট আয়তন ৫ হাজার ৫শ ৪১ হেক্টর। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ১৬ হাজার ৫শ ৯৫ টন মাছ, যার আনুমানিক ক্ষতি ২৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ১৪ লাখ পোনা যার ক্ষতি ৫০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ২ লাখ পিএল চিংড়ির লার্ভা যার মূল্য ৪ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে জেলার মৎস্য খাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

ফটিকছড়ি উপজেলাতেই ক্ষতির পরিমাণ ৫০৬ কোটি টাকা

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মাছের প্রজেক্ট, ক্ষেতের ফসল, গৃহপালিত প্রাণী, রাস্তা-ঘাট ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টাকার অংকে এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০৯ কোটি টাকা বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে। 

উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, ৬০০টি বসতঘর সম্পূর্ন ধসে পড়েছে। আংশিক ৪৮০০ টি যার ক্ষয়ক্ষতি ৯৬ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ক্ষতি ১২০ কোটি, মৎস্য খাতে ক্ষতি ৩৮ কোটি, রাস্তা, ব্রীজ/কালভার্ট ক্ষতি হয়েছে ২২৩ কোটি। হালদা, ধুরুং, সর্তাসহ নদী খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ক্ষতির হিসাবে ১৫ কোটি এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের হিসাবে টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন ১৪ কোটি টাকা, বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজে ৮৮ লক্ষ, হাস-মুরগি ও প্রাণি খাদ্য ১ কোটি ৬৩ লাখ, বিদ্যুৎ বিভাগে ৮ লক্ষ  ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলায় জমি প্লাবিত হয়েছে ২০ হাজার ৬১১ হেক্টর। ৩০ হাজার ৪৬৪ জন কৃষকের শাক-সবজি, ধানসহ ১২০কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘সম্প্রতি আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় ফটিকছড়িতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টাকার অংকে এ ক্ষতির পরিমাণ ৫০৯ কোটি টাকার সমপরিমাণ। 

মিরসরাই: মিরসরাইয়ে বন্যায় ঘর-বাড়ি, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ প্রায় ৮'শ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মৎস্য ও পোল্ট্রি শিল্পে। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে আলাপ করে এতথ্য পাওয়া গেছে। তবে উপজেলা প্রশাসন এখনো ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করতে পারেন।

উপজেলার মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার মাছ চাষী শেখ ফরিদ বলেন, আমার প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। কিভাবে কি করবো কিছু বুঝে উঠতে পারছিনা। এরপর আবার শ্রমিকদের বেতন আছে খাদ্যর টাকা আছে। 

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রশাসক মাহফুজা জেরিন বলেন, আমরা এখনো তথ্য সংগ্রহ করছি। এখনো ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছেনা। তবে কয়েকদিনের ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

সীতাকুণ্ড: শুধু মৎস্য ও কৃষি খাতে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৪ কোটি ৩২ লাখ টাকারও অধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতে। এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অন্যদিকে কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। 

এবারে বৃষ্টির পাশাপাশি সাগরের পানির উচ্চতাও ছয় ফুটের মতো বেড়ে যায়। জোয়ারের ঢেউয়ের ধাক্কায় বাঁশবাড়িয়া ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ও ফসলের মাঠে লবণাক্ত পানি ঢুকেছে। সৈয়দপুর এলাকায় ঢলের জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচার জন্য রিং বাঁধ কেটে দিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে সেখানেও কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি ঢুকেছে। এসব এলাকার কৃষকেরা পরবর্তী সময়ে ভালো ফসল পাবেন কি না, এমন আশঙ্কায় রয়েছেন।

মুরাদপুর ইউনিয়নের কৃষক ফছিউল আলম বলেন, ৫০ শতক জমিতে মিষ্টি কুমড়া ও মরিচের চাষ করি। কিন্তু বন্যায় সব নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমার ১ লাখ বিশ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই ইউনিয়নের আরেক চাষি আবু তালেব বলেন, ২০ শতক জমিতে বরবটি, ঢেড়স, পরুলের চাষ করেছিলাম ঢলের পানিতে সব মরে গেছে। এতে ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ্ বলেন, উপজেলার সৈয়দপুর, বারৈয়ারঢালা, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড ও পৌর সদরের আংশিক এলাকার কৃষিজমি পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। 

এদিকে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ডুবে মাছ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে মোট পুকুর রয়েছে ৬ হাজার ২০৪টি। এর মধ্যে ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০০টি। সব মিলিয়ে ২৩৪ হেক্টর পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, উপজেলার উত্তর অংশে পুকুরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে একটা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। 

রোগী সেজে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী আটক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১১:০৮ এএম
রোগী সেজে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী আটক
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনবেশে মাদকের চালান লেনদেনের সময় ১৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাগির হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী খবরের কাগজকে জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকা থেকে একটি ইয়াবার চালান কক্সবাজার শহরের উদ্দেশে অটোরিকশায় করে নেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য পায় পুলিশ। এরপর নজরদারি জোরদার করা হয়। রাত ৯টার দিকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সন্দেহজনক একটি অটোরিকশা শনাক্ত করে দুইজনকে আটক করে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তারেকুর রহমান/থিওটোনিয়াস

মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম
মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন
ছবি: ইসমাইল

খুলনার সোনাডাঙ্গায় ইসমাইল নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর ওপর হেফজখানার শিক্ষকের অমানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের কারণে তার দুই চোখের নিচে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। এ ছাড়া নির্যাতনের সময় তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে নুরুল কুরআন তাহজিদ একাডেমি নামে মাদরাসাটি বন্ধ করে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যান। 

ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের পর শিশুটিকে তিন দিন পর্যন্ত মাদ্রাসায় আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ইসমাইলের বাবা মো. ফারুক স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে গত ২০ জুন রাতে তাকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বয়রা ডাক্তারপাড়া এলাকায় নুরুল কুরআন তাহজিদ একাডেমিতে এ ঘটনা ঘটে। পড়াশোনার জন্য ইসমাইল রাতে ওই মাদরাসায় অবস্থান করত।

শিশুটির বাবা মো. ফারুক জানান, গত দুই দিন মাদরাসায় রাতে খাবার দিতে গেলেও ছেলের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এ সময় ইসমাইলের গায়ে জ্বর ও চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। পরে ২০ জুন রাতে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় ঢুকে তার সন্তানকে উদ্ধার করেন। এ সময় তার সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান। তবে ভয়ে তিনি এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। স্থানীয় কিছু মানুষ ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার খবর শুনে রবিবার (২১ জুন) নুরুল কুরআন তাহজিদ একাডেমিতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি আব্দুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন
সেলিমা আহমাদ মেরী। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। 

সেলিমা আহমাদ মেরীর চাচাতো ভাই মিনহাজ আল-ইসলাম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন সেলিমা আহমাদ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

সেলিমা আহমাদ দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদের সহধর্মিণী ছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসায়িক অঙ্গনেও তিনি সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

১৯৬০ সালের ৭ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন সেলিমা আহমাদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ডেনমার্ক ও কানাডায় ব্যবসা ব্যবস্থাপনা এবং নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হোমনা ও তিতাস উপজেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং নারী আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

এফবিসিসিআই সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তার মরদেহ দেশে আনার পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।

অন্তরা/

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে পাথর বোঝাই একটি ট্রাকে থেকে ৩২০ পিস ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ (পার্টস)সহ মাহফুজুর রহমান (২৩) নামে একজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৯ বিজিবি)।

শনিবার (২০ জুন) রাতে উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের পাকা রাস্তায় এই অভিযান চালানো হয়। 

আটককৃত মাহফুজুর রহমান শিবগঞ্জ থানার কানসাট সংলগ্ন বাজিতপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।

রবিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২০ জুন) রাতে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক সেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল সীমান্ত পিলার থেতে আনুমানিক ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জে পিরোজপুর গ্রামের অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন একটি বাংলাদেশি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি করা হলে ট্রাকে থাকা ১০ টন ভারতীয় পাথরের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৩২০ পিস ভারতীয় ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় পাথর বোঝাই ট্রাকটি।

বিজিবি জানায়, সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে এসব ভারতীয় যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। আটক আসামিসহ জব্দকৃত ট্রাক, পাথর এবং যন্ত্রাংশসমূহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। 

এর আগে গত ১৯ জুনও এই ব্যাটালিয়নটি একটি পরিত্যক্ত পুকুরে অভিযান চালিয়ে ২০৭ পিস ভারতীয় যানবাহনের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছিল।

৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বিজিবি সব ধরনের চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি’র এ ধরনের কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

মো. আসাদুল্লাহ/অন্তরা/

ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়।ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার মারধরের ৪ ঘণ্টা পর জামিল হোসেন (৫০) নামের এক কৃষকের মৃত্য হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) রাতে উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জামিল হোসেনের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিনা গ্রামে। অভিযুক্ত ইউসুফ আলী ভাঙ্গুড়ার চড়-ভাঙ্গুড়া গ্রামের কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমানে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন আগে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে জামিল হোসেন তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে স্থানীয় এক ব্যক্তির ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।

নিহতের জামাই আব্দুল কাদের জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইউসুফ আলী তার শ্বশুর জামিল হোসেনকে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে চাপ দেন। তিনি কিছুটা দেরি হবে বলে জানালে ইউসুফ ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইলে সেই চাবি দিয়েই তাকে বেদম মারধর করা হয়। এরপর জোর করে ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৩ বিঘা জমির ধান মাড়াই করেন।

আব্দুল কাদের আরও জানান, কাজ শেষে তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন। সেখানে জামিল হোসেন অস্বস্তি অনুভব করলে পাশের বড়াল নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে ফিরে এসে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। জামিল হোসেন আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানান তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর চাপে স্বজনরা দ্রুত মরদেহ নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ইউসুফ আলী পলাতক রয়েছেন। তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ভাঙ্গুড়া থানার এসআই সুব্রত কুমার বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহের মাথার পেছনে সামান্য কাটা-ছেঁড়ার দাগ পাওয়া গেছে। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার কারণে ওই আঘাত লেগে থাকতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আজম বলেন, গতকাল সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।