সিলেটে সাশ্রয়ীমূল্যে ওপেন মার্কেট সেলে (ওএমএস) পণ্য কিনতে নির্ধারিত দোকান ও ট্রাকের সামনে ভোর থেকে ভিড় জমান নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে সংসার সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছেন তারা। তাই যেখানে দাম একটু কম পান সেখানেই ছুটে যান তারা।
সোমবার (২১ অক্টোবর) নগরীর চৌহাট্টা এলাকার আলিয়া মাদরাসার সামনে ওএমএসের পণ্য বিতরণ চলে। এ সময় ওএমএসের পণ্যবাহী ট্রাকের পেছনে নারী-পুরুষের লম্বা লাইন দেখা যায়। পুরুষের চেয়ে নারীদের লাইন ছিল তুলনামূলক লম্বা।
প্রতিনিয়তই খুচরা ও পাইকারি বাজারে বাড়ছে চালের দাম। তাই ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে মানুষজন প্রতিযোগিতামূলকভাবে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের থেকে জানা যায়, ওএমএসের পণ্য শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেককেই ফিরে যেতে হয় খালি হাতে।
বেলা ১২টায় দেখা যায়, সবাই ব্যাগ হাতে ট্রাকের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন। পাশেই একজন বসে নাম লিখে টাকা জমা নিচ্ছেন এবং ট্রাকে থাকা দুজন চাল আর আটা মেপে দিচ্ছেন।
লাইনে থাকা এক বৃদ্ধা বলেন, ‘সকাল আটটার সময় আইয়া লাইনো খাড়া হইছি, এখনো আমার সিরিয়াল আইছে না।’
সকাল আটটায় আসলে এখনো কেন চাল নিতে পারলেন না? জানতে চাইলে পাশ থেকে আরেক নারী বলে উঠলেন, ‘ওলাখান আরও দুই লাইন শেষ হইছে। তারা আমার আগে আইয়া লাইন ধরছিলা। এখন আমরার সিরিয়াল আইছে।’
একই জায়গায় নগরীর দাঁড়িয়াপাড়া থেকে আটা নিতে এসেছেন নির্মলা দাস। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘দোকানো খোলা আটা ৫০ টাকা কেজি করি কিনা লাগে। এরলাগি এই রইদের (রোদ) মাঝেও লাইনো উবা (দাঁড়িয়ে) আছি সরকারি আটা কিনার লাগি।’
নগরীর গোয়াবাড়ি থেকে চাল নিতে এসেছেন স্বপ্না বেগম। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঘরো চাওল থাকলে নুন দিয়াও ভাত খাওয়া যায়। এরলাগি ইখানো কম দামে চাল কিনাত আইছি। এত সময় ধরি লাইনো খাঁড়া। চাওল পাইমু যে ইটারও নিশ্চয়তা নাই। গোয়াবাড়ি থাকি ভাড়া লাগাইয়া আইয়া খালি হাতে গেলেতো আমার সবওই লস।’
তাদের কথা শুনে আর লম্বা লাইন দেখে আন্দাজ করা গেল ওএমএসের চাল আটার কদর।
প্রতিনিয়তই খুচরা ও পাইকারি বাজারে বাড়ছে চালের দাম। জুলাই-আগস্টে চালের দাম এক দফা বাড়ার পর আবারও বাড়ছে চালের দাম। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা।
শাকিলা ববি/মেহেদী/অমিয়/