কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৃগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ ও কৃষকদের ব্যবহৃত গোচারণভূমি দখল করে প্লট আকারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায় চেয়ারম্যানের পেটুয়া বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে মৃগা ইউনিয়নের মৃগা খেলার মাঠ ও গোচারণভূমিতে মানববন্ধন করেন গ্রামবাসী।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, মৃগা ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সবুজ শেখ, গ্রামবাসীর পক্ষে কালি লিটন চক্রবর্তী, কৃষক রমশদ মিয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘মৃগাসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের কৃষক এখানে বৈশাখ মাসে ধান মাড়াই-ঝাড়াই করে এবং খড় শুকায়। সারা বছরই মাঠটি গোচারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া কিশোর ও তরুণরা এই মাঠে খেলাধুলা করেন। মাঠটি মৃগা ইউনিয়নের ২০০ বছরের ঐতিহ্য। ২০২২ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা আক্তারের কাছে আমরা গেলে তিনি এখানে এসে জায়গাটিকে মাঠ হিসেবে ঘোষণা দিতে চেয়ারম্যান দারুল ইসলামকে নির্দেশনা দেন। পরে চেয়ারম্যান জায়গাটিকে নির্ধারিত খেলার মাঠ হিসেবে ঘোষণা দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এখানে বালু উত্তোলন শুরু হয়। মাঠ ভরাটের পর নিজ দখলে নিয়ে নেন চেয়ারম্যান। ওই সময় আমরা বাধা দিলেও রাজনৈতিক শক্তির কারণে টিকতে পারিনি।’
তারা বলেন, ‘গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) রাতের আঁধারে দারুলের নির্দেশে তার অনুসারীরা মাঠে বাড়িঘর নির্মাণ করতে চেয়েছিল। গ্রামবাসী বাধা দিলে চেয়ারম্যানের লোকজন পেশিশক্তি দেখায়। তানু ও সাদ্দাম দুই ভাই এবং আমাদের গ্রামের কিছু লোক মিলে গোচারণভূমি ও খেলার মাঠটিকে প্লট আকারে বিক্রি করছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে প্লটপ্রতি ৭০-৮০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। প্লট যখন বুঝিয়ে দেওয়া হবে তখন আরও কিছু টাকা নেবে। আমরা প্রশাসনের সহায়তা চাই যেন আমাদের মাঠ উদ্ধার করে দেয়।’
মাঠ দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর ওপর হামলার পর তাদের বিরুদ্ধেই বুধবার (৩০ অক্টোবর) ইটনা থানায় হয়রানিমূলক মামলাও করে চেয়ারম্যানের লোকজন। এতে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়।
এ বিষয়ে দারুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘যারা মানববন্ধন করছেন তারা এক সময় ঘরবাড়ি বানানোর পক্ষে ছিল। এদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঝামেলা চলছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।’
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনোয়ার হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘শুনেছি জমিটি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। খাস খতিয়ানের জমি দখল করে ঘরবাড়ি বানানোর নিয়ম নেই। গ্রামবাসী প্রতিবাদ করলে মৃগা ইউনিয়নে একটি ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন অবনতি না ঘটে এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’
ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলশাদ জাহান বলেন, ‘বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। আমি এখানে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। বিষয়টি দেখছি।’
জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, ‘এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেব।’
মিতু/পপি/