৫০ শয্যায় উন্নীত করে ২০১১ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করা হয়। স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১২টি জাতীয় পুরস্কার ও পদক পেয়েছে। জরুরি প্রসূতিসেবা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি এই পুরস্কারগুলো অর্জন করে। অথচ উদ্বোধনের ১৩ বছর অতিবাহিত হলেও স্বাস্থ্যসেবার এই প্রতিষ্ঠানটি পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও লোকবল পায়নি। এতে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-৪ আসনের (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ২০১১ সালে ৫০ শয্যার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সময় বলা হয়, পর্যায়ক্রমে চিকিৎসক, জনবল দিয়ে কমপ্লেক্সটিকে আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। কিন্তু উদ্বোধনের ১৩ বছর পার হলেও এখানকার চিকিৎসক ও জনবল সংকট কাটেনি। বরং দিন দিন এ সমস্যা বেড়েছেই চলেছে। রোগীর চাপ অনুযায়ী এখানে চিকিৎসক, কনসালট্যান্টের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। জনবল সংকটে প্রশাসনিক দপ্তরের কার্যক্রমও চলছে ঢিমেতালে।
জানা গেছে, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ২৪ ঘণ্টা রোগীর চাপ থাকে জরুরি বিভাগেও। বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে কনসালট্যান্ট সংকট ভোগান্তির মাত্রাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নাজনীন আফরোজ জানান, এখানে ১০ জন কনসালট্যান্ট থাকার কথা, আছেন মাত্র চার জন। পাঁচ জনের জায়গায় সহকারী সার্জন আছেন তিন জন, ইউনিয়ন পর্যায়ে সহকারী সার্জন সাত জনের স্থলে আছেন পাঁচ জন। লোকবল না থাকায় প্রশাসনিক দপ্তরের কর্মকাণ্ড গতি হারিয়েছে। এ বিভাগে স্বাস্থ্য সহকারী পদে ৩৪ জনের জায়গায় আছে ২৬ জন। ৮ জনের পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য। ক্যাশিয়ারের পদ প্রায় এক বছর ধরে শূন্য। ওই পদে থাকা ব্যক্তিকে বদলি করা হলেও এখানে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক, হেলথ এডুকেটর, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, অফিস সহকারী, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া ওয়ার্ডবয় দুই জনের জায়গায় একজন, বাবুর্চি দুই জনের পদে এক, আয়া দুই জনের জায়গায় এক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পাঁচ জনের জায়গায় তিন এবং এমএলএসএম পদের চার জনের পরিবর্তে কাজ করছেন দুই জন।
কর্মকর্তারা জানান, জনবল সংকটের কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সমন্বয় করে প্রতিদিনের কাজ চালানো হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, আগের চেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে এখানে জরুরি বিভাগের পাশাপাশি ডেলিভারি সেবা দেওয়া হয়। এর সঙ্গে এখন আরও যুক্ত হয়েছে চক্ষু, ডায়াবেটিক, শিশু চিকিৎসা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজস্ব এক্সরে মেশিন নেই। এনটিপি থেকে এক্সরে মেশিন দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। অপারেশন থিয়েটার চালু থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মালেকুল আফতাব ভুঁইয়া বলেন, ‘২০১১ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক, জনবল দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সংকটের কথা জানানো হয়েছে।’
জেলা সিভিল সার্জন ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, ‘ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসক, লোকবল সংকট থাকলেও চিকিৎসাসেবায় কমতি নেই। চিকিৎসক, কর্মকর্তা বদলি, অবসরের বিষয় রয়েছে। সেগুলো মেইনটেন্ট করে প্রতিষ্ঠান চালাতে হয়। সংকট সমাধানে চেষ্টা চলছে।’