লক্ষ্মীপুর হানাদারমুক্ত দিবস ছিল ৪ ডিসেম্বর বুধবার। ১৯৭২ সাল থেকে এ দিনটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও তৎকালীন মহকুমা এবং পরে জেলা প্রশাসন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে এলেও এবারই প্রথম দিনটি পালন করা হয়নি। এতে লক্ষ্মীপুরের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
লক্ষ্মীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সদর উপজেলার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. শাজাহান বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে খবরের কাগজকে বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের বড় অর্জন লক্ষ্মীপুরকে হানাদারমুক্ত করা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়ে আসছে। গত কয়েক বছর থেকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোনো কমিটি নেই। জেলা প্রশাসক জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বে রয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে এ দিনটি পালন করে আসছে জেলা প্রশাসক। কিন্তু এবারই প্রথম দিনটি পালন করা হয়নি। কেন জেলা প্রশাসন এ দিনটি পালন করেনি, সেটা ভাবতেই অবাক লাগছে।’
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার বশির খবরের কাগজকে বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর হানাদারমুক্ত দিবস প্রতিবছরই যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এবার কেন ও কী কারণে দিনটি পালন করা হয়নি, তা বোধগম্য নয়। দিনটি পালন না করায় একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত। মুক্তিযোদ্ধাদের এই অর্জন খাটো করে দেখা সুযোগ নেই।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকারের বক্তব্য জানার জন্য বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে লক্ষ্মীপুরের মুক্তিযোদ্ধারা শিক্ষকনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হায়দার চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে শহরের বাগবাড়ি ও মাদা ব্রিজ এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আল বদরের সর্বশেষ ঘাঁটিতে ত্রিমুখী আক্রমণ করে। রাতভর দুপক্ষের মধ্যে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ চলে। এক পর্যায়ে রাত পোহানোর আগেই পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা তাদের ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরের দিন ভোরে তাদের সর্বশেষ ঘাঁটি বাগবাড়ি শহিদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয় এলাকা দখল করে নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। হানাদারমুক্ত হয় লক্ষ্মীপুর।