গাজীপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র জয়দেবপুর বাজারে আধুনিক কিচেন মার্কেটের নির্মাণকাজ শেষ হলেও এক যুগেও চালু হয়নি। আড়াই শতাধিক ব্যবসায়ী প্রায় ১০ কোটি টাকা অগ্রিম দিয়েও তাদের দোকানের বরাদ্দ পাননি।
ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ২০০৯ সালে জয়দেবপুর বাজারে কিচেন মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৎকালীন গাজীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মার্কেটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর মার্কেট চালু না করেই আবার সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ করা হয়েছে। তবু কাঁচাবাজার চালু না হওয়ায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসায়ীরা কেনাবেচা করছেন।
সম্প্রতি দ্রুত মার্কেট চালুর দাবিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সামনে ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেছেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১২ সালের এপ্রিলে মার্কেটের নির্মাণকাজ শেষ করে। ১৮ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গার ওপর নির্মিত এই মার্কেটের নিচতলায় রয়েছে মাছ, তরকারি ও অন্য দোকান। দোতলায় রয়েছে নিত্যপণ্যের দোকান। ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গাজীপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করা হলে ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান কিচেন মার্কেটের উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধন হলেও বিভিন্ন কারণে কিচেন মার্কেট চালু হয়নি। তাই ব্যবসায়ীরাও তাই মার্কেটে উঠতে পারেননি।
জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলে আরেক দফা সংস্কার করা হয়। মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলম বহিষ্কার করা হলেও ব্যবসায়ীরা কিচেন মার্কেটে উঠতে পারেননি। এরপর ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও কাউন্সিল জাবেদ আলী কিচেন মার্কেটে দোকান বরাদ্দের কথা বলে ব্যবসায়ীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন। তবে অতিরিক্ত টাকা দিয়েও ব্যবসায়ীরা দোকান বুঝে পাননি।
দোকানের চুক্তিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, কিচেন মার্কেটের নিচতলায় কাঁচাবাজার ও মাছ বাজার এবং দ্বিতীয় তলায় নিত্যপণ্যের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাঁচাবাজারের জন্য দোকানপ্রতি ১ লাখ ২০ হাজার নেওয়া হয়। সেখানে ৭১ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দোকানপ্রতি ৬১ হাজার টাকা নেওয়া হয়। সেখানে ৮৮ জন মাছ ব্যবসায়ী থেকে ৫৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়। দ্বিতীয় তলার মোট ৯৬টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানের জন্য সর্বনিম্ন ৮ লাখ, সর্বোচ্চ ১৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। দোকানপ্রতি গড়ে ১০ লাখ টাকা হিসাবে টাকার পরিমাণ হয় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, ‘দোকান বরাদ্দের সময় ৮ লাখ টাকা দিয়ে দোকান বরাদ্দ নিয়েছিলাম। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও সিটি করপোরেশন এখনো আমাদের দোকান বুঝিয়ে দেয়নি। নতুন কিচেন মার্কেটে দ্রুত চালু করার জন্য আমরা বারবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি। বাজার কমিটি ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন বরাবর কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।’
জয়দেবপুর বাজার কিচেন মার্কেটের দ্বিতীয় তলার সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী অন্তু চৌধুরী বলেন, ‘দ্বিতীয় তলার দোকানের জন্য ৮ লাখ টাকা দিয়েছি কিন্তু এখনো দোকান বুঝে পাইনি। বারবার সিটি করপোরেশন মেয়র পরিবর্তন হয়। সবাই আশ্বাস দেন, তবে দোকান পাই না। এত বড় কিচেন মার্কেট পড়ে রয়েছে অথচ আমরা বাইরে ব্যবসা করছি।’
জয়দেবপুর বাজার কিচেন মার্কেটের দ্বিতীয় তলার সভাপতি সুভাষচন্দ্র সাহা বলেন, ‘ছয় মাসের জন্য বাইরে ব্যবসা করতে বলে ১২ বছরেও আর মার্কেটে উঠতে পারিনি। জোড়াতালি দিয়ে ব্যবসা করছি। ৮৮ মাছ ব্যবসায়ী টাকা দিয়েছেন, তারা এখন দোকান না পেয়ে কষ্ট করে ব্যবসা করছেন। আমরা চাই দ্রুত আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হোক।’