যশোরের শার্শা সীমান্তের ইছামতী নদীর পাড় থেকে এক দিনেই তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে দুইজনের এবং বিকেলে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এদের মৃত্যুর রহস্য এখনো জানা যায়নি।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল মিয়া, শর্শা থানার ওসি আমির আব্বাস বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, 'এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু উদ্ঘাটন হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। নিহতদের পরিবাররা মামলা করেছেন।'
নিহতদের মধ্যে নদীর পাড় থেকে দুজন এবং নদীতে ভাসমান অবস্থায় আরেকজনকে উদ্ধার করা হয়। তবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে এখনো পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি।
জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে শার্শা থানার অগ্রভুলোট সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় সাকিবুর রহমান নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বেনাপোল পোর্ট থানার দীঘিরপাড় গ্রামের জামিলুর রহমানের ছেলে। এর আগে সকালে একই এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে সাবু হোসেন ও একই থানার কাগজপুকুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের মরদেহ সীমান্তের পাঁচভুলোট ও পুটখালী থেকে উদ্ধার করা হয়।
সাবু হোসেনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে লোকমুখে খবর পান পুটখালী সীমান্তের ইছামতী নদী পাড়ে সাবু আহত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। বাড়িতে নিয়ে আসার পথেই সাবু মারা যান। মাঝে মাঝে মালামাল আনতে ভারতে যেতেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ভারতে থাকেন। তিনি ভারতীয় একটি মেয়েকে বিয়ে করে ওই দেশেরই নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে বসবাস করছিলেন। বর্তমানে ভারতীয় ভিসা বন্ধ থাকায় জাহাঙ্গীর কয়েক দিন আগে অবৈধ পথে ভারত থেকে বাড়িতে আসেন। গত মঙ্গলবার রাতে ভারতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন তিনি। পরে বুধবার সকালে জাহাঙ্গীরের মরদেহ পাঁচভুলোট সীমান্তের ইছামতী নদীর পাড় থেকে উদ্ধার করা হয়।
সাকিবুরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাকিবুর ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাকে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এর পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বুধবার বিকেলে শার্শার অগ্রভুলোট সীমান্তের ইছামতী নদীর পাড় থেকে তার মরদেহ করা হয়। পরে তারা জানতে পারেন লোভে পড়ে স্থানীয় কিছু চোরাকারবারির সঙ্গে সাকিবুর মঙ্গলবার রাতে চোরাচালানের পণ্য আনতে ভারতে গিয়েছিলেন। কীভাবে সে মারা গেছে, সে বিষয়ে তার পরিবার এখনো কিছুই জানতে পারেনি।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানায়, সীমান্ত থেকে যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ৫-৭ জনের একটি দল আছে। তারা ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক ও চোরাচালানি পণ্য অবৈধ পথে ভারত থেকে এনে দেশে সরবরাহ করতেন। তাদের ধারণা, ওই এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেনের ঝামেলায় অথবা বিএসএফের নির্যাতনের শিকার হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নজরুল ইসলাম/জোবাইদা/