জনসাধারণকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে দেশের জনগণকে বোঝাতে এবং তাদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে এবার ভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রামের ৬ তরুণ। যাদের প্রত্যেকে নবীন সাইক্লিষ্ট। সম্প্রতি তারা দেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে ফিরেছেন। তাদের সেই অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন খবরের কাগজের কাছে।
ইউনিয়ন সাইক্লিস্ট অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চট্টগ্রামের পটিয়ার সন্তান শামীম মাশুক আলম ৬৪ জেলা ৩২ দিনে ভ্রমণ করেছেন। একইসঙ্গে তারা প্রত্যেকে সারাদেশে গাছ লাগিয়েছেন। তিনি কক্সবাজার থেকে ৬৪ জেলা ভ্রমণ করা প্রথম সাইক্লিস্ট। বকিরা হলেন- মহেশখালীর মং মিউনাই, চট্টগ্রামের বোরহান উদ্দীন রাফি, অর্নব কুমার রায়, সাগর নাথ, রাকিবুল সুজন।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইক্লিস্ট শামীম মাশুক বলেন, ১৫ নভেম্বর আমরা বান্দরবান থেকে এই যাত্রা শুরু করি। আমাদের স্লোগান হচ্ছে স্ট্রার্ট রিভুলেশন ব্যাক টু বাইক। সাইকেলে ফিরে যেতে বিপ্লব শুরু করো। এরপর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী হয়ে কুমিল্লা, ব্রাম্মণবাড়িয়া এরপর সিলেটের হবিগঞ্জ। তারপর পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজার, বগুড়া, চূয়াডাঙাসহ অন্যান্য জেলায় ভ্রমণ করি। এসময় আমরা সারাদেশে গাছ রোপণ করি। নানাস্থানে আমরা মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করি। তাদেরকে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে বুঝাই এবং সচেতন করে তুলি। আমরা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কী এবং কেন, তা তুলে ধরি। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব নিয়ে আমরা কথা বলি। তাদেরকে প্লাস্টিকের, পলিথিন বর্জন, পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে জানাই। এছাড়াও আমরা কার্বন নিঃসরণ কমাতে সবাইকে সাইকেল চালাতে উৎসাহিত করি।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যেক জেলায় সার্কিট হাউজে রাত্রীযাপন করেছি। শুধু চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী সার্কিট হাউজে আমরা প্রবেশ করতে পারিনি যা অত্যন্ত দুঃখজনক। নোয়াখালিতে আমরা থাকতেও পারিনি। সেখানকার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার না কি এটাকে নিরুৎসাহিত করেছেন। কেন তা আমরা জানিনা। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাজকে অনেকে ছোট করে দেখেন। কিন্তু এভাবেই পুরোদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার যুদ্ধ শুরু হবে। সেই যুদ্ধটা আমরা শুরু করেছি। ২০১৬ সালে আমাদের এই সংগঠনের যাত্রা।
বোরহান উদ্দিন রাফি বলেন, প্লাস্টিক বর্জন করা, পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনা, মাদককে না বলা, সুদকে না বলা, কৃষি ট্রেনের ব্যবস্থা করা, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি কৃষক থেকে ক্রয় করা, সারের দাম কমানো, দারিদ্র্যের তারতম্যের ভিত্তিতে রেশন কার্ড চালু করা, সমুদ্রে প্লাস্টিকের দূষণ রোধ করা এবং সেন্টমার্টিনের প্রবাল প্রাচীর ও জীববৈচিত্র রক্ষা আমাদের অন্যতম দাবি। এগুলো সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই আমাদের লক্ষ্য।
মং মিউনাই বলেন, আমরা সারাদেশে ঘুরেছি সাইকেল নিয়ে। আমি যেটি বুঝেছি সেটি হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের মানুষজন এখনও দরিদ্র সীমার নিচে বাস করছে। তাদের এলাকায় উৎপাদন আছে কিন্তু বিক্রির দর কম। অথচ সেগুলো আমারা বেশি দামে কিনি। কৃষি ট্রেন চালু করলে দাম কমে আসবে। সাবইকে গাছ লাগাতে হবে। একটি গাছ কাটলে ১০টি রোপণ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আমাদের দেশে আইন আছে কিন্তু প্রয়োগ নেই।
এদিকে শুক্রবার বিকালে নগরেরে ডিসি হিলে চট্টগ্রাম ও আশেপাশের উপজেলার সাইক্লিস্টরা ৬৪ জেলা ভ্রমণকারী ৬ জনকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেয়। এসময় তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তারা কেক কেটে ৬৪ জেলা সফর কর্মসূচীর সমাপ্তি করেন।
এসময় ইউনিয়ন সাইক্লিষ্ট অব বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা শামীম মাশুক আগামী বছরের শুরুতে ভারতের আধিপত্য থেকে মুক্তি পেতে এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, সীমান্তে হত্যা বন্ধসহ নানা দাবিতে ৭টি টিম এসব কর্মসূচী করবে বলে ঘোষণা দেন।
মনির/মাহফুজ