কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুরনো ‘ক্ষোভের’ জেরে উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। উঠেছে নিন্দার ঝড়ও। এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন অনেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও আওয়ামী লীগের নেতাদের দ্বারাই নির্যাতিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছিল হত্যা মামলা। যার কারণে তিনি প্রায় সত বছর এলাকায় ছিলেন না। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শনিবার এলাকায় ফিরে আসেন। এর পরেই প্রতিপক্ষের রোষানলে পড়েন তিনি।
স্থানীয় জামায়াত সমর্থক আবুল হাসেমসহ কয়েকজন তাকে জুতার মালা পরিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, আবদুল হাই কানু ২০১৬ সালে জামায়াত সমর্থিত নেতা শিল্পপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া নঈমকে উপজেলার দুর্গাপুরের এক অনুষ্ঠান থেকে উঠিয়ে দেন এবং পরে তাকে এলাকা ছাড়া করেন। এ ছাড়াও লুধিয়ারা, কুলিয়ারা, পাতড্ডা, শনপুর গ্রামের অনেকেই তার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন।
যদিও পরবর্তীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকলে এক পর্যায়ে নিজেই এলাকা ছাড়েন।
ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাতে ফেসবুকে আমি এ ধরনের একটি ভিডিও ক্লিপ দেখেছি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বেও সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জহির শান্ত/তাওফিক/অমিয়/