পঞ্চগড়ের রেজাউল করিম হৃদয় একজন চিকিৎসক। তিনি কাজ করেন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। রাজধানীতে কাজ করলেও নিজ গ্রামের মানুষকে ভোলেননি। ২০২০ সালে এমবিবিএস পাস করার পর নিজ গ্রামে প্রতিবছর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ দিচ্ছেন তরুণ এই ডাক্তার। এতে গ্রামের গরিব, অসহায় ও দুস্থরা উপকৃত হচ্ছেন।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের আয়মা ঝলই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মেডিকেল ক্যাম্প করে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়েছেন ডা. হৃদয়। এদিন এলাকার ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাইকেই বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন তিনি।
সেবা ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গ্রামে বাস করি। আমরা গরিব মানুষ, দিনে আনি দিনে খাই। রোগবালাই হলে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ এনে খাই। ভালো ডাক্তারকে দেখানোর সুযোগ হয় না। ডা. রেজাউল করিম হৃদয় আমাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়েছেন। এতে আমরা অনেক অনেক খুশি।’
বৃদ্ধা আলেমা খাতুন বলেন, ‘আমি আগেও হৃদয় ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েছি। আজকে হঠাৎ খবর পেলাম, তিনি স্কুল মাঠে আবারও বিনা পয়সায় রোগী দেখছেন ও ওষুধ দিচ্ছেন। তাই এসেছি। অনেক ভালো ভালো পরামর্শ দিয়েছেন।’ রাফি আক্তার বলেন, ‘আমার রক্তের গ্রুপ জানতাম না। এখানে এসে রক্তের গ্রুপ জানতে পেরেছি।’
আয়মা ঝলই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুব ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অনেকেই রক্তের গ্রুপ জানেন না; ডায়াবেটিস কী সেটাই জানেন না। আমাদের গ্রামের সন্তান ডাক্তার রেজাউল করিম হৃদয় নিজ উদ্যোগে গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিচ্ছেন। এটি একটি সুন্দর উদ্যোগ।’
ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে ২০২০ সালে ড. রেজাউল করিম হৃদয় এমবিবিএস পাস করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিনিয়র রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি উচ্চতর ডিগ্রির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ডা. রেজাউল করিম হৃদয় বলেন, ‘আমার গ্রামের মানুষ অনেক গরিব। তারা স্বাস্থ্য বিষয়ে তেমন সচেতন নন। অসুস্থ হলে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ এনে খান। তাদের রক্তের গ্রুপ জানেন না। অনেকের ডায়াবেটিস আছে, কিন্তু কখনো টেস্ট করেননি। অনেক অসুস্থ মানুষ টাকার অভাবে জেলা শহর কিংবা রংপুর, দিনাজপুর যেতে পারেন না। ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল, বড় হয়ে চিকিৎসক হব। ডাক্তার হয়ে প্রথমে আমার গ্রামের মানুষদের সেবা করব। আমি এমবিবিএস পড়া অবস্থা থেকেই গ্রামের মানুষদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এর আগেও তিনবার গ্রামের মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, বিনামূল্যে ওষুধ ও বিভিন্ন টেস্ট করিয়েছি। ভবিষ্যতেও আমি আমার এমন উদ্যোগ চালিয়ে যাব।’