তিস্তার পানির সমস্যা সমাধানে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব এবং বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যাওয়া-এটা উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘ দিনের সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনে আপনাদের একটা সুখবর দিয়ে যাই, আমাদের মাননীয় পানি সম্পদ উপদেষ্টা এবং আমরা সকলে মিলে আগামী বছরের শুরুর দিকে উত্তরবঙ্গে আসব এবং তিস্তার যে পানির সমস্যা এটির দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কীভাবে হতে পারে তার জন্য গণশুনানির আয়োজন করা হবে। আমরা উত্তরবঙ্গের মানুষের কথা শুনব, তিস্তা নিয়ে আপনাদের কথাগুলো শুনে তার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহৎ পরিসরে একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং আমি আশাবাদী আপনাদের এই দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যার একটা সমাধান হবে।’
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরের নীলফামারী জলঢাকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আপনার জানেন যে এবার বিপিএল আয়োজন করা হচ্ছে ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্রগ্রামে। উত্তরবঙ্গে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ছিল কিন্তু সংস্কার কার্যক্রম নানা জটিলতার কারণে সেটি এখন ব্যবহার উপযোগী নয়। সেটি অতি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে এবং যে তিনটি স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের খেলা হয় এবং বিপিএলের ভেনু হিসেবে ধরা হয় সেই স্টেডিয়ামগুলোর সঙ্গে এই উত্তরবঙ্গের বগুড়া স্টেডিয়াম আগামী বছর থেকে এই তালিকায় যুক্ত হবে।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া জানান, উন্নয়নের ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক বৈষম্য আর থাকবে না। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের যে চলমান প্রকল্পগুলো আছে সেই প্রকল্পগুলো আমরা লক্ষ্য করেছি যে নিদিষ্ট কিছু অঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত মাত্রায় প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কিছু অঞ্চল বৈষম্যর শিকার হয়েছে। আমরা সেগুলোকে পূনর্বন্টন করছি। উন্নয়ন যেন সারা বাংলাদেশে শুষমভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, এজন্য যে অঞ্চলগুলো বৈষম্যের শিকার হয়েছে সেই অঞ্চলগুলোর জন্য বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। খুব দ্রুতই আপনারা দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহিদ ইমরুল মোজাক্কিন সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর, অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সংগঠক আবু সাইদ লিওন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলাম, জেলা জামাতের সুরাহ সদস্য ওবায়দুল্লা সালাফি জলঢাকা উপজেলার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা।
ওয়ালি মাহমুদ সুমন/মাহফুজ/এমএ/