চট্টগ্রামের প্যারেড মাঠে সোমবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল। মাহফিলকে ঘিরে চট্টগ্রাম কলেজ, মহসীন কলেজ, চকবাজার, প্যারেড মাঠ, সিরাজদ্দৌলা সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সাজসাজ রব বিরাজ করছে। প্যারেড মাঠে বিশাল আকারে প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে।
সাজানো হয়েছে হরেক রকম আলোকসজ্জা। লাগানো হয়েছে ৫ শতাধিক মাইক। বসেছে আড়াই শতাধিক স্টল।
এবারের মাহফিলে বিশেষ আকর্ষণ ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মাহফিল শেষ হবে ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার। ধারণা করা হচ্ছে, এতে শহরের ২৫ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে। মাহফিলে প্যারেড মাঠে এত মানুষের সংকুলান না হলেও নগরের কাজেম আলী হাই স্কুল, কিশলয় কমিউনিটি সেন্টার, মহসিন কলেজ ও আশপাশের ছোটখাটো মাঠগুলোতে নারীদের জন্য বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে বসেছে ইবনে সিনা, পার্ক ভিউসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। স্টলগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই ইসলামি বই, টুপি, আতর, তসবি, মিছওয়াক, মধুর দোকান। এ ছাড়া ছোটখাটো খাবার ও পায়জামা, পাঞ্জাবি, পাগড়ির দোকানও বসেছে মাঠের আশপাশে ও বাইরে।
মাহফিলের আয়োজক সংস্থা ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রামের প্রচার বিভাগীয় দায়িত্বশীল মুহাম্মদ উল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, ‘৬ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত আছে মাহফিলে। তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিটকির মাধ্যমে তথ্য মুহূর্তেই নেওয়া হচ্ছে কোথায় কী হচ্ছে?’ তিনি আরও বলেন, ‘৫ শতাধিক মাইক, কয়েক হাজার লাইট লাগানো হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে যেসব গাড়ি আসবে সেগুলোর পার্ক করার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মিডিয়ার জন্য মাহফিল কাভারের সুব্যবস্থা, রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও হাসপাতালে নিতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। সারা শহরে আনন্দ উৎসব বিরাজ করছে। ঘরে ঘরে মেহমান এসেছে।
এ বিষয়ে নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসি শাকিলা সোলতানা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমনসহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে সতর্ক আছে পুলিশ। পাশাপাশি আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। মাহফিল ঘিরে ছিনতাই-চুরি বাড়তে পারে। এ জন্য আমাদের আলাদা নজরদারি আছে।’