কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থায়ীভাবে নির্মিত দুইটি কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র।
অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কেন্দ্রগুলোর ভবন এখন পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত স্থাপনায়।
কোথাও জন্ম নিয়েছে ভুতুড়ে পরিবেশ, কোথাও পোকামাকড়। ঝোপঝাড়ের দখলে চলে গেছে সরকারি স্থাপনা।
ফলে প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার কৃষক ও খামারিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২০০০ সালে প্রকল্পের আওতায় খোকসা উপজেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অধীনে নয়টি ইউনিয়নে কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র চালু করা হয়। এর মধ্যে জয়ন্তী হাজরা ও আমবাড়িয়া ইউনিয়নে স্থায়ীকেন্দ্র এবং বাকি সাতটি ইউনিয়নে অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। যারা মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম প্রজননসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই স্থায়ী দুইটি কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমানে স্থাপনাগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি সেবা না থাকায় তাঁরা পল্লী প্রজননকর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আবার ইউনিয়ন পর্যায়ে উপজেলা প্রাণি সম্পদ থেকে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁদের থেকেও প্রয়োজনীয় সেবা সবসময় পাওয়া যায় না। এ সুযোগে প্রজননকর্মীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
শিমুলিয়া এলাকার কয়েকজন খামারি জানান, সরকারি নির্ধারিত খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে যাতায়াত ভাতা, স্ট্রো (হিমায়িত সিমেন) ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩১৫ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, খোকসা উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ২১০টি গাভী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ গাভীর প্রজনন কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে এবং বাকি ১০ শতাংশ ষাঁড়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় পশুপালক শাহজাহান আলী বলেন, “ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতে কোনোদিন ডাক্তার আসতে দেখি না। প্রয়োজনের সময় সেবা পাওয়া যায় না। ফলে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি।”
জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম খান বলেন,“সরকারি জমির ওপর নির্মিত এই কেন্দ্রটি বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে আছে। বর্তমানে জমিটির মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। দ্রুত দখলমুক্ত করে কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা উচিত।”
খামারি জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, “সরকারি কোনো সহযোগিতা আমরা ঠিকমতো পাই না। প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন মেলে না। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে কিনতে হয়।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে খোকসা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোহেল রানা বলেন,“ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থায়ী দুটি কেন্দ্র রয়েছে—এ বিষয়টি আমি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। স্থান পরিদর্শনও করেছি। আমাদের অফিসে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র নেই। তবে মাঠপর্যায়ে প্রজননকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে সেবা দিয়ে থাকেন।”
এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন,“আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রঞ্জন ভৌমিক/এসএন