সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে শুল্ক কর্তৃপক্ষের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে পণ্য লোড-আনলোড সেবা প্রদান না করেই ঠিকাদার কর্তৃক বছরে প্রায় ২২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান পরিচালনা করে। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দিনভর তামাবিল স্থলবন্দরে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট থেকে এই এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, শ্রমিক, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয় এবং নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়।
অভিযান শেষে দুদক কর্মকর্তা জানান, সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ঘোষণার চেয়ে অধিক পণ্য আমদানি করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে পণ্য খালাসে তিন কোটির বেশি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয় এ স্থলবন্দরে। এসব বিষয়ে অধিকতর তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদকের চার সদস্যের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। দুদক সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। অভিযানকালে তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই অভিযানের তথ্য পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টে বলা হয়, ৩টি অভিযোগের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের পর্যালোচনায় বলা হয়, মেসার্স হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেবার সরবরাহ না করেই ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেআইনিভাবে ১০ কোটি ৮৭ লাখ ৬ হাজার ৪৬৯ টাকা লেবার খরচ বাবদ উত্তোলন করেছে। আমদানিকারকগণ নিজেদের শ্রমিক দিয়ে পাথর লোড-আনলোড সম্পন্ন করেছে। এলসি অনুমোদিত প্রতি ট্রাকে ৫ টন পাথর থাকার কথা থাকলেও ১০-১২ টন করে আমদানি করা হয়, কিন্তু অতিরিক্ত ৬ টনের শুল্ক (প্রতি ট্রাকে ৩,৩৬০ টাকা) পরিশোধ করা হয়নি। প্রতিদিন ৪৫০টি ট্রাকে আনুমানিক ১৫ লাখ ১২ হাজার টাকা শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে, যার বার্ষিক পরিমাণ প্রায় ৩৩২.৬৪ কোটি টাকা।
সার্বিক দিক বিবেচনায়, শুল্ক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে সরকার উক্ত বন্দরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে মর্মে টিমের নিকট অভিযানকালে প্রতীয়মান হয়েছে।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আমদানিকারকদের কাছ থেকে অভিযোগ পায়নি তারা। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ওজন থাকলে কাস্টমস নিয়মিত মামলা দায়ের করছে বলে দাবি তাদের।
দুদক সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার জানান, তামাবিল স্থলবন্দরে লোড আনলোডের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ৫ টনের ট্রাকে আসছে ১০ থেকে ১২ টন পণ্য। প্রতি ট্রাকে ৫ থেকে ৬ টন পণ্য বেশি আসছে। এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫শ ট্রাক আসছে। সে হিসেবে দিনে ১৫ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর মাসে হারাচ্ছে ৩ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা। তামাবিলে হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লোড-আনলোডের কোনো কাজ না করেই গত অর্থ বছরে (২৩-২৪) প্রায় দশ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। অভিযানে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযান চলাকালীন সংগৃহীত রেকর্ড ও তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এ ব্যাপারে তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আমদানিকারকদের কাছ থেকে আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। পাশাপাশি পণ্য পরিবহণে অতিরিক্ত ওজন থাকলে কাস্টমস নিয়মিত মামলা দায়ের করছে বলে দাবি তার।
শাকিলা ববি/মাহফুজ