লক্ষ্মীপুরে আদালত এলাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে লিফলেট বিতরণ করার চেষ্টা করে। এসময় উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া করে দুইজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। আটক পরান চৌধুরীকে পুলিশে সোর্পদ করে জনতা। অন্যজন কৌশলে পালিয়ে যায়।
লিফলেট বিতরণে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আইনজীবীদের একাংশ আদালত অঙ্গনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিচে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, আইনজীবী ও স্থানীয়রা জানায়, বেলা ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত চার শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া অন্য কয়েকজন জামিনে থাকা আসামিও আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। পরে হাজিরা দিয়ে বের হন আসামিরা। এসময় গ্রেপ্তার ও জামিনে থাকা আসামিরা আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে জামিনে থাকা আসামিরা সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহল আমিনের নেতৃত্বে কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মী লিফলেট বিতরণ করার চেষ্টা চালায়। এসময় আদালতে থাকা উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর হামলা ও ধাওয়া করে। এতে আটক একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করে। অন্যজন পালিয়ে যায়। এরপর আদালত প্রাঙ্গণে লক্ষ্মীপুর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের আইনজীবীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এসময় বক্তব্য রাখেন, জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিউকিউটর মো. আহমেদ ফেরদৌস মানিক ও অ্যাডভোকেট মহসিন কবির মুরাদসহ অনেকেই।
বক্তারা বলেন, খুনি হাসিনার দোসরাও এখনো বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণে জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে লিফলেট বিতরণ করার সাহস পায় কীভাবে?’ অনতিবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারী দেন তারা।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল মোন্নাফ বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে গণধোলাই দিয়ে পরান চৌধুরী নামে একজনকে পুলিশে সোর্পদ করা হয়েছে। এঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম/মাহফুজ