শেরপুরের শেরী ব্রিজের পাশে মৃগী নদীর তীরে দিগন্তজুড়ে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। বিস্তৃত এই বাগানে সূর্যমুখী ফুলগুলো সূর্যের দিকে মুখ করে হাসছে। এসব ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দর্শনার্থীর ভিড় লেগে থাকে। সবার চোখে একটাই প্রশ্ন- কীভাবে এই বাগান এত জনপ্রিয় হলো?
এখানে কৃষকরা সাড়ে চার একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের বাগান করছেন। এবার কৃষি বিভাগের সহায়তায় বাগানটি তৈরি হয়েছে। প্রথমে তারা সরিষা চাষ করছিলেন, কিন্তু পরে সূর্যমুখী ফুলের বাগান তৈরি করলেন। এতে এই বাগানটি কৃষি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
বাগানে প্রবেশ করতে হলে দর্শনার্থীদের টিকিট নিতে হয়। টিকিটের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা। এই টাকা দিয়ে একদিকে আয় হচ্ছে, অন্যদিকে ফুল ও গাছ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করার কাজে খরচ করা হচ্ছে। প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে ছবি তোলেন, সেলফি তোলেন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেন।
অনেক দর্শনার্থী জানান, তারা বাগানটি ফেসবুকে দেখে এখানে এসেছেন। জামালপুর ও শেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও এই বাগান অনেকের নজর কেড়েছে। দর্শনার্থী আইরিন বলেন, ‘বাগানটির সৌন্দর্য দেখে মনটা আনন্দে ভরে গেছে। এখানে আসতে খুব ভালো লাগছে।’ সিমা আক্তার বলেন, ‘সূর্যমুখী ফুল আমার খুব পছন্দ, তাই এখানে এসেছি। ৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটার পরও কোনো কষ্ট হচ্ছে না।’
বাগানের উদ্যোক্তারা জানান, তারা প্রাথমিকভাবে ফুলগাছ রক্ষা করতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা ফি নিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ৪-৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। এই আয় তাদের খরচ মেটাতে সাহায্য করছে। উদ্যোক্তা হায়দার আলী বলেন, ‘এত মানুষ আসবে ভাবিনি। তবে এখন কৃষকদের জন্য এটি লাভজনক হয়েছে।’
এখন সূর্যমুখী ফুলের বাগান শেরপুর জেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্থলে পরিণত হয়েছে। কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সূর্যমুখী চাষের জন্য এই জমি খুব উপযোগী। এর তেল স্বাস্থ্যকর। বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে।’ সূর্যমুখী তেলের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে সয়াবিন তেলের আমদানি কমানো যাবে, যা দেশের জন্য অনেক উপকারী হবে।
এখন শেরপুরের সূর্যমুখী ফুলের বাগান শুধু একটি কৃষি ক্ষেত্র নয়, এটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। দর্শনার্থীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। তাদের একান্ত অনুভূতি— ‘এটা যেন প্রকৃতির এক সুন্দর উপহার।’