পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে। প্রায় ৩২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গাইবান্ধা অংশে সারা বছরই লেগেই থাকে দীর্ঘ যানজট। ইতোমধ্যে মহাসড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হচ্ছে ছোটখাটো যানজট। যানবাহনের ধীরগতি থাকায় সময় লাগছে বেশি। এতে ঘরমুখে মানুষরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। চৈত্রের রোদের ভ্যাপসা গরমে গাড়িতে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি কষ্ট পাচ্ছে। জেলা ও উপজেলা শহরের বেড়েছে যানবাহন। শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নেই। ট্রাক-অটো-সিএনজি অবাধে চলাচলের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। কয়েকটি জায়গায় ডাকাতের ভয়ও রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চারমাথার দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড থেকে উত্তরে তেলের পাম্প পর্যন্ত, ফাঁসিতলা, বালুয়াবাজার, পলাশবাড়ী উপজেলার শহরে তিন মাথা, গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ড, ঝুনদহ, কমরপুর বাজার এসব এলাকায় যানজট প্রায় লেগেই থাকে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিকেল পযর্ন্ত থেমে থেমে যানজট তৈরি হচ্ছে। গাড়ির ধীরগতি। লাইন ধরে চলাচল করছে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট যানজট থাকে। এছাড়া ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে জেলা শহর। শহরের মাঠেরবাজার, তুলশীঘাট, গাইবান্ধা শহরের ট্রাফিক মোড়, রেলগেট, পুরাতন জেল খানার মোড়, বালাসীর রোড়ে পুলবন্দী, এদিকে শহরের প্রবেশদার ব্রিজ রোড়ের পুরাতন ও নতুন ব্রীজ এলাকা, পোস্ট অফিসের সামনে, দাড়িয়াপুরহাট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার রাত থেকে এই সব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ না থাকার অভিযোগ একাধিক স্থানীয় ব্যক্তিদের। তাদের দাবি, শহরের ভেতর ট্রাক যাতায়াত করছে। অটোরিকশা, সিএনজিগুলো যানজটের অন্যতম কারণ। ট্রাফিক তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।
সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, এবারের ঈদযাত্রায় গাইবান্ধার মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে। তবে শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাত থেকে যানজট কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে ফ্লাইওভার, বাজার এলাকা ও সংযোগ সড়কের কারণে সাময়িকভাবে এই দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকটি জায়গায় ডাকাতের ভয়ও রয়েছে। মহাসড়কের গাইবান্ধা অংশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে ও মানুষের দুর্ভোগ কমাতে হাইওয়ে পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেন।
তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়কের ওপর অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মিটিং করা হয়েছে। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। যানজট চিহৃত এলাকায় মাইক বসানো হয়েছে। সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে মাইকে কথা বলা হচ্ছে।
এদিকে, সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের আতোয়ার মিয়া নামের এক ব্যবসায়ি বলেন, জেলা শহরে আমি একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করি। ঈদের সময়ে গভীর রাতে বাড়িতে আসতে হয়। তখনো সড়কের ব্যাপক জ্যাম থাকে। সকালে আবার দোকানে যেতে ২০ মিনিটের রাস্তা প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে। বিশেষ করে, ব্রীজ রোডে বুধাবর থেকে যানজট ব্যাপক হারে বেড়েছে।
ঈদের বাজার করতে আসা রোজিনা বেগম বলেন, সকালে পুরাতন জেলখানা মোড় থেকে ১নং রেলগেট যেতে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু আজ তা প্রায় আধাঘণ্টা ধরে রিকশায় থাকতে হয়েছে। তবে সড়কে শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা সঠিকভাবে কাজ করলে হয়তো এতো সময় লাগতো না।
জেলা ট্রাফিক বিভাগের পরির্দশক (প্রশাসন) শাহ আলম, ঈদকে সামনে রেখে শহরের যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়ছে। এক্ষেত্রে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। শহরের যানজট নিরসনে গুরুত্বপুর্ণ জায়গাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রফিক খন্দকার/মাহফুজ