কামরুজ্জামান মিন্টু/জোবাইদা/
কামরুজ্জামান মিন্টু/জোবাইদা/
দারিদ্র্য কখনো কখনো মানুষের স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তেমনই এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থী উখ্যাইংওয়ং মারমা। দীর্ঘ সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর বিবিএ (মার্কেটিং) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম চান্দা হেডম্যান পাড়া গ্রামের বাসিন্দা উখ্যাইংওয়ং মারমা। সীমিত আয়ের পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। জীবনের অনেকটা সময় তিনি সরকারি শিশু সদনে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও তিনি কখনো শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি।
উখ্যাইংওয়ং জানান, ২০২৩ সালে ফরহাদাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ ৪.৬১ অর্জন করেন। পরে ২০২৫ সালে হাটহাজারী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ধারাবাহিক এই সাফল্যের ফল হিসেবে তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় ৩৫৩৯তম স্থান অর্জন করেন এবং বিবিএ (মার্কেটিং) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ভর্তি ফি, আবাসন, যাতায়াতসহ প্রাথমিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার প্রয়োজন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় এখনো ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি।
কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে উখ্যাইংওয়ং বলেন, "পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের মেধা আর পরিশ্রমের ওপর ভর করে এতদূর এসেছি। কিন্তু এখন অর্থের অভাবে যদি ভর্তি হতে না পারি, তাহলে শুধু আমার নয়, আমার বাবা-মায়েরও বহুদিনের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। আমি চাই পড়াশোনা করে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করতে।"
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, উখ্যাইংওয়ং মারমার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। সামান্য আর্থিক সহায়তা একটি মেধাবী তরুণের জীবন বদলে দিতে পারে এবং তাকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
বর্তমানে উখ্যাইংওয়ং মারমা তার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, দাতা সংস্থা ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা না হলে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থমকে যেতে পারে।
মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্ত্বেও যেন অর্থের অভাবে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হারিয়ে না যায়— এমনটাই প্রত্যাশা তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
রিজভী রাহাত/নাঈম
রাজবাড়ীতে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আপন ফুফাকে গ্রেপ্তার করেছে রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে অভিযুক্ত মাসুদ মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্ত বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, কোরবানীর ঈদের আগে মাসুদ খান শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যায়। ২৭ মে শিশুটিকে ঘরে রেখে তার মা বাইরে কাজ করতে যাওয়ার সুযোগে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে ২ জুন তারিখে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার একমাত্র আসামি মাসুদ মন্ডলের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাজধানী ঢাকার ডিএমপির হাতিঝিল থানা এলাকা হতে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজবাড়ী আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে তাকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়।
সুমন/আমান
মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা আসামি ও যুবদলকর্মী শহিদুল্লাহ রাসেল (৪১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে কারা পুলিশের তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
মৃত শহিদুল্লাহ রাসেল কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের আটিটি খন্দকার বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি পেরুল উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
জানা যায়, গত ১০ মে বিকেলে লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের শাসনপাড়া গ্রাম থেকে ১০২ পিস ইয়াবাসহ রাসেলকে গ্রেপ্তার করে লালমাই থানা পুলিশ। পরদিন ১১ মে আদালতের নির্দেশে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি কাশি ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ১৯ মে কারা হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেন। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকাল ৯টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান জানান, রাসেল কারাগারে আসার আগ থেকেই নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। পূর্ববর্তী চিকিৎসা নথির আলোকে কারা চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা নিশ্চিত করেন এবং নিয়মিত ফলোআপে রাখেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি আরও জানান, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কার্ডিয়াক শকে রাসেলের মৃত্যু হয়। পরে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জহির শান্ত/এসএন
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ছোটশলুয়া গ্রামে বজ্রপাতে শের আলী (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ছোটশলুয়া বোরিং মাঠে ধানক্ষেতে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
এতে শের আলী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শের আলী ছোটশলুয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মিজানুর/আমান
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্য গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে চোখ বেধে অমানবিক নির্যাতন উদ্দেশ্য প্রণীত কিনা তদন্ত করা হচ্ছে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই মামুন, এসআই আমান ও কনস্টেবল কবির। তাঁরা কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় কর্মরত বলে পুলিশের সূত্র থেকে জানা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ওই তিন পুলিশ সদস্য নিজেদের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন বলেন, ব্ল্যাক মেইল করে অর্থ আদায়ের কোন অভিযোগ থাকলে থানা পুলিশকে জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। পুলিশ সদস্যদেরে আটক করে চোখ বেধে নির্যাতনের উদ্দেশ্য প্রণীত কিনা এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা অভিযোগ ছিল। ঘটনার দিন তাঁদের সন্দেহজনক আচরণ দেখে এলাকাবাসী জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে অনেকে তাঁদের ভুয়া ডিবি পুলিশ সন্দেহে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারধর করে।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তাঁরা আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। তবে তারা কিভাবে ওই এলাকাতে গেলো এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।
মো: ইমরান হোসেন/এসএন