বাঁশখালীতে কাদায় আটকে পড়া হাতিটি মারা গেছে। গত ৫ মার্চ স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে জলদি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের নাপোড়া বিটের গভীর বনে ঝিরির কাদায় আটকে পড়া বন্য হাতিটিকে উদ্ধার করা হয়। আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী মা হাতিটিকে ঝিরির পাশেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
উদ্ধারের পর দীর্ঘ ২৩ দিন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসা দেওয়ার পরও শুক্রবার (২৮ মার্চ) বেলা ২টার দিকে হাতিটি মারা যায়।
বাঁশখালীর রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘২৫ মার্চ থেকেই হাতিটি মুখে খাবার নিচ্ছিল না। আমরা স্যালাইন ও অ্যান্টিবায়োটিক চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কাদায় আটকে পড়ে আহত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি না পেয়ে আগে থেকেই খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিল।’
তিনি আরও কলেন, ‘উদ্ধারের পর হাতিটি উঠে দাঁড়াতে বা বসতে না পারলেও মোটামুটি খাবার খাচ্ছিল। কিন্তু তিন দিন ধরে খাবার না খাওয়ায় আরও দুর্বল হয়ে শুক্রবার বেলা ২টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।’
দোহাজারি সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জনের তত্ত্বাবধানে হাতিটির চিকিৎসা শুরু হয়। বন বিভাগের ১০-১২ জন কর্মী প্রতিদিন প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে পাহাড় ও ঝিরি পার হয়ে গভীর বনে গিয়ে হাতিটির পরিচর্যা করেছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।
হাতিটির ওজন ২ টনের বেশি হওয়ায় দুর্গম বনের গভীর থেকে তাকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। দিনের বেলায় যতটা সম্ভব চিকিৎসা ও সেবা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু রাতে ওই এলাকায় বন্যহাতির বিচরণ থাকায় সেখানে থাকা নিরাপদ ছিল না। তারপরও বন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাতিটিকে সারিয়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, ‘মাঝখানে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে হাতিটিকে ক্রেনের সাহায্যে তুলে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়। এরপর থেকেই তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।’
হাতিটির চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার জুলকারনাইন জানান, ‘উদ্ধারের পরদিন থেকেই হাতিটিকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ দেওয়া শুরু হয়। ১২ মার্চ পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। তবে একজন আন্তর্জাতিক হাতি বিশেষজ্ঞের পরামর্শে তাকে ওষুধ দেওয়া বন্ধ করার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দেশের হাতি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের পরামর্শও নিয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’ ময়নাতদন্ত শেষে হাতিটিকে ঝিরির পাশেই মাটিচাপা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাসের মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, ‘বনে কোনো হাতি বা বড় কোনো বন্যপ্রাণী আহত হলে তাকে উদ্ধার করার মতো সক্ষমতা আমাদের নেই। হাতিটিকে গভীর বন থেকে উদ্ধার করতে বিশেষায়িত হেলিকপ্টারের প্রয়োজন হতো। আবার প্রাণীটি রাখার জন্য ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমাদের এসব সুবিধা নেই।’
মাহফুজ/