আগামী প্রজন্মকে মেধা-মননে আলোকিত করতে হলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন খাঁন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের দিশা টাওয়ার মিলনায়তনে আলহাজ বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সমাজে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা অসম্ভব মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিজেদের সঠিকভাবে বিকশিত করতে পারে না। উন্নত শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে তারা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য এসব অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো একটি মহৎ কাজ। আমাদের একটু সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আলহাজ বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন সমাজের অসহায়, দুস্থ এবং অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়াসহ শিক্ষা ও সংস্কৃতির মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমি মনে করি, এ ফাউন্ডেশন থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে। পরবর্তী জীবনে তারাও এভাবে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং আগামী প্রজন্মকে মেধা-মননে আলোকিত করতে হলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
এ সময় ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলহাজ বেলায়েত শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. বশির আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য হাফিজ আল আসাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আনোয়ারুল কবির এবং ময়মনসিংহের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ও বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডিন শেখ সুজন আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক নাজমুল হুদা।
সভাপতির বক্তব্যে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বশির আহমেদ বলেন, ‘পিতার নামে শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তাসহ অনেক সামাজিক কাজে আত্মনিয়োগ করার চেষ্টা করেছি, যা আজকে এটা তারই একটা অংশ। আমি মনে করি এসএসসি পাসের পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য এ টাকা কিছু নয়। তার পরও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে উৎসাহ পায়, উচ্চশিক্ষায় আরও এগিয়ে যায় সে জন্য এ উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, ‘আজকে ৫০ জনের মধ্যে ১০ লাখ টাকা, আগামীতে এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার ইচ্ছাও রয়েছে। এ ছাড়াও উচ্চশিক্ষা যেমন মেডিকেলে, বুয়েটে চান্স পাওয়ার যদি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তখনও বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন তোমাদের পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। আমি আরও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। আসুন আমরা সবাই মিলে হাতে হাত রেখে কুষ্টিয়ার উন্নয়নে কাজ করি।’
পরে কুষ্টিয়া জেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৩ সালে কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলা থেকে বাছাইকৃত জিপি-৫ প্রাপ্ত ৫০ জনের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
সুমন/