ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মেছুয়া বাজার। প্রতিদিন এই বাজার সকাল থেকে রাত অবধি জমজমাট থাকে। এই সুযোগে যেকোনো সময় যৌক্তিক কারণ ছাড়াই দাম বাড়িয়ে দেন অসাধু বিক্রেতারা। এতে উচ্চবিত্ত আয়ের লোকজনের কিনতে সমস্যা না হলেও বিপাকে পড়েন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। তারা বাধ্য হয়ে বিক্রেতাদের নির্ধারিত দামেই কেনেন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকালে বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজির দাম কমেছে। তবে বেড়েছে মাছের দাম। যদিও মাছের সরবরাহের কমতি নেই। ক্রেতারা সবজি প্রয়োজন অনুযায়ী কিনলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেকে কম কিনছেন মাছ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে মাছের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে দুই কেজি ওজনের রুই ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ২৮০, কাতল ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ২৯০, আকারবেধে মৃগেল ২২০-২৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ২৩০-২৯০, পাবদা ২৬০-৩৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ২৭০-৩৭০, বাউশ ২৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২৮০, রাজপুঁটি ১৯০-২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ৩০০-২৬০, শিং ২৮০-৪৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ২৯০-৫৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া তেলাপিয়া ১৪০-২১০, সিলভার কার্প ১৮০-১৯০, পাঙাশ ১২০-১৮০, কই ২৭০-২৯০, ট্যাংরা ৩১০-৪০০, টাকি ৩৩০-৫০০ ও শোল ৪৬০-৫৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ কিনে বাজার থেকে চলে যাওয়ার সময় কথা হয় আব্দুল হেকিম নামের একজনের সঙ্গে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাজারে মাছের অভাব নেই। অথচ সরবরাহ কম বলে বিভিন্ন মাছের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। তাদের মনমতো দামেই তিন কেজি রুই কিনে বাড়ি ফিরছি।’
দাম বেশি রাখার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিক্রেতা আজিজ মিয়া বলেন, ‘ঈদের পরের দিন থেকে বাজারে মাছ কম আসছে। ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ বেড়ে গেলে দামও কমে আসবে বলে ধারণা করছি।’
এদিকে এই বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। গত সপ্তাহ শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৫০, খিরা ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৫০, কচুর লতি ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৭০, মটরশুঁটি ও ররবটি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ৮০ ও বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি লাউ ৭০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হলেও এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি হালি লেবু ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি কিনতে আসা ছামাদ মিয়া বলেন, ‘বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম কমেছে। এতে ক্রেতারা স্বস্তিতে রয়েছেন। তবে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন বিক্রেতারা। এতে বিপাকে পড়েন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।’ সবজি বিক্রেতা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমি সিন্ডিকেট করি না। বাজারে আশপাশের এলাকা থেকে প্রচুর সবজি আসছে। ফলে অনেক সবজির দাম কমেছে।’
এদিকে অপরিবর্তিত অবস্থায় ব্রয়লার মুরগি ২১০, সাদা কক ২৯০, লাল কক ৩০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, ‘ঈদের পর বাজারে এখনো অভিযান শুরু হয়নি। তবে বাজারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। জেলার বাজারগুলোতে কয়েক দিনের মধ্যে আবারও অভিযান শুরু করা হবে।’