খুলনায় জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্প মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। গ্যাসের বদলে বিদ্যুৎ ও ফার্নেস অয়েল ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তারা আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। এতে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোলা থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে গত মার্চে পাইপলাইনে খুলনার বদলে প্রথমে গ্যাস ঢাকায় নেওয়ার কথা জানায় পেট্রোবাংলা। ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দ্রুত খুলনায় গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়েছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে সচেতন নাগরিকদের সংগঠন খুলনা নাগরিক সমাজ। সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার।
তিনি বলেন, খুলনায় পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১২ সালে পেট্রোবাংলার অধীন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি ভেড়ামারা থেকে খুলনায় পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু করে। ওই প্রকল্পের আওতায় ভেড়ামারা থেকে খুলনার আড়ংঘাটা পর্যন্ত ১৬৫ কিলোমিটার পাইপ বসানোর পর কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি স্থগিত ঘোষণা করে।
এ প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হলেও কাউকে জবাবদিহির আওতায় আসতে হয়নি। পরবর্তী সময়ে ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্তে এ অঞ্চলের মানুষ পুনরায় আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু এ প্রকল্পের আওতায় ভোলা-বরিশাল সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বেশকিছু কাজ এগোনোর পর হঠাৎ গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে খুলনায় গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প স্থগিত করে বরিশাল-ঢাকা রুটে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়। এতে এ অঞ্চলের মানুষ হতাশ হয়।
তিনি বলেন, গ্যাস না থাকার কারণে এ অঞ্চলে শিল্প উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহ নেই। খুলনায় ন্যূনতম ইন্ডাস্ট্রিয়াল কানেকশনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করতে পারলে, বন্ধ কারখানাগুলোর যান্ত্রিক ট্রান্সফরমেশনের মাধ্যমে, গ্যাসের ব্যবহার উপযোগী করা হলে বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে।
নাগরিক নেতারা বলছেন, পেট্রোবাংলা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে প্রয়োজনে সর্বস্তরের নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বৃহৎ আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আ ফ ম মহসীনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের অন্যতম সদস্য এস এম দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক নিতাই পাল, গণসংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলা আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের, কবি সাংবাদিক শেখ আবু আসলাম বাবু প্রমুখ।