ঈদের ছুটি শেষে মানুষ বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ফিরতে শুরু করেছে। এতে শহরের প্রবেশদ্বারগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে গত শুক্র ও গতকাল শনিবার।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসিন্দা আবু তালেব বেলাল যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যানজটে নাকাল শাহ আমানত ব্রিজ এলাকা। নতুন ব্রিজ থেকে ৩০ মিনিটের পথ পার হলাম ১২০ মিনিটে। তাও মইজ্জ্যারটেক থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে না উঠলে হয়তো আরও ঘণ্টাখানেক সময় লাগত। এ জ্যাম শুধু টোলজনিত কারণে নয়, ব্রিজের দুই পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণেও হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মানুষ যেন স্বস্তিতে শহরে ফিরতে পারে, এ জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
একই চিত্র দেখা গেছে উত্তর চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি থেকে বন্দরনগরীর প্রবেশপথ অক্সিজেন মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বোয়ালখালী এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের একাংশের যাতায়াতের পথ কালুরঘাট ব্রিজ এলাকা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিটি গেট এলাকায়।
শহরের অন্যতম প্রবেশপথ এ কে খান ও অলংকার মোড় ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জেলা থেকে একের পর এক বাস এসে থামছে। লাগেজ ও ব্যাগ নিয়ে যাত্রীরা নামছেন। বাসায় পৌঁছাতে একই জায়গায় ভিড় করছে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাও। কেউ কেউ বাসে করেও নির্ধারিত গন্তব্যে যাচ্ছেন। এ কারণে সেখানে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা দেখা গেছে।
বরিশাল থেকে নগরীতে আসা আমজাদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের কোনো তাড়াহুড়ো নেই। আমরা এক দিন আগে চট্টগ্রামে চলে এসেছি। সড়কে যানজট দেখা গেছে। দুর্ঘটনাও ঘটছে। যে কারণে ভয়ও কাজ করছিল।’
নগরীর গরীবুল্লাহ শাহ এলাকার বাস কাউন্টারের বিভিন্ন ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘এবারের ঈদ ভ্রমণে তেমন অসংগতিপূর্ণ কিছু ঘটেনি। গত বুধবার থেকেই মানুষ চট্টগ্রামে ফিরতে শুরু করেছে। যেহেতু কয়েক দিন ধরেই মানুষ শহরে ফিরছে, তাই টিকিট নিয়েও কোনো ঝামেলা হয়নি।’
চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান খবরের কাগজকে বলেন, ‘শহরের প্রবেশদ্বারগুলোতে যানজট রয়েছে। তবে মহাসড়কে তেমন কোনো সমস্যা নেই। মানুষ ঈদের আগে যেমন নিরাপদে বাড়ি গিয়েছিল, তেমনি ঈদ উদযাপন করে নিরাপদে শহরে ফিরছে। কয়েকটি ছোট ঘটনা বাদে বাকি সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।’
সিএমপির (চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ) ডিসি ট্রাফিক (পশ্চিম) নিস্কৃতি চাকমা খবরের কাগজকে বলেন, ‘মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় শহরের ব্যস্থতা বাড়ছে। তবে শহরকে সচল রাখার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’