কুড়িগ্রামে দুই বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তিকে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩৭ জনকে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি/পদায়ন করা হয়।
সেই তালিকায় জামাল উদ্দীন ১৩ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছেন।
তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তাকে জেলার রাজারহাটের সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম জলা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা।
এ বিষয়ে রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ টি এম শওকত আকবর বলেন, ‘গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর কলেজ অধ্যক্ষ আ ন ম আজিজুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। মাউশিতে অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়েছে। অধ্যক্ষ নিয়োগ হলে আমি আগের পদে বহাল থাকব। গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে মৃত ব্যক্তির পদায়নের বিষয়টি শুনছি। সেভাবে আমার জানা নেই।’
জামাল উদ্দীনের স্ত্রী তাহমিনা শবনম খবরের কাগজকে বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী বাহিনীর রাম দা’র কোপে আমার স্বামী বাম হাত ও পিঠে আঘাত পান। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলে। এ ছাড়া তিনি হার্টের রোগী ছিলেন। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল মারা যান। ২০২৩ সালের মে মাসের দিকে সরকারি গোয়েন্দা শাখার লোকজন আমার কাছে তার পদায়নের বিষয়ে যোগাযোগ করলে আমি জানিয়েছিলাম, আমার স্বামী মারা গেছেন। এ ছাড়া আমি স্বামীর পেনশনের টাকাও উঠিয়েছি। এতো দিন পর মাউশি তাকে পদায়ন করল। পদায়ন হলে তার অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। হয়তো ভুল হতে পারে।’
অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল উদ্দীনের বাড়ি কুমিল্লায়। একাধিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। ৫৩ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, এতে মন্ত্রণালয়ের ভুল থাকতে পারে।
সিরাজ/পপি/