রাতেও চলছে সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপকূলের সুন্দরবনসংলগ্ন চুনকুড়ি নদীর বাঁধের কাজ। তীব্র ভাঙনে বাঁধ নদীগর্ভে ধসে গিয়ে আর মাত্র কয়েক ইঞ্চি অবশিষ্ট আছে, যা আটকে রেখেছে পানি। তবে স্থানীয়রা জানান, অমাবস্যায় দিনের জোয়ার থেকে রাতের জোয়ারে নদীর পানি বেশি বাড়ে। রাতের এই জোয়ারে কী হবে, সেই ভয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে ভাঙনকবলিত বাঁধ মেরামতের আর কোনো সম্ভাবনা অবশিষ্ট না থাকায় রিং বাঁধ দিয়ে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে সেটি খুবই ধীরগতিতে চলছে।
ধসে যাওয়া বাঁধের পাশে বসবাসকারী জগদীশ মন্ডল বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ আগে আমার বাড়ির সামনের বাঁধের এই অংশে ফাটল দেখা দেয়। কিন্তু শুরু থেকে কোনো ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাতে আকস্মিকভাবে ৬০ থেকে ৭০ ফুট জায়গা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দিনের জোয়ার ছাড়া রাতের জোয়ারে এক থেকে দেড় ফুট পানি বৃদ্ধি পাবে নদীতে। সে সময় কী হবে ভগবান জানেন। পর্যাপ্ত পরিমাণ জিও ব্যাগ ডাম্পিং না করার ফলে ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না।’
এ সময় তিনি এ দায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপর চাপান।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সাতক্ষীরা-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দীন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ সংস্কারের কাজ চলমান। তবে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করায় রিং বাঁধের কাজ শুরু করা হয়েছে।’
সুলতান শাহাজান/সুমন/