ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন-সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং নায়িকা ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন বাশার তার স্বামী নন ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের সাহিত্যের খেলা প্রবন্ধর ৪০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির সুযোগ সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেল না মিশর ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট জর্ডান ম্যাচে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্কালোনির লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ পোড়া ক্ষত সারাতে তেলাপিয়া মাছের চামড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা পেলেন পেশাদার চালকের সনদ

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন সংকটে ব্যাহত সেবা

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৫, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ১৩ মে ২০২৫, ০৯:২২ এএম
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন সংকটে ব্যাহত সেবা
যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ভর্তি রোগীরা। সোমবার (১২ মে) তোলা। খবরের কাগজ

যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল ও উপকরণ সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অর্থোপেডিক, সার্জারি, কার্ডিও, চক্ষু বিশেষজ্ঞসহ গুরুত্বপূর্ণ ১০টি চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া ২২টি পদে নেই স্বাস্থ্য সহকারী। চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পাওয়া যাচ্ছে না। কমপ্লেক্সের ২০৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৬৮টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, যশোর-সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় আশপাশের উপজেলার রোগীরাও এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও মূলত ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে এর কার্যক্রম চলছে। কমপ্লেক্সে একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), অর্থোপেডিক, কার্ডিও, চক্ষু, চর্ম ও যৌন পদসহ চিকিৎসকদের ২১ পদের মধ্যে ১০টিই শূন্য রয়েছে। নেই নার্সিং সুপারভাইজার ও প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক। 

অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিকের ৩টি পদই শূন্য। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিও), স্টোরকিপার, সহকারী নার্স, কার্ডিওগ্রাফার ও কম্পাউন্ডার নেই। স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৩৯টি পদের মধ্যে ২২টিই শূন্য। দীর্ঘদিন চালক ও জুনিয়র ম্যাকানিকের পদ শূন্য থাকায় রোগীরা অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এ ছাড়া উন্নয়ন খাতভুক্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের ২৯টি পদের মধ্যে দুটি পদ শূন্য। তৃতীয় শ্রেণির ৭৮টি পদের মধ্যে ৩৬টি পদ শূন্য। এ ছাড়া চতুর্থ শ্রেণির নিরাপত্তা কর্মী, এমএলএসএস, মালী, ওয়ার্ড বয়, কুক, আয়া, ঝাড়ুদারসহ ২২ পদের ১২টিই শূন্য। 

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগী, তাদের স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা নানা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। কেশবপুরবাসী ছাড়াও যশোরের মনিরামপুর, সাতক্ষীরার কলারোয়া ও তালা উপজেলা থেকেও রোগী আসেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য রোগীদের দীর্ঘ লাইন দিতে হয়। শয্যা সংকুলান না হওয়ায় ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায় বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসা নিতে হয়। 

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহিরাঙ্গন আবর্জনায় ভরে থাকে। হাসপাতাল চত্বরে থাকা গভীর নলকূপটি নষ্ট। জেনারেটর থাকলেও তেলের অভাবে সেটি চালু করা হয় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের অন্ধকারে থাকতে হয়। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন না থাকায় এখন আর কেউ হাসপাতালে এক্স-রে করতে আসেন না।

কথা হয় সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের সোহেলী আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কেশবপুর সরকারি হাসপাতালটি আমাদের কাছে হয়। এ জন্য কলারোয়া না গিয়ে এখানে আসি। সকাল ১০টায় এসে দুপুর সাড়ে ১২টায় ডাক্তার দেখাতে পেরেছি। ডাক্তার রক্তের পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে নার্স দেখে বলেছেন, এই পরীক্ষা এখানে হয় না। যে পরীক্ষা আমি হাসপাতালে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় করাতে পারতাম সেটা আমাকে বাইরে থেকে ৮০০ টাকায় করাতে হয়েছে।’ 

কেশবপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেই বললেই চলে দাবি করে স্থানীয় হাসপাতাল পাড়ার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা মারামারিতে সামান্য আহত হয়ে হাসপাতালে এলেও রোগীকে জেলা সদর বা খুলনায় রেফার করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসক নেই, জনবলও নেই। কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও এখানে সব সময় বেশি রোগী ভর্তি থাকে। এতে শয্যার অভাবে অধিকাংশকেই মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়।’

শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কেশবপুরের পাঁজিয়া গ্রামের আবদুল কাদের বলেন, ‘শৌচাগারের দরজা খুললেই দুর্গন্ধ বের হয়।’ বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়া কেশবপুরের জাহানপুর গ্রামের আবদুল গণি বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্যান-বাতি বন্ধ হয়ে যায়, তখন খুবই কষ্ট হয়।’ আরেক রোগী মজিবর রহমান বলেছেন, ‘হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। নলকূপটি নষ্ট। দূর থেকে পানি আনতে হয়।’ 

জনবল ও উপকরণ সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে গড়ে প্রতিদিন ৩৫০ এর বেশি এবং জরুরি বিভাগে ৪০ জন সেবা নেন। এ ছাড়া ৯০ এর বেশি রোগী ভর্তি থাকনে। 

তিনি বলেন, ‘দেড় বছর ধরে অ্যাম্বুলেন্সের চালক নেই। আমার গাড়ির চালক দিয়ে জরুরি প্রয়োজন মেটানো হয়। জেনারেটর আছে কিন্তু তেলের বরাদ্দ না থাকায় সেটি চালানো যায় না। গভীর নলকূপটিতে এক বছর ধরে পানি উঠছে না। অন্যদিকে ছয়জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিপরীতে মাত্র দুজন কর্মরত আছেন। তাদের দিয়ে পুরো হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন। এসব বিষয় ও জনবল সংকটের কথা আগেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছি। আবারও জানাব।’

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট
সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ। ইনসেটে উদ্ধার আইডি কার্ড। ছবি : খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের রিয়াদ কবিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী বাদি হয়ে মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের ইকবাল কবিরের ছেলে রিয়াদ কবিরের বাড়িতে একই এলাকার পিয়ার হোসেন,  মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন (৪৮), লিটন হোসেন, ফর্মা হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন নিয়ে হামলা করে। 

এসময় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরকে মারধর করে। এক পর্যায়ে বাড়ীতে মাদক রয়েছে বলে আমার ঘরবাড়ির আসবাবপত্র তল্লাশি করে। আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে মামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময়  তাদের একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়। আইডি কার্ডে অজয় কুমার জয়, পদবী-সেপয়, ডিপার্টমেন্ট অফ নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ, আইডি নং- ৪৯১৩২৫, জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৪২১৮৯৫৩৪৮৯ পাওয়া যায়।

ফেলে যাওয়া আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য শরীফ হোসেন নামের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সিপাহি পরিচয়ে আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে।

এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি শরীফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আইডি কার্ড ফেরতের জন্য কাউকে ফোন দেননি বলে দাবি করেন। তবে অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। 

ব্যবসায়ী রিয়াদ কবির জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে এলাকার একটি চক্র পুলিশের সোর্সের মাধ্যমে তার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য বাড়িতে হামলা করে। মাদক উদ্ধারের নামে আসবাবপত্র তছনছ করে। হামলাকারীরা নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযুক্ত পিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তিনদিন ধরে ওই এলাকায় তিনি যান না। কেউ তাকে দেখছেন প্রমাণ দিতে পারবে না। তবে শুনেছি প্রশাসনের লোকজনকে রিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করেছে। 

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে হয়রানি মারাক্তক অপরাধ। আসল ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এসএন/

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩ কোটি ৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৪৬৮ টাকা ২৩ পয়সা প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন। 

একই সাথে অর্থবছরের রাজস্ব আয় ১৬ কোটি ৫৮ লক্ষ ২১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা, রাজস্ব ব্যয়: ১৩ কোটি ২০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, উদ্বৃত্ত ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ ৯১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা। আর উন্নয়ন খাতে মোট উন্নয়ন আয় ২৬ কোটি ৫১ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা। মোট উন্নয়ন ব্যয় ২৩ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। উদ্বৃত্ত ২ কোটি ৯৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই উন্মুক্ত বাজেট উপস্থাপন করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম।

উন্মুক্ত বাজেটে উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এবারের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি।

বাজেট ঘোষণাকালে পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম  বলেন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাস্তাঘাট, ড্রেন, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়নে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। কোনো ধরনের নতুন কর চাপানো হয়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর সহকারী প্রকৌশলী এইচ. এম. কামরুজ্জামান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জেবিন সুলতানা, হিসাব রক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন, কার্য সহকারী মোহাম্মদ আব্দুল আহাদসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।

লিটন সরকার বাদল/এসএন

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা
তিস্তার পানি। ছবি: খবরের কাগজ

উজানের ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে তিস্তার ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে দুপুর ১২টায় তা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে নেমে গেলেও বিকেলের দিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহ রেকর্ড করা হয়।

গত কয়েকদিন ধরেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করছে। পানির এমন বাড়া-কমায় নদীর তীরবর্তী মানুষজনের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তার ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।

তবে বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারপরও পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাউবো বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যে-কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, তিস্তার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বকুল/নাঈম

টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া সেন্টমার্টিন কেয়ারি ঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে গেলে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া বিজিবি চেকপোস্ট সংলগ্ন কেয়ারি ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত মিনিবাসটি পায়রা সার্ভিস এর, যার নিবন্ধন নম্বর কক্সবাজার জ-১১-০২৩২।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা মিনিবাসটি সেন্টমার্টিনগামী দমদমিয়া কেয়ারি ঘাট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা অন্তত ৮ থেকে ১০ জন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, কোস্টগার্ড, বিজিবি সদস্য এবং টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শাহেদ নামে গুরুতর আহত এক যাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. আয়ুব জানান, মিনিবাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। একটি বাঁক অতিক্রম করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সোজা ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। ওই সময় বাসটিতে প্রায় ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন গুরুতর আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই কোস্টগার্ড, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার জামিম মিয়া বলেন, বাস দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে বাসে আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

মোঃ শাহীন, টেকনাফ।

আখাউড়ায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
আখাউড়ায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’
ছবি: খবরের কাগজ

ফলের মৌসুমের রঙিন আবহে কৃষির নতুন সম্ভাবনা ও টেকসই উন্নয়নের বার্তা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পার্টনার কংগ্রেস’।

 কৃষিকে আরও লাভজনক, নিরাপদ ও বাণিজ্যিক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, কৃষক, উদ্যোক্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় কংগ্রেসটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন। সভাপতিত্ব করেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. এমরান হোসেন ভূঁইয়া, , উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান, কৃষক প্রতিনিধি মো. মুর্শেদ আলম ও মৌসুমী আক্তার।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যনিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার বিকল্প নেই। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, কৃষক পার্টনার স্কুল পরিচালনা, জৈব ও অর্গানিক বালাইনাশক ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান, সঠিক মাত্রায় সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর আগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ফল মেলার উদ্বোধন করেন অতিথিরা। মৌসুমি ফলের সমাহারে সাজানো মেলায় স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত নানা ফল প্রদর্শিত হয়। কৃষির সম্ভাবনা ও পুষ্টি সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে মেলাটি দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করে।

জুটন বনিক/এসএন