২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মহিলা কলেজ-সংলগ্ন এলাকায় ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার ব্রিজের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হয়েছে আরও চার মাস আগে। এখন পর্যন্ত ব্রিজের কাজ হয়েছে মাত্র ৪২ শতাংশ! ঠিকাদারও লাপাত্তা। এতে চার ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সামনে বর্ষার মৌসুম। সেতুর এক পাশে পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ রেখে সাময়িক চলাচলের রাস্তা করা হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হলে উজান থেকে পানি এলে বিস্তীর্ণ বোরো ফসলের হাজারো হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাবে। তখন নির্মাণকাজ করা সম্ভব হবে না। এভাবে চললে আরও একটি শুষ্ক মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই সেতু বানানোর জন্য আগের পুরোনো সেতু ভাঙা হয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে ভাঙা সেতুর সরঞ্জাম বিক্রির কথা থাকলেও তা না করে রাতের আঁধারে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারা অভিযোগের প্রমাণও পায়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুন মাসে তাড়াশ-কাটাগাড়ি জিসি সড়কের উত্তর ওয়াপদা বাঁধ-সংলগ্ন এলাকায় ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। নওগাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইথেন এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড অ্যান্ড ডন এন্টারপ্রাইজ (জেভি) কাজটি পায়। কিন্তু কাজটি না করে নাটোরের বাগাতিপাড়ার ঠিকাদার মো. ওয়াহিদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে দেয়।
গত বছরের (২০২৪) জানুয়ারি মাসে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে। ঠিকাদার এত দিনে কোনোমতে পাইলিংয়ের কাজ শেষ করেছেন। কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ। তিন মাস ধরে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে লাপাত্তা হন। এরপর এলজিইডির পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কয়েকবার কাজ শেষ করতে তাগাদা দেওয়া হলেও ঠিকাদার কর্ণপাত করেননি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ওই সড়ক দিয়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলার মালশিন গ্রামের আবদুল আজিজ বলেন, ‘কাটাগাড়ি সড়ক দিয়ে হালকা-ভারী অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ওই রাস্তাটির দুই পাশ বেশ উঁচু, মাঝখানে নিচু। এ রাস্তায় একসঙ্গে দুটি ভ্যান চালানো যায় না। ব্রিজের কাজ বন্ধ থাকায় চরম বিপদে পড়েছি। কাজ কবে শেষ হবে তা কেউ বলতে পারছে না।’
লোকমান হোসেন নামে স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘পানি প্রবাহের একমাত্র ব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ। ব্রিজের উজানে আবাদি জমি রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষকরা চরম ক্ষতির মধ্যে পড়তে পারেন।’
এ ব্যাপারে ঠিকাদার ওয়াহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাড়াশ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, ‘কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। তারপরও ঠিকাদার কাজ শুরু করছেন না। ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’