ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে নড়াইলের পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাক-ডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে পশুর হাট ও আশপাশের এলাকা।
জেলায় ৯টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পশুর হাট হচ্ছে মাইজপাড়া পশুর হাট। এই হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন। এখান থেকে গরু কিনে নিয়ে যান বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করার জন্য। হাটগুলোতে ছোট বড় বিভিন্ন আকারের গরু রয়েছে। তবে এ বছর কোরবানির জন্য মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি বলে জানা গেছে।
আশিকুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, কোরবানির জন্য হাটে গরু কিনতে এসছি। ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। আরেক ক্রেতা গোলাম রাব্বানী বলেন, গরু কেনার জন্য হাটে এসেছি। গরু দেখছি, পছন্দ হলে কিনব। তবে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।
গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, আমি ২০ বছর ধরে নড়াইলের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকি।
সাহেব আলী নামে একজন বলেন, ‘নড়াইলে পশুর হাটগুলোতে যেসব গরু উঠেছে তার বেশির ভাগই দেশি জাতের। যার কারণে অন্য জেলায় এসব গরুর চাহিদা বেশি।’ মাইজপাড়া পশুর হাটের ইজারাদার এস এম শামসুজ্জামান খোকন বলেন, ‘আশপাশের যেসব জেলা রয়েছে তার মধ্যে মাইজপাড়া হাট সবচেয়ে বড়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, মাদারীপুর, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে গরু কিনে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করে থাকে। পাশাপাশি আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য অনলাইনে যাতে তারা লেনদেন করতে পারেন সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সাড়ে ৪ হাজার খামারি রয়েছেন। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে খামারিরা ৫৪ হাজার ৫৮৫টি গরু ও ছাগল মোটা-তাজা করেছেন। এর মধ্যে ২৩ হাজার ২৩৩টি গরু ও ৩১ হাজার ৩০৭টি ছাগল রয়েছে। জেলায় কোরবানির জন্য ৪০ হাজার ৫১৬টি পশুর চাহিদা রয়েছে। উদ্বৃত্ত ১৪ হাজার ৬৯টি পশু দেশের বিভিন্ন হাটে বিক্রি হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আসন্ন কোরবানি সামনে রেখে নড়াইলের খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটা-তাজাকরণ করে থাকে। যার কারণে নড়াইলের খামারিদের উৎপাদিত পশুর চাহিদা রয়েছে অন্য জেলায়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে ২০-২৫ ভাগ গরু-ছাগল রাজধানী ঢাকাসহ অন্য জেলার চাহিদা পূরণ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলার ৯টি পশুর হাটে ৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। যাতে কোনো পশু অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। পাশাপাশি কেউ যাতে অসুস্থ পশু বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে তদারকি থাকবে।’