নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে সোহেল রানা (৩০) ও মাহামুদ হাসান রকি (২৬) নামে ভিসা প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের খোর্দ্দ বোতলাগাড়ী হাজীপাড়ায় মৃত মোনাফ আলী সরকারের (মোনাফ ডাকাত) বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
আটক সোহেল রানা নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় সংগলশী ইউনিয়নের বেড়াকুটি গ্রামের মাঝাপাড়ার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ভিসা প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এ অভিযানকালে সেখান থেকে কৌশলে মাহামুদ হাসান রকি (২৬) নামে তার এক সহযোগী পালিয়ে গেলেও পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তল্লাশি চালিয়ে রুম থেকে ২ টি বড় সাইজের ছোড়া, ২ টি চাকু, সেনাবাহিনীর পোষাক তৈরির আনুমানিক ১০ গজ কাপড়, একটি এসার ল্যাপটপ, ১৩ টি এন্ড্রয়েড ও ৪ টি বাটন মোবাইল ফোনসেট, ১০ টি সীম, মাহমুদ হাসান রকিরসহ ২ টি পাসপোর্ট এবং শুধু স্বাক্ষর করা ২ টি ১০০ টাকা ও ৭ টি ৫০ টাকা মূল্যের ফাঁকা নন জুডিশিয়াল স্টাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও সোহেল রানার ব্যবহৃত লাইসেন্সবিহীন কালো রংয়ের সুজুকি আর ওয়ান ফাইভ মোটর সাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
সোহেল রানা নিজেকে জিয়া মঞ্চের নীলফামারী জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, 'মাহামুদ হাসান রকির কাছে টাকা পাই। তাই রাতে তার বাড়িতে গেছিলাম। এমন সময় সেনাবাহিনী উপস্থিত হলে রকি পালিয়ে যায় আর আমাকে আটক করে। উদ্ধারকৃত জিনিসপত্র আমার নয়।'
নীলফামারী সেনা ক্যাম্পের মেজর জোবায়ের বিন জহিরের নেতৃত্বে সৈয়দপুর থানা পুলিশ এ অভিযানে সহযোগিতা করে।
মেজর জোবায়ের বিন জহির বলেন, সোহেল রানা থাই জুয়া ও ভিসা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তাকে দীর্ঘদিন থেকেই আটকের চেষ্টা চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়েই মোনাফ আলী সরকারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
জিয়া মঞ্চ নীলফামারী জেলা কমিটির আহ্বায়ক গোলাম শামীম বলেন, আমাদের এখনও পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। আর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়না। সোহেল রানা নামে কেউ আমাদের সদস্যও নাই। কেউ যদি নিয়ে নিজেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে থাকে তা ঠিক নয়। আর সে যদি কোন অপকর্ম করে সেটা তার ব্যক্তিগত। সংগঠন কখনই দায়ী হবে না।
সোনারায় সংগলশী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার বজলুল করিম পাখি বলেন, 'আটক সোহেল রানার বাবা আখতারুজ্জামান কয়েক বছর আগেও আমার বাড়িতে কাজ করে খেতো। এখন তাদের হঠাৎ করে অনেক টাকা হয়েছে। কিভাবে হয়েছে তা জানিনা তবে অবশ্যই অবৈধ পথেই এতো অল্প সময়ে এতো অর্থ সম্পদ হওয়া সম্ভব।'
ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক শাহ বলেন, 'বিষয়টা শুনেছি। আটক সোহেল থাই বা ভিসার সঙ্গে জড়িত কিনা তা জানিনা। তবে সেনাবাহিনী যে কারণে ধরেছে তা সঠিক হলে উপযুক্ত বিচার চাই।'
বিষয়টি নিশ্চিত করে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফইম উদ্দীন বলেন, 'আটক ভিসা প্রতারক সোহেল গরীব ও নিরীহ মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ধরনের অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, মোনাফ আলী সরকার ছিলেন আন্ত:জেলা ডাকাত সর্দার ও মাদক সম্রাট। তার ছেলে মাহামুদ হাসান রকিও মাদক ব্যবসা ও ভিসা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত একাধিক মামলাও হয়েছে। আটক সোহেল রানা ওই চক্রের হোতা।
মেহেদী/